ঢাকা, সোমবার 23 October 2017, ৮ কার্তিক ১৪২8, ২ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রকল্প নিয়ে সংশয় বিশেষজ্ঞদের

 

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী সিডেম্বরের মধ্যেই ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান বা ড্যাপ নিয়ে খসড়া প্রকাশ করবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক। একই সাথে ড্যাপ নিয়ে গণশুনানিও করেব রাজউক। অন্যদিকে ড্যাপ’র প্রকল্পের পরিকল্পনা নিয়ে শুরু থেকেই সংশয় প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল রেবাবরা এক অনুষ্ঠানে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানের (ড্যাপ) প্রকল্পের পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন আলোচকরা।

রাজউক ভবনে ড্যাপ সংক্রান্ত জরুরি সভায় এমন সংশয় প্রকাশ করেন তারা। সভায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেকচারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফজলে রেজা সুমন বলেন, আগের ড্যাপ নকশায় সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবন এলাকাকে আবাসিক এলাকা হিসেবে দেখানো হয়। নতুন ড্যাপ নকশায় এ ধরনের বিচ্যুতি আছে কি না তা নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবার কথা বারবার উলেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্সের প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকার আশপাশের জলাশয়ের স্থান নির্ধারণ করতে না পারলে জনদুর্ভোগ কমবে না। ২০১০ সালের ড্যাপের প্ল্যানে ভুল ছিল। তাই সময় নিয়ে নির্ভুল ড্যাপ প্ল্যান এলাকা করার পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেকচারের সেক্রেটারি দেওয়ান সামসুল আলী বলেন, কাজ করার প্রক্রিয়া ভালো। কিন্তু কী ধরনের সড়ক হবে, ভূমি কী পরিমাণের এসব বিষয় এখনো স্পষ্ট হয়নি। নতুন ড্যাপ বাস্তবায়ন হলে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে ঢাকার তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই।

আলোচকরা আরও বলেন, নতুন ড্যাপ প্ল্যানে প্রতি একর জমিতে ৮০ জন লোক বসবাসের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কী পরিমাণ জমি রয়েছে এবং সেখানে কী ধরনের সুবিধা রাখা হবে এসব দিক এখনো স্পষ্ট হয়নি।

রাজউক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্ল্যানের একটা খসড়া তৈরি করে সাধারণ মানুষ নিয়ে গণশুনানি করা হবে। তিনি ড্যাপকে নির্দেশ দেন, যেন রাজধানীর খাল, বিল ও নদী তাদের প্ল্যানে আসে। একই সঙ্গে এসব জলাশয় রক্ষায় তারা যেন ভূমিকা রাখতে পারেন।

সভা থেকে জানানো হয়, ১৯৯৫ সালে নতুন আঙ্গিকে ঢাকা শহরের পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়, যা ট্রাকচার প্ল্যান নামে পরিচিত। ১৯৯৬ সালে অনুমোদিত এই প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ ছিল ২০১৫ সাল পর্যন্ত। এই পরিকল্পনার মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে ২০০৭ সালে ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ড্যাপ তৈরি করা হয়। ২০১৫ সালে স্ট্রাকচার প্ল্যান প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবার পর নতুন প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। এর মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১৬-২০৩৫ সাল পর্যন্ত। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ড্যাপ পিডি আশরাফুল ইসলামসহ ড্যাপের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ