ঢাকা, বুধবার 25 October 2017, ১০ কার্তিক ১৪২8, ৪ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অ্যাবের সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ

২৪ অক্টোবর, এএফপি : জাপানের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। দেশে জাতীয়তাবাদী অ্যাজেন্ডা পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি এই নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। স্বভাবতই প্রশ্ন জেগেছে, এই জয়ের পর জাপান এবং এই অঞ্চলের সামনে কী অপেক্ষা করছে?
অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মাইকেল হিজেল মনে করেন, এই মুহূর্তে জাপানে সাংবিধানিক সংস্কারের খুব প্রয়োজন। ডান ও বামপন্থীদের মধ্যে আদর্শগত মতপার্থক্যের কারণে বহুদিন ধরেই বিষয়টি তেমন গুরুত্ব পায়নি।
এই অধ্যাপক বলেন, বিশ্বে পরিবর্তন এসেছে। ধারা-৯ বলা চলে এখন অতীত বিষয়বস্তু। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই ধারার সংস্কার না আনাটা বাস্তবসম্মত হবে না। বিশেষ করে চীনের অভিলাষ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় এই ধারার সংস্কার এখন সময়ের দাবি।
মাইকেল হিজেল বলেন, ভারসাম্য বজায় রাখতে জাপান, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোর অবদান এখন জরুরি। জাপান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মৈত্রী বজায় রেখে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা ইস্যুতে সম্পর্ক স্থাপনে সমর্থ হয়, তাহলে উভয় পক্ষই লাভবান হবে।
জাপানের টোকিওতে টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ের এশিয়ান স্টাডিজের পরিচালক জেফ কিংস্টন বলেন, সব দেখেশুনে মনে হচ্ছে শিনজো আবের স্বপ্ন (সংবিধান পর্যালোচনা) তার হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। জনমত যদিও সংবিধান পর্যালোচনার পক্ষে নেই, তারপরও এ বিষয়ে আবে যদি গণভোটের দিকে যান, তাহলে উত্তর কোরিয়া ও চীনের কল্যাণে তিনি সে বাধাও পেরিয়ে যাবেন।
তবে বড় কোনো পরিবর্তন না-ও আসতে পারে বলে মনে করেন টোকিওর মেইজি ইনস্টিটিউটের গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের অতিথি শিক্ষক জুন ওকুমুরা। তিনি বলেন, পার্লামেন্টের নিম্ন পরিষদে সংবিধান সংশোধনের বিলটি পাস করা সহজ করে দিয়েছে অ্যাবের এই বিশাল জয়। তবে অর্থনৈতিক নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন না-ও আসতে পারে।
টোকিওর সোফিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক কোইচি নাকানো বলেন, বিশাল জয় পেলেও সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারে অ্যাবের পক্ষে আসলে যথেষ্ট জনমত রয়েছে কি না, তা বড় প্রশ্ন। এলডিপি আসলে ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনব্যবস্থা এবং বিরোধীদের মধ্যে বিভক্তির সুফল পেয়েছে। সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি আসলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার মতোই গুরুতর একটি ইস্যু।
এই ইস্যুতে বড় ধরনের মতভেদ রয়েছে। কাজেই গণভোট দিলেই যে অ্যাবে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে রায় পেয়ে যাবেন, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক এমা ডালটন বলেন, এবারের নির্বাচনে নাটকীয় কিছু ঘটনা ঘটেছে। প্রধান বিরোধী দলের ভেঙে পড়ার পাশাপাশি নতুন দুটি দল উঠে এসেছে। কিন্তু জাপানের পুরুষনিয়ন্ত্রিত রাজনীতিতে নারীদের প্রতিনিধিত্বের কোনো উন্নয়ন ঘটেনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ