ঢাকা, সোমবার 23 October 2017, ৮ কার্তিক ১৪২8, ২ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভোটারদের বাক স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী প্রার্থীর হলফনামা বাতিলের প্রস্তাব 

স্টাফ রিপোর্টার : নির্বাচনের সময় প্রার্থীর হলফনামা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের সুপারিশের সমালোচনা করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। এর প্রতিবাদ জানিয়ে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এ প্রস্তাব ভোটারদের বাক স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

গতকাল রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সুজনের সম্পাদক। সুজনের সহ-সভাপতি বিচারপতি কাজী এবাদুল হকও সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। গত ৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপের সময় হলফনামা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের সুপারিশ করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এ দাবি (হলফনামা বাতিলের) গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক করণের অন্তরায় এবং দেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার জন্য অশনি সংকেত। বদিউল আলম জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশেই এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। তাই তা বাতিলের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠানটির হাতে নেই।

সম্মেলনে সুজনের পক্ষ থেকে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে পরিচ্ছন্ন করতে হলফনামার ছকের পরিবর্তন, হলনামার তথ্য যাচাই-বাছাই, অনলাইনে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও হলফনামার বিধান যুক্ত করাসহ ছয় দফা প্রস্তাব দেওয়া হয় ।

সুজন সম্পাদক বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে হলফনামা বাতিলের দাবি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার অন্তরাই শুধু নয় একই সঙ্গে ভোটারদের বাক স্বাধীনতা হরণ মৌলিক অধিকার পরিপন্থী ও গণতন্ত্রের জন্য তা অশনিসংকেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

হলফনামা বাতিল হলে নির্বাচনে অনিয়ম বৃদ্ধি পাবে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি বাতিল হলে নির্বাচনে বসন্তের কোকিল ও রাজনৈতিক অঙ্গনে উড়ে এসে জুড়ে বসাদের সংখ্যা বাড়বে। স্বার্থান্বেষী মহল নির্বাচনকে নিজের কাজে লাগাবে। 

তিনি বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গন ও নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কলুষমুক্ত রাখতে হলফনামার বিধান আরও কার্যকর করার জন্য ইসির কঠোর হওয়া উচিত। বর্তমান হলফনামার ছকটি অসম্পূর্ণ ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এতে আরও কয়েকটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

প্রার্থীর বয়স, বিদেশি নাগরিকত্ব আছে কি-না, আয়ের উৎসের বিস্তাারিত বিবরণ, সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক আছে কি-না ও প্রার্থীর উপর নির্ভরশীলদের বিস্তারিত বিবরণ ইত্যাদি বিধি প্রণয়ন করে অন্তর্ভুক্তের দাবি জানান তিনি। 

কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি বলেন, হলফনামা দেওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে, মিথ্যা তথ্য দেওয়া ফৌজদারি অপরাধ হওয়ায় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ও নির্বাচন কমিশন তার ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে হলফনামা যাচাই-বাছাই করার উদ্যোগ নিতে হবে। 

তিনি বলেন, “রাজনৈতিক অঙ্গন ও নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কলুষমুক্ত রাখতে হলফনামার বিধান আরও কার্যকর করার জন্য ইসির কঠোর হওয়া উচিত। বর্তমান হলফনামার ছকটি অসম্পূর্ণ ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এতে আরও কয়েকটি বিষয় অর্ন্তভুক্ত করা উচিত।”

হলফনামা দেওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে, মিথ্যা তথ্য দেওয়া ফৌজদারি অপরাধ হওয়ায় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ও নির্বাচন কমিশনকে তার ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে হলফনামা যাচাই-বাছাই করার উদ্যোগ নিতে হবে।

কিছু ‘বসন্তের কোকিল’ ও ‘উড়ে উড়ে এসে জুড়ে বসা’ ব্যবসায়ীদের ঠেকাতে হলফনামা আবশ্যক উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন হলফনামার তথ্য খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিলে অনেক অবাঞ্ছিত ব্যক্তিকেই নির্বাচনী অঙ্গন থেকে দূরে রাখা যাবে। ফলে আমাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়া কলুষমুক্ত হওয়ার দ্বার উন্মোচিত হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ