ঢাকা, সোমবার 23 October 2017, ৮ কার্তিক ১৪২8, ২ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিআইএইচএস’র প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেই সার্ভিস রুল চলছে স্বেচ্ছাচারিতা॥বেতন-ভাতা চাইলেই চাকরিচ্যুতি

তোফাজ্জল হোসেন কামাল : বাংলাদেশ ডায়বেটিক সমিতির সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ সাইন্সেস এন্ড হাসপাতাল (বিআইএইচএসএইচ) এর প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলছে চরম স্বেচ্ছাচারিতা। ওই প্রতিষ্ঠানটির কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের রোষানলে পড়ে গত কয়েক মাসে চাকরি গেছে বিভিন্ন পর্যায়ের ৭১ জনের । তারা অকস্মাৎ চাকরি হারিয়ে একদিকে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন । অপরদিকে সমাজ-সংসারের কাছে হারিয়েছেন মানমর্যাদা । চাকরিচ্যুতির বিষয়টিকে তারা অসাংবিধানিক ও অবৈধ দাবি করে নানাস্তরে প্রতিকার চেয়েও পাননি বলে অভিযোগে প্রকাশ । ফলে বাধ্য হয়ে চাকরিচ্যুতির শিকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের বিষয়টি লিখিতভাবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিকে জানিয়েছেন । এর প্রেক্ষিতে আগামী ২৫ অক্টোবর বিকাল ৩ টায় ঘটনার বিষয়গুলো জানার জন্য বিআইএইচএসের পরিচালনা পরিষদের তিন কর্মকর্তাসহ ক্ষতিগ্রস্তদের ডেকেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ , বাংলাদেশ ডায়বেটিক সমিতি কর্তৃপক্ষ কোনরূপ কারণ দর্শানো বা কোন প্রকার ব্যাখ্যা প্রদানের সুযোগ না দিয়ে তাদেরকে চাকরি হতে আকস্মিক অপসারণ করেছে। অপসারণকৃত কর্মীদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের আনুষ্ঠানিক কোন অভিযোগপত্রও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেয় নি। তাদের দাবি , তারা কোন প্রকার অপরাধ বা প্রতিষ্ঠান বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত নয়। চাকরি জীবনের প্রতিটি দিন সততা ও নিয়মানুবর্তিতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি পরতে পরতে তাদের শ্রমের প্রতিফলন রয়েছে। যে প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্য সারা জীবন শ্রম দিয়ে গেছেন সেই প্রতিষ্ঠানই অযৌক্তিক ও অমানবিক এবং অসাংবিধানিকভাবে ৭১ জনকে চাকরিচ্যুত করেছে। এদের মধ্যে কারো কারো চাকরিকাল প্রায় ২২ বছর পার হয়েছে।

অভিযোগে প্রকাশ , বর্তমান পরিচালক বি:জে: (অব) আব্দুল মজিদ ভুইয়া যোগদানের পরই স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠেন । তিনি কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন নীতিমালা উপেক্ষা করে প্রতিষ্ঠানটিকে আত্মীয়করণসহ নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে ইতিমধ্যে অবৈধভাবে কমবেশী ১০৫ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন। অথচ এই প্রতিষ্ঠানটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুদানপ্রাপ্ত অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান হিসাবে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ১৭ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে। তাদের অভিযোগ , বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটিকে একান্ত ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান হিসাবে পরিচালনা করছেন। এমনকি বর্তমান ম্যানেজমেন্ট বিগত ম্যানেজমেন্ট কর্তৃক নিয়োগকৃত কর্মীদেরক অপসারণ করার পায়ঁতারা করছেন। মৌলিক অধিকার লংঘন করে ৭১ জন কমীকে অবৈধভাবে অপসারণ করেছেন। এ ছাড়া , বেশ কিছু কর্মীকে বাধ্যতামূলকভাবে রিজাইন দিতে বাধ্য করা হয়েছে। আরো অনেক পুরাতন অভিজ্ঞ কর্মীদেরকে রিজাইন দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগে জানা গেছে ।

জানা গেছে , ডায়বেটিক সমিতির সর্ববৃহ্য প্রতিষ্ঠান এইচসিডিপির, বিআইএইচএসএইচ এর প্রণিত ২০০৫ সালের সার্ভিসরুলের বিজ্ঞাপন নীতিমালার ৪ ধারা মোতাবেক প্রত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে এবং নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ বৈধভাবে জনবল নিয়োগ দিতে পারেন । কিন্তু বর্তমান পরিচালক উক্ত বিজ্ঞাপন নীতিমালা সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে একান্ত ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান বানিয়ে পূর্ববর্তী ম্যানেজমেন্ট এর অতিরিক্ত জনবল নেওয়ার মিথ্যা অজুহাত এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সাশ্রয় এর মিথ্যা অজুহাত দাঁড় করিয়ে নিকট আত্মীয়সজনসহ ১০৫ জনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়েছেন। আরো কমবেশী ১০০ জন অবৈধভাবে নতুন কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন আছে বলে সূত্রে প্রকাশ। বর্তমান পরিচালক ব্যক্তিগত নিরাপওার অজুহাতে ২০ জন আনসার সদস্য নতুনভাবে নিয়োগ দিয়েছেন, শুধুমাত্র সেখানেই তিনি সাশ্রয়ের পরিবর্তে প্রতি মাসে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করছেন। বাংলাদেশ ডায়বেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠান বারডেম হাসপাতাল এবং একই সমিতির সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান এইচসিডিপির, বিআইএইচএসএইচ এন্ড ইউএইচসি। যেখানে বারডেম হাসপাতালটি অত্যন্ত সুনামের সাথে সাংবিধানিক সার্ভিস রুলের মাধ্যমে দীর্ঘদিন যাবৎ পরিচালিত হয়ে আসছে, সেখানে একই সমিতির পরিচালিত বারডেম হাসপাতালের উক্ত সার্ভিসরুলটি সমিতির সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান বিআইএইচএস এন্ড ইউএইচসিতে কেন কার্যকর হচ্ছে না – এ প্রশ্ন ভূক্তভোগীদের ? জানা গেছে , বিআইএইচএস এন্ড ইউএইচসিতে একটি অসাংবিধানিক সার্ভিস রুলের মাধ্যমে বিগত ২০০৫ সাল থেকেই পরিচালিত হয়ে আসছে। যার অপপ্রয়োগের মাধ্যমে অবৈধভাবে কর্মীদের অপসারন করা হচ্ছে, এবং পুরাতন অভিজ্ঞ কর্মীদের উপর মারাত্বক মানষিক চাপে রেখে সম্পুন ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান বানিয়ে বর্তমান পরিচালক, অত্র প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়োগ বানিজ্য এবং আত্মীয়করণ করে পুরাতন অভিজ্ঞ কর্মীদেরকে ক্রমান্বয়ে সরিয়ে দেয়ার দুরভিসন্ধি বা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন।

জানা গেছে , বিআইএইচএসএইচ কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত খামখেয়ালীভাবে বেশ কিছু অভিজ্ঞ কর্মকর্তা কর্মচারীদের অবৈধভাবে গণছাঁটাই করেছেন। চাকরিচ্যুতির বিষয়টি অ-সাংবিধানিক, অযৌক্তিক ও অমানবিক হওয়ায় অবৈধ অপসারণকৃতদেরকে চাকরিতে অবিলম্বে সকল আর্থিক সুবিধাসহ পুনঃবহালের ব্যবস্থার দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের । তারা চান ডায়বেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠান বারডেম হাসপাতালের ন্যায় অভিন্ন সার্ভিসরুল বিআইএইচএসএইচসিতে বাস্তবায়ন । 

জানা গেছে , শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ডায়বেটিক সমিতির পক্ষে সভাপতি , মহা-সচিব ও পরিচালক, বিআইএইচএসএইচ,মিরপুরকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। একই সাথে অপসারণকৃত কর্মচারীদের পক্ষে এ এ শহীদ হোসেন , শাহীন আক্তার বানু ও রাশিদা আকতারকেও হাজির থাকতে বলা হয়েছে ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ কে আজাদ খান‘র মুঠোফোনে যোগাযোগ করে কথা বলা যায় নি ।

সমিতির মহাসচিব মো: সাইফুদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান , সংসদীয় কমিটি তাদের ডেকেছেন এমনটা তারা জানেন না । তাদের বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতি ও গণছাঁটাইয়ের অভিযোগও সত্য নয় দাবি করে তিনি বলেন , তাদের প্রতিষ্ঠানে ৫ হাজার লোক চাকরি করে । ডিসিপ্লিনারী অ্যাকশনে কারও কারও চাকরি যাবে , কেউ আবার রিওয়ার্ড পাবে-এটাইতো নিয়ম । তিনি অভিযোগ করেন , যারা ঠিকমতো কাজ করে না দে উইল লুজ আর জব ( তারা চাকরি হারাবে ), দিস ইজ আওয়ার নরমাল প্রসেস ( এটাই আমাদের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া )।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ