ঢাকা, বুধবার 25 October 2017, ১০ কার্তিক ১৪২8, ৪ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাচ্চার শ্বাসনালীতে কিছু আটকে গেলে ঘাবড়াবেন না

বাচ্চাদের একটা অভ্যেস আছে যে হামাগুড়ি দিতে দিতে বা নতুন চলতে শিখলে হাতের কাছে যা পাবে, সেটা নিয়েই আগে মুখে দেওয়া। আর মায়ের যদি সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি না দেন, তাহলে তা শ্বাসনালীতে আটকে গিযে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। কাজেই একটু চোখে চোখে রাখতে হবে। আচমকাই যদি খেনে বাচ্চার কাশি শুরু হল, কিংবা বিষম খেল, তাহলে কারণটা অনুসন্ধান করার চেষ্টা করুন, আশপাশটা ভালো করে দেখুন, কোথাও অগোছালো দেখলেই ভাববেন নির্ঘাৎ বাচ্চা ছোট কিছু মুখে দিয়েছে যা তার গলায় আটকেছে। এক্ষেত্রে বাচ্চার মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা বের হতে পারে, ক্রমাগত কাশি হতে থাকবে, তবে জ্বর থাকবে না। আর শ্বাসনালীতে যদি সেরকম কিছু আটকে শ্বাস চলাচলের পথ পুরো অবরুদ্ধ হয়ে যায়, তাহলে কিন্তু বাচ্চার দম আটকে আসতে পারে।
সঙ্গে সঙ্গে যা করবেন- ১) প্রথমে শিশুকে একটু ভুলিয়েভালিয়ে ওর মুখটা ধীরে ধীরে খোলার চেস্টা করুন, মুখে যদি কোনও কিছু আটকে যায়, তাহলে খুব সাবধানতার সঙ্গে সেটাকে বের করে আনার চেষ্টা করুন। তবে বের করতে না পারলেও খুব খোঁচাখুঁচি করবেন না, এতে যদি জিনিসটা আরও ভিতরে চলে যায়, তাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তখন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ কিংবা ইএনটি বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে গিয়ে জিনিসটা যত দ্রুত সম্ভব বের করাতে হবে। ২) বাচ্চার যদি ক্রমাগত কাশি হয়, তাহলে ভুলেও জল খাওয়াবেন না, কেননা কাশি বা কমির সঙ্গে অনেকসময় আটকে যাওয়া জিনিসটা বেরিয়ে আসে। ৩) শিশুর যদি শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, তাহলে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে হাসপাতালের দিকে রওনা দিন আর পুরো পথটা ওর পিঠে মালিশ করুন হাত দিয়ে, যাতে সাময়িক হলেও স্বস্তিÍ মেলে। ৪) বাচ্চার বয়স যদি এক বছরের কম হয়, তাহলে একটি বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। চেয়ারের ওপর বসে শিশুকে আপনার কোলের উপর আড়াআড়িভাবে শুইয়ে মাথা ঝুলিয়ে দিন। এরপর শিশুর পিঠের মাঝখানে হাতের তালুর নীচের অংশ দিয়ে চার-পাঁচবার চাপড় মারুন। একবারে না হলে আবার পদ্ধতিটি রিপিট করুন। এতে মুখ দিয়ে বস্তুটি বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ৫) বাচ্চা যদি আর একটু বড় হয়, তাহলে শিশুর পিছনে দাঁড়িয়ে বগলের নীচে দুই হাত ঢুকিয়ে জাপটে ধরার ভঙ্গিতে শিশুর পেটের ওপরের অংশ বরাবর আপনার হাত রাখুন। এরপর এক হাত মুষ্টিবদ্ধ করে শিশুর বুকের পাঁজরের শেষে রাখুন। এবার অন্য হাত দিয়ে শক্ত করে এই হাতের কবজি ধরে রাখুন, দুই হাত দিয়ে ওপর ও ভেতর দিক বরাবর শিশুর পেটে জোরে চাপ দিন পাঁচবার, কিন্তু এটা করতে করতে যদি জিনিসটা বের না হয় বা শিশু জ্ঞান হারিয়ে ফেলে তাহলে মাউথ টু মাউথ ব্রিদ করুন, যাতে ওর শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি না হয় এবং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
৬) এইরকম দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য সবার আগে প্রয়োজন সতর্কতা। তাই ছোট পুঁতি, প্লাস্টিকের জীবজন্তুওয়ালা খেলনা, বোতাম, ফলের বিচি বাচ্চার নাগালের মধ্যে রাখবেন না। আর ওদের পোশাক নির্বাচনের সময় পুঁতি লাগানো কোনও মেটেরিয়াল কিনবেন না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ