ঢাকা, বুধবার 25 October 2017, ১০ কার্তিক ১৪২8, ৪ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মার্কিন সেনাবাহিনীতে আত্মহত্যার প্রবণতা

মোহাম্মদ আবদুস সালিম : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নানা ধরনের ভারসাম্যহীনতা ক্রমে বেড়েই চলেছে। দেশটির প্রশাসনেও নানা ধরনের অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। এ থেকে বাদ যায়নি মার্কিন সেনাবাহিনীও। বর্তমানে গণমাধ্যম এসব খবর অনেক বেশি করে প্রচার করছে যা দেশটির উন্নয়নের পথে ব্যাপক বাঁধা বলেই মনে হয়। সমাজে নানা ধরনের অস্থিরতা বা অস্থিতিশীল- তার কারণে কমবেশি আত্মহত্যার খবর হতে পারে, তাই বলে সেনাবাহিনীতে নিশ্চয় এ ধরনের প্রবণতা মোটেও শুভ ফল বা পরিণতি বয়ে আনবে না। আগে মার্কিন বাহিনীকে কমবেশি অস্থিরতার খবর জানা গেলেও বর্তমানে তা যেন চরমে ওঠেছে। আর তা হচ্ছে মার্কিন সেনাবাহিনীতে আত্মহত্যার প্রবণতা। এত বড় একটি দেশের রক্ষাকবচ সেনাবাহিনীতে যদি আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ে তবে বুঝতে হবে যে, দেশটির প্রশাসনের উচ্চ বা শীর্ষ পর্যায়ে ঘূণে ধরেছে। একটি সূত্রে জানা গেছে চলতি ২০০৯ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ৮৮টি। প্রায় বছর দুই আগে অর্থাৎ ২০০৭ সালের একই সময়সীমার মধ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীতে আত্মহত্যার সংখ্যাছিল ৬৭টি। অর্থাৎ দুই বছরের মধ্যে তাদের আত্মহত্যার সংখ্যা বেড়েছে ২১টি। এতে ধারণা করা হচ্ছে, আগামীতে এ ধরনের প্রবণতা আরো বেড়ে যাবে।
মার্কিন সেনাবাহিনীতে আত্মহত্যার প্রবণতার আসল কারণ হচ্ছে উক্ত বাহিনীর লোকজনের মধ্যে ব্যাপক হতাশা নেমে আসা। এর মূল কারণ কর্মক্ষেত্রে স্বাধীনতা না থাকা বা কাজের অতিরিক্ত চাপ। বিশেষ করে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এ সংক্রান্ত নানা অস্থিরতা দেখা দিতে শুরু করে। তখন সংশ্লিষ্ট অনেকে বলেছিলেন, সামনে এমন দিন আসবে যখন মার্কিন সেনাবাহিনীর মধ্যেও চরম অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তা দেখা দেবে। শেষ পর্যন্ত তাদের ভবিষ্যদ্বাণী যেন বাস্তবে রূপ নিলো। যা অনেকেরই কাম্য ছিল না।
ইরাকে আগ্রাসনে অনেক মার্কিন সেনা সদস্যকে দিন-রাত কাজ করতে হয়েছে। তার ওপরে ছুটি ভোগেও অনেক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এদের অনেকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য প্রিয়জন বা আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখাও করতে পারছে না। অনেকে ভেবেছিলেন, ইরাকে মার্কিন আগ্রাসন কমে যাওয়াতে আত্মহত্যার প্রবণতা কমবে, কিন্তু তা যেন আরো বেড়ে গেছে। এর কারণ হচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের ওপর আগ্রাসী কার্যক্রম হ্রাস করলেও অন্যান্য দেশে তা কমবেশি অব্যাহত আছে। আর ইরাক থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের বিষয়টি যদি শুধুই আইওয়াশ হয় তবে তো তাদের কাজের চাপ হ্রাস না পাওয়ারই কথা। নানা চাপে মার্কিন বাহিনীর অনেকেই মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে। যার পরিণতিতে অনেকে মহা পাপের এই আত্মহত্যার পথই বেছে নিচ্ছে।
তাছাড়া আত্মহত্যার ঘটনা নানা প্রশ্নে জন্ম দিচ্ছে। যার ফলে জর্জরিত হচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। সম্প্রতি পেন্টাগণের বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে একটি সূত্র জানিয়েছে, উল্লেখিত ৮৮টি আত্মহত্যার ঘটনার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে ৫৪টি সম্পর্কে। আর তদন্ত চলছে ৩৪টি আত্মহত্যার ঘটনা। এদিকে সেনাবাহিনীতে আত্মহত্যা প্রতিরোধে গঠিত টাস্কফোর্স সূত্রে বলা হয়েছে, আত্মহত্যার ন্যক্কারজনক ঘটনা যুদ্ধক্ষেত্রে ১৮ থেকে ২৭ বছর বয়সী পুরুষ সৈনিকদের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর। তাই এখন থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আসলে উপর দিকে থুথু দিলে নিজের মুখেই পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র তেমনি অন্য দেশের পেছনে লাগতে গিয়ে নিজেরাই পড়ে গেছে নানা সমস্যার অক্টোপাসে। এজন্য তাদের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ