ঢাকা, সোমবার 23 October 2017, ৮ কার্তিক ১৪২8, ২ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মণিরামপুরে তিন দিনের অবিরাম বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে আমন ধানের আবাদ লণ্ডভন্ড : কৃষকরা দিশেহারা

নিছার উদ্দীন খান আযম, মণিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা ঃ  একেতো পাতা পচা রোগের আক্রমণ তার ওপর গত তিন দিনের অবিরাম বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে যশোরের মণিরামপুরে আমন ধানের আবাদ লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নিন্মাঞ্চলের অধিকাংশ আবাদ পানিতে ডুবে গেছে এবং বাকী আবাদ মাটির সাথে মিশে গেছে। ফলে কৃষকরা এখন আমন নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে চলতি মৌসুমে আমনের উৎপাদনের লক্ষমাত্রা অর্জিত না হবার আশংকা দেখা দিয়েছে।  উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি আমন মৌসুমে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২১ হাজার হেক্টর জমি। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ করা হয় ২২ হাজার ৯৭৫ হেক্টর জমিতে। কৃষি অফিস ও বিভিন্ন কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানাযায়, মৌসুমের শুরুতে অনুকুল আবহাওয়া এবং বীজ, সার, কিটনাশকের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন এবার উৎপাদনও রেকর্ড পরিমানের হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু মৌসুমের মাঝপথে পাতাপঁচা রোগের আক্রমন এবং গত বৃষ্পতিবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের অবিরাম বৃষ্টি ও প্রচন্ড ঝড়ো বাতাসে ধানগাছ পড়ে মাটির সাথে মিশে গেছে। অন্যদিকে উপজেলার মনোহরপুর, নেহালপুর, ঢাকুরিয়া, শ্যামকুড়, চালুয়াহটি, দূর্বাডাঙ্গা, খানপুর, হরিদাসকাটি, কুলটিয়া, ঝাঁপাসহ বিভিন্ন নি¤œাঞ্চলের ধানক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। ইতিমধ্যে আগাম জাতের ধান পেকে যাওয়ায় ক্ষেত থেকে মাত্র ১০ শতাংশ ঘরে তুলতে পেরেছেন বলে জানাগেছে। ক্ষেতে বর্তমান রয়েছে উপশি জাতের ধান। অনেক কৃষক ধান কেটেছে। কিন্তু অবিরাম বৃষ্টি আর প্রতিকুল আবহাওয়ার দরুন তা ঘরে তুলতে পারেননি। কাটা ধান পানিতে ডুবে নষ্ট হওয়ার উপক্রম। কামালপুর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক আব্দুর রহমান জানান, তার ২৮ শতক জমির ধান সম্পূর্ন পানির নিচে। কাশিপুর গ্রামের কৃষক এরশাদ আলী জানান, একেতো পাতাপাঁচা রোগের আক্রমন তার ওপর তিন দিনের বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে তার তিন বিঘা, হাসেম আলীর চার বিঘা, মাঝিয়ালি গ্রামের আলী হোসেনের আট বিঘা জমির ধান এখন মাটির সাথে মিশে গেছে। শুধু রহমান, এরশাদ অথবা আলী হোসেন নয়, এরকম নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে উপজেলার অধিকাংশ এলাকায়। ফলে কৃষকরা আমনধান নিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। যে কারনে চলতি মৌসুমে আমন ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ধারনা করছেন। উপজেলা কৃষি অফিসার সুশান্ত কুমার তরফদার জানান, তিনদিনের অবিরাম বৃষ্টি ও ঝড়ো আবহাওয়ায় উপজেলা অন্তত ৫’শ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বিভিন্ন কৃষককের সাথে আলাপ করে জানাযায় বাস্তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় কয়েক হাজার হেক্টর জমি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ