ঢাকা, সোমবার 23 October 2017, ৮ কার্তিক ১৪২8, ২ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতার গুলীতে যুবলীগ নেতা আহত

চট্টগ্রাম অফিস : গত শনিবার দিবাগত রাত ১২টায় চট্টগ্রামে এক আওয়ামী লীগ নেতা কথাকাটাকাটির জের ধরে এক যুবলীগ নেতাকে গুলী করে আহত করেছে।
আহত যুবলীগ নেতা জয়নাল আবেদীন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী যুবলীগের নেতা। আর গুলীবর্ষণকারী মঞ্জুরুল আলম চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা  ও  পরিবহন মালিক সংগঠনের  নেতা।
পুলিশ মন্জুরুল আলমকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা মন্জুরুল  আলমকে আটকের প্রতিবাদে তার সমর্থকরা হাটহাজারী এলাকায় ব্যারিকেড দেয়। পরে পুলিশ তা সরিয়ে দেয়।
স্থানীয়  ও পুলিশ সূত্র জানায়, শনিবার রাতে আওয়ামী লীগ নেতা মন্জু ও যুবলীগ নেতা জয়নাল অফিসার্স ক্লাবে দীর্ঘক্ষণ ছিলেন। সেখান থেকে দুজন  কথা কাটাকাটি করতে করতে  বের হন। এক পর্যায়ে অফিসার্স ক্লাবের সামনে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের ছোট ফটকের মুখে দুজন দাঁড়িয়ে ঝগড়া করতে থাকেন।  এক পর্যায়ে মঞ্জুরুল আলম  পিস্তল বের করে জয়নালের পায়ে গুলী করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। এসময় মঞ্জুরুলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।  আহত জয়নালকে রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।  অস্ত্রোপচার করে গুলী বের করা হয়। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ বলেছে উভয়ে মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। শনিবার রাতে গুলীর ঘটনায় জয়নাল বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে।
এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুলকে আটকের খবর পেয়ে রাতেই তার অনুসারীরা থানায় যান।  বিভিন্নভাবে ছাড়ানোর তদবির করে ব্যর্থ হন তারা। জানা গেছে , মঞ্জুরুল আলম বৃহত্তর চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব।  তাকে আটকের  খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাটহাজারীতে সড়ক অবরোধ করে তার অনুসারীরা। এর ফলে দুর্ভোগে পড়েন চট্টগ্রাম-নাজিরহাট-খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম-রাউজান-রাঙামাটি রুটসহ নগরমুখী যাত্রীরা। আটকা পড়ে কয়েকশ যানবাহন। ৩ ঘন্টা পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ সরিয়ে নেয় মন্জুর সমর্থকরা।
এ বিষয়ে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাসুম জানান, হাটহাজারী বাসস্টেশন, কলেজ গেইট ও চবি ১নং গেইট এলাকায় ব্যারিকেড হয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, বাস শ্রমিক ও মালিক নেতাদের সাথে আলাপ করে সাড়ে বারোটার দিকে ব্যারিকেড সরিয়ে দিই। এখন যানচলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
হত্যার দায়ে সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় কাছিম আলী নামে একজনকে হত্যার দায়ে সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মুন্সি আব্দুল মজিদ এই রায় দিয়েছেন। রায়ে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদন্ড দিয়েছেন। একই রায়ে দুজন আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। এদের মধ্যে আমজাদ হোসেন নামে একজন আসামি মামলার বিচার চলাকালে মারা যান।
দন্ডিতরা হলেন, আবদুল হামিদ, মাহবুবুর রহমান, শফিক আহমদ, আবদুস শুক্কুর, আবদুর রাজ্জাক, নজির আহমেদ ও ফয়েজ আহমদ। রায় ঘোষণার সময় জামিনে থাকা এসব আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। পরে সবাইকে কারাগারে পাঠানো হয়। খালাস পাওয়া আসামি ফারুক আহমেদও রায় ঘোষণার সময় আদালতে হাজির ছিলেন।
বাদির আইনজীবী ইমতিয়াজ মাহমুদ চৌধুরী জানান, ১৯৯৭ সালের ২ এপ্রিল সাতকানিয়ার মির্জাখীল এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে আসামিরা কাছিম আলীকে পিটিয়ে হত্যা করে। কাছিম আলীর স্ত্রী মজলিস খাতুন বাদি হয়ে সাতজনকে আসামি করে সাতকানিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে ১৯৯৮ সালের ১০ জানুয়ারি পুলিশ নয়জনকে আসামী করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।  অভিযোগ গঠনের পর আদালত ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ