ঢাকা, বুধবার 25 October 2017, ১০ কার্তিক ১৪২8, ৪ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সরকারী হাসপাতালে মানুষ চিকিৎসা না পেয়ে ছুটছে স্থানীয় ক্লিনিকগুলোতে

কেশবপুর (যশোর): কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

মোল্যা আব্দুস সাত্তার, কেশবপুর (যশোর): কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেসে কর্মরত ডাক্তারদের অবহেলা, উদাসীনতা ও অর্থ বাণিজ্যের কারণে কেশবপুরের মানুষ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিমুখ হয়ে ছুটছেন স্থানীয় ক্লিনিকগুলোতে।
অর্থের মোহে এসব ডাক্তাররা বিশেষ করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশনের জন্য আসা কোন রোগীকে অপারেশন বা চিকিৎসা সেবা না দিয়ে অধিক পরীক্ষা নিরীক্ষার অজুহাতে শহরে তাদের নিজস্ব চেম্বারে নিয়ে যান। পয়সা পান না বলে ডাক্তাররা মূলত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন অপারেশন করেন না বলে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ।
কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে বর্তমানে ৮ জন ডাক্তার ও ১৯ জন নার্স এবং অপারেশনের সকল যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও কোন রোগীকে অপারেশন করা হয় না এবং স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও সেখানে মোবাইল কোর্ট তো দূরের কথা স্থানীয় প্রশাসন স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের কর্মরত ডাক্তারদের অবহেলা, উদাসীনতা ও অর্থ বাণিজ্যের ব্যাপারে নিশ্চুপ থাকায় এলাকাবাসি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য সভাপতি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সহসভাপতি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সদস্য সচিব এবং উপজেলা পরিষদের দুই জন ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অন্যান্যদেরকে সদস্য করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমিটি গঠিত হলেও এ কমিটির স্বাস্থ্য কমপে¬ক্স, ক্লিনিক ও উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্য বিষয়ক কি দায়িত্ব রয়েছে এবং পালন করেছেন তা এখানকার ৩ লাখ মানুষ জানেন না। তবে এ কমিটি গত ৪ বছরে  ৪/৫ টি সভা করেছেন বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্স সূত্রে জানা গেছে। 
যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার মধ্যবর্তী স্থান হওয়ায় কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের গুরুত্ব অপরিসীম।
পশ্চিমে কলারোয়া, দক্ষিণে ডুমুরিয়া ও তালা, উত্তরে মনিরামপুর উপজেলার অবস্থান সন্নিকটে হওয়ায় এ ৪ টি উপজেলার অধিকাংশ দরিদ্র শ্রেণীর মানুষের চিকিৎসা ও অপারেশনের জন্য কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে আগমন ঘটে। কিন্তু এখানে ভাল চিকিৎসা সেবা ও অপারেশন না হওয়ায় তারা কম খরচে শহরের ৭ টি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন ও অপারেশন করিয়ে থাকেন।
ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধি এবং ঔষধের দোকানগুলি থেকে অবাক হবার মত তথ্য পাওয়া গেছে। ৭১টি ঔষধ কোম্পানীর প্রতি মাসে কেশবপুর শহরের ঔষধের দোকানগুলিতে বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা থাকে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং তা পুরন হয় প্রতিমাসে।
বিক্রয় প্রতিনিধিদের তথ্যে আরও জানা যায় অনেক মাসে চাহিদা মাফিক ঔষধ তারা সরবরাহ করতে পারেন না।
মহাকবি মাইকেল ক্লিনিকের মালিক ও ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি নাসির উদ্দীন গাজী জানান, কেশবপুরের ক্লিনিকগুলোতে কম খরচে যে সব অপারেশন করা হয় তা অন্য কোথায়ও সম্ভব হবে না। যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরা থেকে সার্জন এনে ক্লিনিকগুলোতে রুগী অপারেশন করা হয়। সকল ক্লিনিক মালিকরা ডাক্তার ও নার্স নিয়োগের জন্য পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েও কোন এমবিবিএস ডাক্তার ও নার্স পাচ্ছেন না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শেখ আবু শাহীন জানান, এ স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে কনসালটেন্ডসহ ৩২ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও ইউনিয়নসহ আছে ১২ জন। জনবল সংকট এবং সার্জন না থাকায় অপারেশন করা হয় না।
কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানূর রহমান জানান, চিকিৎসক সংকটে স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে অপারেশন বন্ধ রয়েছে। তবে দুই এক দিনের মধ্যে ৩ জন চিকিৎসক যোগদান করবেন। তখন হয়ত অপারেশন করা হবে।
কেশবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এইচএম আমীর হোসেন জানান, জনবল সঙ্কটের কারণে কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে স্বাস্থ্য সেবা একেবারে ভঙ্গুর।
২০০০ সালে স্বাস্থ্য কমপে¬ক্স ৫০ শর্য্যায় উন্নীত হওয়ার পর মনে হয়েছিল এখানকার মানুষ ভাল স্বাস্থ্য সেবা পাবেন কিন্তু এখানে কোন কনসালটেন্ট, সার্জনকে নিয়োগ না দেয়ায় মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ