ঢাকা, সোমবার 23 October 2017, ৮ কার্তিক ১৪২8, ২ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কেন্দ্রে কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণের সুযোগ ও প্রশিক্ষণ দেয়ার দাবি

স্টাফ রিপোর্টার: রাজনীতির সঙ্গে জড়িতরা যাতে নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করতে না পারে সে বিষয়ে পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর  প্রতিনিধিদের সতর্ক থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। পর্যবেক্ষকরা রাজনীতির সাথে জড়িত নয় বলে ইসিকে জানিয়েছে পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিরা। তারা নির্বাচনের কেন্দ্রে কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেয়ার দাবি জানান। এ জন্য প্রয়োজনীয় আইডি কার্ডসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি আগেই সরবরাহ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন।  
গতকাল রোববার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সাথে পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থার অন্তত ২৮ জন প্রতিনিধি এই আলোচনায় অংশ নেন। সিইসির সভাপতিত্বে চলা সংলাপে অন্য ৪জন কমিশনারসহ ইসি সচিব উপস্থিত ছিলেন।
সংলাপে সূচনা বক্তব্যে পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশ্যে সিইসি কেএম নূরুল হুদা বলেন, রাজনৈতিক কোনো ব্যক্তি যেন নির্বাচন পযবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ না পায়, সে বিষয়ে আপনাদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। অন্যথায় পর্যবেক্ষণের আসল উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে।
তিনি পর্যবেক্ষকদের ‘পক্ষপাতহীন ও নিরপেক্ষভাবে’ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান এবং তাদের দায়িত্ব পালনকালে সামগ্রিকভাবে ভোট কার্যক্রম যেন বাধাগ্রস্ত না হয়- সে দিকে লক্ষ্য রাখতে অনুরোধ করেন। সিইসি বলেন, আমরা আপনাদের পরামর্শ নিচ্ছি। যাদেরকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে মাঠে পাঠাবেন, তাদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেবেন বলে আশা করি।
তবে সংলাপে নির্বাচনের সময় বিভিন্ন দলের হয়ে পর্যবেক্ষকদের কাজ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে কয়েকটি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা। তারা বলেন, আমরা এমন সব সদস্য নির্বাচন করি যারা কোন ভাবেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তাছাড়া পর্যবেক্ষণ নীতিমালা অনুযায়ী তারা শপথও নেন, যাতে করে কোন দলের প্রতি বিশেষ আনুগত্য বা পক্ষপাতিত্ব প্রকাশ না করেন। সুতরাং এবিষয়ে সিইসির অনুরোধ আমরা পালনের চেষ্টা করছি এবং ভবিষ্যতে করবো। প্রায় সকলেই পর্যবেক্ষকদের প্রশিক্ষণের (টিওটি) ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান ইসিকে।
সভা শেষে জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, প্রশিক্ষণ যথাযথভাবে না নিয়ে মাঠে গিয়ে নানান রকমের আনাড়িপনার বহিপ্রকাশ ঘটে। এর পুনারাবৃত্তি ভবিষ্যতে দেখতে চাই না। সে কারণে আমি সুনির্দিষ্টভাবে প্রস্তাব দিয়েছি ইলেকট্রোরাল ট্রেনিং ইন্সস্টিটিউটের মাধ্যমে ট্রেনিং অব ট্রেইনারের আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে পর্যবেক্ষকদের প্রধানদের ডেকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। পর্যবেক্ষণের সময় কী করা যাবে, আর কী করা যাবে না আর কতক্ষণ করা যাবে সেটা যদি হাতে কলমে বুঝিয়ে দেয়া হয় তাহলে ভাল হবে। পর্যবেক্ষকদের দলের হয়ে কাজ করার বিষয়ে তিনি বলেন, এই অভিযোগের মাধ্যমে আত্মসমালোচনা করার সুযোগ রয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের বদলে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি সম্ভব না। কারণ মানুষের বদলে রোবট দিয়ে কাজ করার মত পরিস্থিতি  দেশে নেই।
ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের পরিচালক আবদুল  আলিম বলেন, পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে যে ধরনের চ্যালেঞ্জগুলো আসে সেইগুলো আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। নির্বাচনের আগের দিন আমাদের পরিচয়পত্র দেয়া হয়। আমরা আরেকটু আগে কার্ড দেয়ার জন্য বলেছি। এছাড়া কেন্দ্রে স্বল্প সময়ে থাকার জন্য বলা হয়। এই স্বল্প সময়টা কতটুকু না নির্ধারণ করতে বলেছি। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পর্যবেক্ষকদের পার্টশিপ গড়ারও তাগিদ দিয়েছি। ইসির ইলেকট্রোরাল ট্রেনিং ইন্সস্টিটিউটের মাধ্যমে প্রধান নির্বাহীদের প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা বলেছি।
দলের পক্ষ হয়ে পর্যবেক্ষকদের কাজ করার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,  ইসির একটি গাইডলাইন আছে। আমি যতটুকু জানি বাংলাদেশের ইতিহাসে নির্বাচন কমিশন কোনো পর্যবেক্ষককে এই বিধি লঙ্ঘন করার জন্য কখনও কাউকে বরখাস্ত করেনি। এমন কোনো নজির আমার জানা মতে নেই।  ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের একটি কোড অব কন্ডাক্ট আছে। সেটা আমরা শক্তভাবে মেনে চলি।
তিনি বলেন, ভোটার তালিকা নিয়ে আমি দুটি পরামর্শ দিয়েছি। ভোটার তালিকা প্রকাশ করার আগে একটি তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে স্বাধীনভাবে অডিট করা। আর ভোটার তালিকা একেক বছর একেক সময়ে শুরু না করে একটি নির্দিষ্ট দিনে হালনাগাদের কাজ শুরু করা। আর ওই দিনটিকে জাতীয় ভোটার দিবস ঘোষণা করা। তিনি বলেন, পর্যবেক্ষকরা কারো পক্ষ নিয়ে কাজ করেন না।
ফেমার প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান  বলেন, বর্তমান পর্যবেক্ষক নীতিমালা অনুযায়ী ২৫ বছরের নিচে কেউ পর্যবেক্ষক হতে পারবে না। আমি তাদের বলেছি এটি ২৫ থেকে ২০ বছর করা হোক। কারণ আমাদের পর্যবেক্ষকদের আরেকটু  যুবক, আরেকটু একটিভ লোক থাকলে ভাল হয়। তবে ইভিএম নিয়ে এখনো বিতর্ক থাকায় আমরা নির্বাচন থেকে এটিকে বাদ দেবার পরামর্শ দিয়েছি। সেই সাথে স্থাণীয় পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোকে নিজ এলাকায় পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেবার আহ্বান জানিয়েছি। কেননা,  নীতিমালা অনুযায়ী এক জায়গার পর্যবেক্ষক অন্য জায়গায় পর্যবেক্ষণ করতে পারবে না।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের  ড. আনোয়ার ফরাজি ইমন বলেন, পর্যবেক্ষকদের যাওয়ার আগে ব্যালট পেপারের উল্টো দিকে যাতে প্রিসাইডং অফিসাররা সিল না মারে সেজন্য আমি অনুরোধ জানিয়েছি।  সিইসি বিষয়টি গ্রহণ করেছেন। আর  বিদেশ থাকা ১ কোটি নাগরিককে ভোটার করার অনুরোধ করেছি।
গতকাল সকাল ১১ টা নাগাদ পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে ইসির সংলাপ শুরু হয়ে শেষ হয় দুপুর ১টায়। আজ সোমবার নারী নেত্রীদের সঙ্গে এবং আগামীকাল মঙ্গলবার সাবেক নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ