ঢাকা, বুধবার 25 October 2017, ১০ কার্তিক ১৪২8, ৪ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অসাধ্য সাধন করে অনন্য রেকর্ড

জাফর ইকবাল : মানুষের অসাধ্য বলে কিছু নেই। চেষ্টা থাকলেই সেটি সম্ভব। মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে অথবা সৃষ্টিকর্ম প্রদর্শনের জন্য এমন কিছু কাজ করে থাকে যেগুলো আসলেই অসাধ্য সাধনই বলা যায়। অনেক অসাধ্য সাধন করে কেউ কেউ অনন্য রেকর্ডও করে ফেলেছেন। অনেকেই এমন কর্মকান্ড করে বসেন যা দেখেই গা শিউরে উঠে। ওঠারই কথা। এসব কাজে যেমন জীবনের ঝুঁকি থাকে তেমনি আনন্দও কম নয়। এমন কিছু বিস্ময়কর বিষয় নিয়ে আজকের আয়োজন।
পাখির বাসায় পাঁচ তারকা হোটেল : বাড়ির চারপাশে গাছের ডালে বা ঝোঁপের ভেতর আমরা যে ধরনের পাখির বাসা দেখি সেগুলো নান্দনিক হলেও সেখানে বিত্ত-বৈভবের চিহ্ন থাকে না। অতি কষ্টে পরম যত্নে বানানো এসব বাসায় পাখিরা রোদ-বৃষ্টি-ঝড় উপেক্ষা করে বসবাস করে। কিন্তু যদি কোনো পাখির বাসা হয় বিলাসবহুল পাঁচ তারকা হোটেলের আদলে গড়া তবে তা মানুষকে অবাক করার জন্য যথেষ্ট। এমন কিছু বিলাসবহুল পাখির বাসার সন্ধান পাওয়া গেছে কেনিয়ার লাইকিপিয়া মালভূমিতে।
তবে দেখতে পাখির বাসা হলেও এটি আসলে মানুষের বাসা। অর্থাৎ পাঁচ তারকা হোটেলের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা সংবলিত পাখির বাসার আদলে এই হোটেল বানানো হয়েছে কেনিয়ার উত্তরাঞ্চলের লাইকিপিয়া মালভূমির সাফারি পার্কে পর্যটকদের রাত কাটানোর জন্য।  একেবারে স্থানীয় পর্যায়ে প্রাপ্ত গাছের ডাল ও কৃষি উপকরণ দিয়ে এই বাসা এমনভাবে বানানো হয়েছে যেন সাফারি পার্কে ভ্রমণরত পর্যটকেরা পাখির মতো করে উঁচুতে বসে চারপাশের হাতি, জিরাফ এবং অন্যান্য পশুপাখির বিচরণ দেখতে পারেন। চার সদস্যবিশিষ্ট পরিবারের থাকার জন্য বাসাগুলোতে রয়েছে লাগোয়া বাথরুম, গরম বা ঠাণ্ডা জলের সুবিধা, সৌর বিদ্যুৎ, শ্যাম্পেইনসহ পর্যটকদের পছন্দসই নানা পদের খাবারের ব্যবস্থা। ইতিমধ্যে এই বাসায় থাকার জন্য পর্যটকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তবে বিলাসবহুল এই পাখির বাসায় রাত কাটাতে গেলে আপনাকে মোটা অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হবে। প্রতি রাতের জন্য প্রতিটি বাসার ভাড়া আটশ বাহাত্তর পাউন্ড যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় পঁচানব্বই হাজার টাকা!
সুটকেসে বয়ফ্রেন্ড! : ভালোবাসার জন্যে মানুষ কত কিছুই না করে দেখিয়েছেন দুনিয়ায়। প্রেম ও ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে অনেক অসাধ্য সাধন করে কেউ কেউ অনন্য রেকর্ডও করে ফেলেছেন। প্রেমিক চোর বা ডাকাত যাই হোক তবু সে ভালোবাসার অধিকার হারায় না প্রেমিকার কাছে। শতবাঁধা তুচ্ছ হয়ে যায় প্রেমের কাছে। সম্প্রতি ভালোবাসার টানে দুঃসাহসিক কান্ড ঘটিয়েছেন ভেনেজুয়েলার এক নারী। জেলখানায় বন্দী থাকা ভালোবাসার মানুষটিকে ফিরে পেতে অবলম্বন করেন অভিনব উপায়। তিনি তার বয়ফ্রেন্ডকে জেল থেকে পালাতে সুটকেসের ব্যবহার করেন। সুটকেসের ভেতরে প্রেমিককে ঢুকিয়ে তা টেনে জেলের বাইরে নিয়ে যাবার প্লান করেছিলেন প্রেমিকা। তারা পালিয়ে যেতে প্রায় সফলও হয়ে যাচ্ছিলেন। মাঝপথে জেলের গার্ডদের সন্দেহে বয়ফ্রেন্ড সমেত সুটকেস নিয়ে ধরা পড়েন দুজনেই।
২৫ বছর বয়সী এই নারীর বয়ফ্রেন্ড গাড়ি চুরির দায়ে নয় বছর আট মাসের জন্যে জেল খাটছিলেন বার্সেলোনার পুয়েন্তে আয়লা জেলখানায়। এন্টোনিয়েতা রোব্লেস সাউদা নামের এই নারী সম্প্রতি জেলখানায় যান তার বয়ফ্রেন্ড জোসে এন্টোনিও আঞ্জোতেগুই কে দেখতে। সঙ্গে নিয়ে যান ছয় বছরের মেয়ে আর একটা বড় সাইজের গোলাপি রঙের সুটকেস যা, দক্ষিণ আমেরিকার জেলখানায় পরিবার নিয়ে রাত কাটানোর জন্যে মোটেই অস্বাভাবিক ছিল না। সবকিছুই তাদের পরিকল্পনা মাফিক নিখুঁত চলছিল কারণ উজ্জ্বল গোলাপি রঙের সুটকেসটা গার্ডের সন্দেহের সৃষ্টি করেনি। কিন্তু শেষমেশ সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায় যখন পরের দিন গার্ড দেখতে পায় যে, জেলে ঢোকা হালকা সুটকেসটা টেনে নিতে সাউদা খুব কষ্ট করছে জেল গেট পার হওয়ার সময়। তারা সাউদাকে বাধ্য করে সুটকেস খুলে দেখাতে যে ভেতরে এমন কি আছে যা এত ভারী। পরবর্তীতে সুটকেসের চেইন খুলে দেখা যায় যে জোসে এন্টোনিও দলা পাকিয়ে গোল হয়ে কাপড়ের ভেতরে শুয়ে রয়েছেন।
পুয়েন্তে আয়লার কর্মীরা পুনরায় সাউদার গাড়ি চোর প্রেমিককে আবারো জেলে পাঠিয়ে দেন, সঙ্গে কয়েদি চুরির চেষ্টায় সাউদাকেও গ্রেফতার করা হয় আর তাদের ছয় বছরের ছোট্ট মেয়েটিকে সমাজসেবা প্রতিষ্ঠানে দিয়ে দেয়া হয়। সাউদা যদি ফিটনেস সেন্টারে বা জিমে গিয়ে তার শক্তি বাড়িয়ে নিতেন তাহলে হয়তো আজকের এই জেলের প্রেমিক ও প্রেমিকার গল্প পুরোপুরি ভিন্ন রকম হতো।
ব্লেড দিয়ে চোখের মণি শেভ! : আমরা সাধারণত সেলুনে নরসুন্দরের কাছে যাই চুল কাটাতে, শেভ করতে কিংবা চুলে রং করানোর জন্য। কিন্তু চীনে এমন একজন নরসুন্দর রয়েছেন তিনি এসব কিছুই করেন না। তার নাম জিয়াং গাউ।
চীনের চেংদু নগরীতে তার বসবাস। তিনি চোখের ভেতরের মণি শেভ করেন! তাও আবার ধারালো ক্ষুর এবং ব্লেড দিয়ে। পড়েই গা শিউরে উঠছে? ওঠারই কথা। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তিনি চোখের ভেতর থেকে চোখের মণি বের করে আনেন না। বরং চোখের ভেতরের ময়লা ও ধুলাবালি বের করে আনেন। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এই পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন জিয়াং গাউ। দীর্ঘ এই সময় কেউ কখনো তার এই কাজে আহত হননি। এমনকি সামান্য আঘাতও পাননি। এসব তথ্য জানিয়েছে দেশটির স্থানীয় অনলাইন পোর্টাল সাংহাইলিস্ট ডটকম।
জানা গেছে, বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে বিভিন্ন হাসপাতালে চোখের মণি শেভ করার বিষয়টি প্রচলিত ছিল। চোখের ভেতরের আলসার এবং আঘাতজনিত কারণে ক্ষতিকর টিস্যু বের করে আনতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে ‘ট্রাকোমা’ বলা হয়।
সৌন্দর্য ধরে রাখতে জীবনের ঝুঁকি : সৌন্দর্য ধরে রাখার প্রচেষ্টা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। তবে পুরুষের তুলনায় নারীর মধ্যে এই প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যায়। তাইতো আদিকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত নানা যুগে সৌন্দর্য সচেতন নারীরা সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য প্রাকৃতিক বা রাসায়নিক উপাদানের সাহায্য নিয়েছেন। তবে সবাইকে ছাড়িয়ে গিয়েছেন জার্মান অভিনেত্রী মনিকের মানোউস। তিনি সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য এমন এক অদ্ভুত পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন যেখানে তার জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা ছিল। নিজেকে আরো প্রাণবন্ত ও বয়সের ছাপ দূর করার জন্য এই অভিনেত্রী শরীরে প্রয়োগ করেছেন তিন মিলিয়ন বছরের পুরাতন ব্যাকটেরিয়া। ব্যাসিলাস এফ নামের এই ব্যাকটেরিয়া অত্যন্ত প্রাচীন।
২০০৯ সালে রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে এই প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কৃত হয়। অবাক ব্যাপার হলো, বহু পুরনো হলেও এদের শরীরে বয়স বাড়ার কোনো ছাপ দেখা যায়নি। অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়াগুলো জন্মের সময় ঠিক যেমন ছিল এখনো তেমন রয়েছে। ব্যাসিলাস এফ ব্যাকটেরিয়া নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ব্যাকটেরিয়া যেহেতু লক্ষ লক্ষ বছর একই রকম থাকে সেহেতু এটি মানুষের সৌন্দর্য ধরে রাখার একটি কার্যকরী উপাদান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে শরীরে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করানো মনিকার জন্য সহজ ছিল না। প্রথমত, তার পরিবার এ বিষয়ে তীব্র বিরোধী ছিল। কারণ এতে তার জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা ছিল। দ্বিতীয়ত, লাইসেন্স হারানোর ভয়ে জার্মানির কোনো চিকিৎসক তার শরীরে এটি প্রয়োগ করতে সাহস পাননি। ফলে মনিকা নিজের পথ নিজেই বেছে নেন। একজন চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে তিনি এক বন্ধুর সহায়তায় নিজেই শরীরে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করান। প্রতি দুই সপ্তাহ পর পর তিনি শরীরে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করান এবং আশা করেন খুব দ্রুত তিনি এর সুফল পাবেন। বারক্রোফট টেলিভিশন চ্যানেলে দেয়া এক সাক্ষৎকারে মনিকা বলেন, ‘দীর্ঘ মেয়াদে এর প্রভাব কী হবে জানি না। তবে আমি ভালো বোধ করছি। ঝুঁকি অবশ্যই আছে। তবে ঝুঁকি না নিলে কি সফলতা আসে? আমি জানি এটা আমাকে বিশ বছরের তরুণীর মতো রূপবতী করবে না। তবে আমি আশি বা নব্বই বছর পর্যন্ত সুন্দরভাবে বাঁচতে চাই।’
কুমিরের সাথে সাঁতার : বিশ্বের নামকরা থিম পার্কগুলোতে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদের জন্য নানা রকম রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার আয়োজন থাকে। তবে অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশের রাজধানী ডারউইনে অবস্থিত ‘ক্রোকোসাউরাস কোভ’ পার্কে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের জন্য এমন একটি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার ব্যবস্থা করেছে যা রীতিমতো পিলে চমমে যাওয়ার মতো। পার্কে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের জন্য কর্তৃপক্ষ বিশাল আকৃতির একটি কুমিরের সাথে সাঁতারের ব্যবস্থা করেছে। যে কেউ একশত তিন পাউন্ডের বিনিময়ে হিংস্র এই প্রাণীটির সাথে আধা ঘণ্টা সাঁতারের এক বিরল অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। তবে কুমিরটি পর্যটকদের যেন কোনো প্রকার ক্ষতি করতে না পারে সে জন্য কর্তৃপক্ষ একটি ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছে। সাঁতার কাটার সময় কুমিরটি পানিতে উন্মুক্ত থাকলেও যারা সাঁতারে অংশগ্রহণ করবে তাদের একটি প্লাস্টিকের খাঁচার মাধ্যে রাখা হবে। ‘কেজ অব ডেথ’ বা ‘মৃত্যু খাঁচা’ নামের এই খাঁচার মধ্যে একসাথে সর্বোচ্চ দুইজন সাঁতার কাটতে পারবেন।
সাঁতার কাটার সময় কুমিরটিকে বিশেষ ব্যবস্থায় মাংস বা মাছ খাওয়ানো হয় যাতে কুমিরটি পর্যটকদের খাঁচার আশেপাশে ঘোরাঘুরি করে এবং তাদের মনে হয় তারা কুমিরটির সাথে উন্মুক্ত পানিতে সাঁতার কাটছে। কুমিরের সাথে সাঁতার কাটার এই ব্যবস্থাটি পর্যটকদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছে। জার্মান পর্যটক নেইল উইন্টারস বলেন, ‘এটা দারুণ এক অভিজ্ঞতা, তবে ভীতিকরও বটে। পানির নিচে ষোল ফুট দীর্ঘ বিশাল আকৃতির কুমিরটি যখন আপনার খাঁচার চারপাশে ঘুরে বেড়াবে তখন মনে হবে এটা আপনাকে খেয়ে ফেলবে। প্রচ- ভয়ের সাথে আপনি অবশ্যই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ