ঢাকা, সোমবার 23 October 2017, ৮ কার্তিক ১৪২8, ২ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা সেবায় ব্যক্তি উদ্যোগের অনন্য দৃষ্টান্ত

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সাবেক সহ-সম্পাদক এডভোকেট মো. সাইফুর রহমান। তার ব্যক্তি উদ্যেগে এ পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা নারী ও শিশু চিকিৎসা সেবা পেয়েছেন। দেশী বিদেশী সাহায্য সংস্থার পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগেও আন্তরিক ও সফল সেবা দেয়া সম্ভব তার বড় দৃষ্টান্ত তার উদ্যোগে পরিচালিত ৯টি মেডিকেল ক্যাম্প। এই মেডিকেল ক্যাম্পের সেবার মধ্যে ছিল ব্যবস্থাপত্র ও ওষুধ ও আর্থিক সহায়তা। পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে শিশু খাদ্য। 

গত ১০ সেপ্টেম্বর টেকনাফের রইক্কমে প্রথম মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালিত হয়। এরপর একে একে উখিয়ার থাইংখালী, আনজুমান পাড়া, গজঘোনায়, তানজিয়ার মার খলায়, টেকনাফের রইক্কম ও বাহার ছড়ায়, কুতুপালং শাহপরীর দ্বীপ ও মৌলভীপাড়ায় অসুস্থ রোহিঙ্গা নারী ও শিশুকে চিকিৎসাপত্র ও ওষুধ দেয়া হয়েছে। যেসব নারী ও শিশু চিকিৎসা চিকিৎসা সেবা নিয়েছে তাদের বিবরণী সেনাবাহিনীর, স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় ও বাংলাদেশের জাতিসংঘ অফিসের কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। 

এডভোকেট মো. সাইফুর রহমান বলেন, নির্যাতিত হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মানবিক বিপর্যয়ে পাশে দাঁড়াতে আমরা ছুটে যাই টেকনাফের উখিয়ায়। সাথে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আশরাফ-উজ্জামান ও ডা. ফয়সালসহ অন্যরা। পরবর্তীতে অর্থোপেডিক সার্জন ডা. জহিরুল ইসলাম, ডা. জি এম নাদিম, ডা. সাহাদাত, ডা. ইউসুফ হায়দার চৌধুরী ও ডা. আইয়ুব, ডা. এল পন চাকমা, ডা. কুশল চক্রবর্তী, ডা. সাইদুর রহমান মেডিকেল টীমে ছিলেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর থাইংখালীতে প্রথম মেডিকেল ক্যাম্প করি। সেখানে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের অসহায়ত্ব। অসংখ্য নারী ও শিশু চিকিৎসা সেবা প্রয়োজনের তাগিদ থেকে গত ৭ অক্টোবর পর্যন্ত একে একে ৯টি মেডিকেল টীম পরিচালনা করেছি। এখন দশম মেডিকেল টীমের প্রস্তিুতি নিচ্ছি।

সরেজমিন অভিজ্ঞতা থেকে এডভোকেট মো. সাইফুর রহমান বলেন, লাখ লাখ রোহিঙ্গার চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালের বিকল্প নাই। ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালই পারে এলাকা ঘুরে ঘুরে চিকিসা সেবা দিতে। দেশের যে কোন হাসপাতাল একটি বাসেই এই ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা সেবা দিতে পারেন। বেলজিয়ামে এই পদ্ধতি চালু আছে।

তিনি বলেন, চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে আমরা অনেক হৃদয়বান মানুষের সহায়তা পেয়েছি। দেশে বিদেশের অনেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। অনেকে নানাভাবে সহায়তা করেছেন। আমাদের টীমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থেকে শুরু করে নবীন চিকিৎসক, মেডিকেল এসিসট্যান্ট, নার্স ও ফার্মাসিস্ট ছিলেন। তারা প্রত্যেকেই ছিলেন আন্তরিক। দেখা গেছে একজন রোগীর চিকিৎসাপত্রে পাঁচ ওষুধ দেয়া হয়েছে কিন্তু তিনটির যোগান হয়েছে তাৎক্ষণিক বাকী দুটি ওষুধের জন্য আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি একজন রোগীকে সম্পূর্ণ চিকিৎসা দেয়ার। 

তিনি বলেন, শুরুতে ‘মেডিকেল এইড ফর মায়ানমার ভিকটিম’ ব্যানারে চিকিৎসা সেবা দেয়া হলেও এখন পাবলিক হেল্প অরগানাইজেশন বাংলাদেশ (পিএইচওবি) নামে আমরা কাজ করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ