ঢাকা, সোমবার 23 October 2017, ৮ কার্তিক ১৪২8, ২ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে খুলনা মহানগরীর অর্ধশত ভবনে বসবাস

খুলনা অফিস ঃ খুলনা মহানগরীর অর্ধশত ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবন অপসারণ করার উদ্যোগ দীর্ঘ আট বছরেও কার্যকর হয়নি। বিষয়টি এখনো সভা আর সিদ্ধান্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। পদক্ষেপ গ্রহণে ধীরে চলার নীতি অবলম্বন করায় ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। ভবনগুলিতে বসবাসকারীরা জীবনের ঝুঁিক নিয়ে বসবাস করছে।   যে কোন মুহূর্তে ভূমিকম্পসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভবনগুলো ধসে প্রাণহানি ঘটার আশংকা করা হচ্ছে।

একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, খুলনা মাহানগরীতে বসবাসের অযোগ্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবনসমূহ অপসারণ করার লক্ষ্যে ২০০৪ সালে ৫৯টি ভবনের তালিকা তৈরী করা হয়। ২০০৮ সালে কেডিএ’র পক্ষ থেকে ৯৪টি ভবন চিহ্নিত করা হয়। পরবর্তীতে কেসিসি’র চিহ্নিত ৫৯টি এবং কেডিএ’র চিহ্নিত ৯৪টি ভবনের সর্বশেষ অবস্থার একটি প্রতিবেদন তৈরী করতে ২০১০ সালের ১৪ জুন খুলনা নগর ভবনের সভাকক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কেসিসি’র তৎকালীন প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাকে আহবায়ক এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)কে সদস্য সচিব করে একটি উপ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি কয়েক দফা নগরীর বড় বাজার এলাকাসহ বিভিন্ন সড়কে পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনসমূহ পরিদর্শন করেন এবং ৪৮টি বাড়ী চিহ্নিত করা হয় এবং তিনটি পর্যায়ে (২৬ টি বাড়ি সর্ম্পূর্ণ, ৫ টির বর্ধিত অংশ এবং ১৭টির নিচতলা বহাল রেখে বাকী অংশ ভেঙ্গে ফেলার) প্রস্তাব দিয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। চিহ্নিত এই ৪৮টি বাড়ীর মধ্যে ১৩ টি জেলা প্রশাসনের এবং ১৬ টি গণপূর্ত বিভাগের। বাকী গুলি ব্যক্তি মালিকানাধীন। প্রতিবেদন অনুযায়ী অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২৬টি বাড়ির অবস্থান হচ্ছে হেলাতলা, ওয়েস্টমেকট রোড, কালিবাড়ি, পুরাতন যশোর রোড, পুরাতন বাজার রোড, হাজী ইসমাইল লিংক রোড, স্যার ইকবাল রোড ও রামচন্দ্র দাস লেন।অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিগ্রস্ত নিচতলা রেখে বাকী অংশ ভেঙ্গে পুনঃনির্মাণের তালিকায় ১৭টি বাড়ির অবস্থান ভৈরব স্ট্যান্ড রোড, খালিশপুর হাউজিং এস্টেট, শেরে বাংলা রোড, খানজাহান আলী রোড, সাউথ সেন্ট্রাল রোড, পশ্চিম বানিয়াখামার রোড ও শেরে বাংলা রোড এবং ৫টি বাড়ির অবস্থান কেডি ঘোষ রোড ও ওয়েস্ট মেকট রোড। দাখিলকৃত প্রতিবেদনের আলোকে একই বছর ২৯ আগষ্ট কেসিসির ২০ তম সাধারণ সভার সিদ্ধান্তু অনুযায়ী উক্ত বাড়ীসমূহের মালিক ও দখলদারদের নোটিশ পাঠানো হয়। পরবর্তীকে অনেক সভা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলেও অদ্যাবধি তা’ কোন কাজে আসেনি।  এ ব্যাপারে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের এস্টেট অফিসার মো. নুরুজ্জামান তালুকদার বলেন, সম্প্রতি ৮টি বাড়ী অপসারণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ