ঢাকা, বুধবার 25 October 2017, ১০ কার্তিক ১৪২8, ৪ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

একষট্টি মিনিট সমান এক মিনিট হওয়ার গল্প বলি...

মহিউদ্দিন নোমান : আমরা যখন আমাদের দাদা-দাদী, নানা-নানী কিংবা আত্মীয়স্বজন যারা বয়সের ভারে নূয়ে পড়ছে তাদের কাছে গল্প বলার জন্য আবদার করি, তখন তারা সেকেলে এমন কিছু গল্প বলেন যা কিনা এখন কল্পনাও করা যায় না। অথচ তারা সেগুলো গর্বের সাথে বলেন। মাঝে-মাঝে আমরাও এমন কিছু ঘটনা বা বস্তু দেখি যা কিনা দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো। এমনকি আমরা অনেকেই ভাবি এসব গল্প আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম অর্থাৎ তিন পুরুষের শেষ পুরুষের কাছে বললে তারাও শুনে খুব আনন্দ পাবে। তেমনি ঘটনাবহুল একটি দিন ৩১ ডিসেম্বর ২০০৯! অন্যান্য দিনের মতো সূর্যোদয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। তবে কুয়াশাচ্ছন্ন থাকায় সূর্যের দেখা পেতে কিছুটা সময় লেগেছে। তাতে কি, দিনটা যে বছরের শেষদিন। শুধু বছরের শেষদিন নয় দশকেরও শেষদিন তাই দিনের আমেজটাও ছিলো এ অন্যান্য দিনের তুলনায় একটু ভিন্ন।
দিনের আলো নিভলেই শুরু হতে ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’! আর ‘থার্টি ফাস্ট নাইট’-এর ক্ষেত্র যে কোন বিষয়কে ইনফিনিটিভ। বললেও হয়তো ভুল বলা হবে না। কেননা এ রাতে পুরাতন বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণ করে নেয়ার নামে হৈ-হুল্লোড় আর হাসি-আনন্দ থেকে শুরু করে বেহায়াপনা-বেলেল্লাপনা, মদপান, জুয়ার আসরসহ নানান অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয় আমাদের তরুণ সমাজ। এসব কাজে অভিজাত এলাকার তরুণ-তরুণীরাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করে থাকে।
এসব গল্প অনেক পুরাতন। এগুলো এখন আর বলার প্রয়োজন পড়ে না। পাঠক হয়তো ভাবছেন, আমি কি এমন গল্পই পরবর্তী প্রজন্মকে গর্বভরে বলার কথা বলছি? না! তা নয়! আমি গল্প বলছি ২৫ ঘণ্টার এক দিনের! আমি বলছি ১৮১ মিনিটে দুই ঘণ্টা হবার গল্প। আমি বলছি একই ঘরে ঘণ্টার কাঁটা দিনে ৩ বার আক্ষর গল্প (১১৮/-)। আমি বলছি ৬১ মিনিট সমান ১ মিনিট হবার গল্প। আমি বলছি ৩৬৬০ সেকেন্ডে ১ মিনিট হবার গল্প। কি অভাব হয়েছেন! অবাস্তব মনে হলেও এটাই সত্যি। আর এ সব কিছুর সাক্ষী হলো গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর দিনটি। তাহলে গল্পটি বলছি গ্রীষ্মকালে দিনের আলোর ব্যবহার বাড়িয়ে পিক আওয়ার অর্থাৎ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১৯ জুন রাত ১১ টার ঘড়ির কাঁটা একঘণ্টা এগিয়ে ১২টা করা হয়েছিল।
এতে করে ভালো-মন্দ দুটোই হয়েছিল। তবে বর্তমান সময়ে অর্থাৎ শীত মৌসুমে ভালোর চেয়ে মন্দের মাত্রা একটু বেশিই ছিল। যে কারণে তা আবার পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং ৩১ ডিসেম্বর তা কার্যকর করা হয়। এ দিন ঘড়ির কাঁটা ১৯৮/- ৫৯ মিনিটে এক ঘণ্টা পিছিয়ে ১০টা ৫৯ মিনিট করে। যাতে পূর্বের সময় অর্থাৎ গ্রিনিচ মান সময়+ ৬ঘণ্টা বহাল থাকবে। এর ফলে ৩১ ডিসেম্বর দিনটি হয় ২৫ গণ্টার দিন! রাত ১০টা থেকে ১২টা বাজতে সময় লেগেছে ১৮০ মিনিট অর্থাৎ দুই গণ্টা সমান ১৮০ মিনিট!! আবার ১১৮/- ৫৯ মিনিট থেকে ১২টা বাজতে সময় লাগে ৬১ মিনিট অর্থাৎ ৩৬৬০ সেকেন্ড!!!
হ্যাঁ: সত্যিই মনে রাখার মতো গল্প। তবে এখন থেকে গ্রীষ্মকালে দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি বছর ৩১ মার্চ রাত ১০০/- ৫৯ মিনিটে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে দিয়ে ১১টা ৫৯ মিনিট করা হবে। যাতে গ্রিনিচ মান সময়ের সাথে সাত ঘণ্টা যোগ করে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সময় গণনা করা হবে। এ সময় ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বলবত থাকবে। অর্থাৎ এদিন দিবাগত রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে ঘড়ির কাঁটা আবার এক ঘণ্টা পিছিয়ে ১০টা ৫৯ মিনিট করা হবে। যা গ্রিনিচ মান সময় থেকে ছয় ঘণ্টা কম হবে। অর্থাৎ গ্রিনিচ মান সময়ের সাথে ছয় ঘণ্টা যোগ করে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সময় গণনা করা হবে। এ সময় পরবর্তী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বলবত থাকবে।
বাংলাদেশে মূলত বিদ্যুৎ ও জ্বালান সাশ্রয়ের লক্ষ্যেই এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এটা বাস্তবতায় কতটা সফলতার মুখ দেখেছে তা আমাদের অজানা নয়। তবে একটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকবো আমরা। গর্ব করে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে বলতে পারবো এমন গল্প। ‘আমরা দেখেছি ২৫ ঘণ্টায় ১ দিন! আমরা দেখেছি ৩৬০০ সেকেন্ডে এক মিনিট হয়!! আমরা দেখেছি ৬০ মিনিট সমান এক মিনিট হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ