ঢাকা, সোমবার 23 October 2017, ৮ কার্তিক ১৪২8, ২ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আ’লীগ আরো ক্ষমতায় থাকলে দেশের স্থলপথের নিশানা থাকবে কিনা সন্দেহ

গতকাল রোববার পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: দেশে উন্নয়ন জোয়ার সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের দেয়া বক্তব্যকে ‘আকস্মিক আসমানী’ বক্তব্য বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল রোববার দুপুরে দলের নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জয়ের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি একথা বলেন। রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা বলেছেন, উন্নয়নের জোয়ারে দেখেন দেশ কোথায় চলে গেছে। আজ আমরা বিশ্বের এক বিস্ময়। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মন্ত্রীদের লাগামহীন বক্তব্য দিতে জুড়ি নেই। মনে হয় যেন আকস্মিকভাবে আসমানী বক্তব্য রাখছেন। যার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। জয়ের কথা মতে, আগামী ১০/১৫ বছর যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকে তাহলে দেশের স্থলপথের নিশানা থাকবে কিনা সন্দেহ আছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া, আতাউর রহমান ঢালী, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আজিজুল বারী হেলাল, মীর সরফত আলী সপু, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী বলেন, জয় যে সময়ে উন্নয়নের জোয়ারের কথা বললেন সে সময়ে মানুষ উন্নয়নের জোয়ারে ঢাকা শহরে হাবুডুবু খাচ্ছে দুইদিনের শ্রাবনের ধারার মতো অবিরাম বৃষ্টিতে। ঢাকা তলিয়ে গিয়ে সেখানে এখন ফায়ার সার্ভিসের নৌযান চলছে, অলি-গলির সড়কগুলো যেন নালা-খালে পরিণত হয়েছে। দুইদিনের স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েসহ অফিসগামীরা পানিতে ডুবে কিভাবে হাবুডুবু খাচ্ছে তা মানুষ বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখছে। আমার মনে এই বিস্ময়ের কথাই বোধহয় বলতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তনয়।
শনিবার সাভারে শেখ হাসিনা যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবার টানা আটবছর ক্ষমতায়। সর্বমোট (স্বাধীনতার পর) ১৬ বছর। আওয়ামী লীগ কেবল আট বছর ক্ষমতায়, তাতেই দেশের কী পরিমাণ উন্নতি, দেখুন। আওয়ামী লীগ আরো ১০/১৫ বছর ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হবে।
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, সারাদেশের সড়ক-মহাসড়কগুলো খানা-খন্দ আর বৃষ্টির পানিতে একাকার হয়ে গেছে। যানজট ও জলজটে মহাসড়কগুলোতে মানুষের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। আওয়ামী লীগের শাসনামলের গত ৯ বছরে দেশের ৯০ ভাগ মহাসড়ক-ব্রিজ-কালবার্ট ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। আগামী ১০/১৫ বছর যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকে তাহলে দেশের স্থলপথের নিশানা থাকবে কিনা সন্দেহ আছে। দেশে তখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে। অর্থাৎ যে ধারায় তারা (সরকার) এখন পর্য়ন্ত এই জায়গায় নিয়ে এসেছে, তাদের যে রঙিন খোয়াব ১০/১৫ বছর পরে কী অবস্থা হবে? তা ১০০/২০০ বছর প্রতœতত্ত্ববিদরা সেটা খুঁড়ে খুঁড়ে হয়ত নিশানা বের করতে পারবেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তনয় হয়ত জানেন না যে, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে। বাংলাদেশে দারিদ্র্য হ্রাসের হার যেটা আগে বাড়ছিলো, সেটার কী অবস্থা। যার কারণে চালের কেজি এখন ৭০ টাকা। এই মওসুমে সবসময় ৮/১০ লাখ টন খাদ্য মজুদ থাকতো সেখানে এখন দুই থেকে আড়াই লক্ষ টন মজুদ রয়েছে। রিজভী বলেন, উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তা-ঘাট, অবকাঠামোর উন্নয়ন নয়। উন্নয়ন হচ্ছে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশ ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা। সন্ত্রাস-দখল-মহাদুর্নীতি নির্ভর বর্তমান সরকারের শাসন আইনের শাসনকে মহাশূন্যে পাঠিয়ে দিয়েছে। সেটি যাতে ফিরে না আসে সুপ্রিম কোর্টের ওপর আওয়ামী লীগের দুঃশাসন আঘাত প্রসারিত হয়েছে। সংবিধানের অভিভাবক সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতিকে কিভাবে হেনস্তা করা হয়েছে তা দেশবাসীই নয় বিশ্ববাসী বিস্ময়ের সঙ্গে তাকিয়ে দেখছে।
নির্বাচন কমিশনের সাথে  বৈঠকের পর বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার রঙিন স্বপ্ন দেখছে- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এহেন বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, তাহলে আগামী জাতীয় সংসদের নির্বাচনকে দুর্বোধ্য ধাঁধায় ফেলতে এর চাবিকাঠি কী ওবায়দুল কাদেররা নিজেদের হাতে রেখেছেন। দখল-দুর্নীতি-গুম-অপহরণসহ হরণের নীতি গ্রহণ করে আবারো ক্ষমতায় যাওয়ার দিবাস্বপ্ন বাস্তবায়ন করতেই আপনারা অর্থাৎ ওবায়দুল কাদেররা নির্বাচন কমিশনকে আওয়ামী মার্কা নির্বাচন করার প্রচেষ্টায় মশগুল আছে। আপনার বক্তব্যেই প্রমাণিত হয় নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করার নীলনকশা আঁটছেন। কারণ প্রধান নির্বাচন কমিশনার একটি ঐতিহাসিক সত্য উচ্চারণ করতেই আপনারা বিচলিত হয়ে পড়েছেন।
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে ক্ষমতাসীনদের জড়িত থাকার ঘটনা তুলে সরকার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ভেঙে ফেলার চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ