ঢাকা, সোমবার 23 October 2017, ৮ কার্তিক ১৪২8, ২ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজশাহীর ছাত্রমেসের মালিকদের বিরুদ্ধে বিচারকের মামলা

রাজশাহী অফিস : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রাবি ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মেস-মালিকদের অর্থ আদায়ের ঘটনায় মামলা করেছেন একজন বিচারক। বিষয়টির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের বিচারক মো. জাহিদুল ইসলাম শনিবার নগরীর মতিহার থানায় একটি এজাহার করে এই আদেশ দেন। এ বিষয়ে মতিহার থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়। আগামী ৫ নভেম্বর পুলিশের প্রতিবেদন জমার দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আদালতের কাছে মনে হয়েছে যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকার মেস-মালিকেরা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০০ টাকা বা তার বেশি হারে চাঁদা দাবি করেছেন। এটি দণ্ডবিধির ৩৮৫ ধারা (চাঁদাবাজি) অনুযায়ী একটি অপরাধ। এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার্থীরা আশপাশের শিক্ষার্থীদের মেসে থাকেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়া নীতি-নৈতিকতা ও আইনপরিপন্থী। আদালত মনে করেন, সমিতির সভাপতি ও সেক্রেটারি দ-বিধির ৩৮৫ ধারা অনুযায়ী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। এই অপরাধের সঙ্গে মেস-মালিক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কারা কারা জড়িত, সে বিষয়টি তদন্ত করে খুঁজে বের করা প্রয়োজন। মতিহার থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, এজাহারটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার বিষয়ে মেস-মালিকদের অবহিত করা হয়েছে। কেউ যদি টাকা নেয় তবে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গোদাগাড়ীতে স্বামী-স্ত্রীর
ফাঁস দেয়া লাশ উদ্ধার
গোদাগাড়ী (রাজশাহী) সংবাদদাতা : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় এক দম্পতির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার বেলা ৩টার দিকে উপজেলার সেখেরপাড়া বারোমাইল গ্রাম থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, এই দম্পতি আত্মহত্যা করেছেন।
মৃতরা হলেন, ওই গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে সামিউল ইসলাম ওরফে সনি (২৫) ও তার স্ত্রী নিপা খাতুন (২১)। সনি মুঠোফোন মেরামতের কাজ করতেন। আগের দুই স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর প্রায় এক বছর আগে নিপাকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। নিপা উপজেলার ফরাদপুর স্কুলপাড়া গ্রামের আবু বকর সিদ্দিকের মেয়ে। গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি হিপজুর আলম মুন্সি জানান, নিপার লাশ ঘরের মেঝেতে পড়েছিল। আর নিপার ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় সনির লাশ ঝুলছিল ঘরের তীরের সঙ্গে। নিপার গলাতেও ফাঁসের চিহ্ন রয়েছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, নিপা প্রথমে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে সনি তার লাশ নাামিয়ে নিজেও আত্মহত্যা করেন। প্রতিবেশীরা জানান, সনি তার বাবা-মায়ের সঙ্গে স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন। তবে সনির মায়ের সঙ্গে নিপার প্রায়ই ঝগড়া হতো। শনিবার রাতেও তাদের ঝগড়া হয়। পরে নিপার শ্বাশুড়ি রাগ করে বাবার বাড়ি চলে যান। আর সকালে কৃষিকাজ করতে মাঠে চলে যান শহিদুল ইসলাম। এরপরই ফাঁকা বাড়িতে প্রথমে আত্মহত্যা করেন নিপা। পরে তা দেখে সনি নিজেও আত্মহত্যা করেন। ওসি জানান, দুপুরে নিপার খালা তাদের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে তিনিই প্রথমে লাশ দেখেন। এরপর ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয়রা থানায় খবর দেন।
প্রেমিকযুগল হত্যার
কারণ প্রেমঘটিত
দীর্ঘ দেড় বছর পর রাজশাহী নগরীর হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনালে চাঞ্চল্যকর প্রেমিক যুগল খুনের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। মোবাইল ফোন ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এই জোড়া খুনের সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করে। ঘটনায় জড়িত আহসান হাবিব ওরফে রনি (২০) শুক্রবার রাজশাহী মহানগর হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে। প্রতিশোধ নিতেই চার বন্ধু মিলে প্রেমিককে হত্যা ও তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে বলে সে স্বীকার করে। 
আহসান হাবিব ওরফে রনি (২০) পাবনার ফরিদপুর থানার জন্তীহার গ্রামের এনামুল হকের  ছেলে। সে রাজশাহীর বরেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে। নিহত যুবক মিজানুর রহমান ও রনির একটি ফোনকলের সূত্র ধরে পিবিআই তাকে শনাক্ত করে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জোড়া খুনে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআই সদস্যরা বৃহস্পতিবার রাজশাহী নগরীর একটি ছাত্রাবাস থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব¡ ও খনিবিদ্যা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাহাত মাহমুদ, রাজশাহী কলেজের ছাত্র আল আমিন ও উৎসকে গ্রেফতার করে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২২ এপ্রিল রাজশাহীর হোটেল নাইসের একটি কক্ষ থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মিজানুর রহমান ও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সুমাইয়া নাসরিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ