ঢাকা, বুধবার 25 October 2017, ১০ কার্তিক ১৪২8, ৪ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গ্রীষ্মকালিন টমেটো চাষে পাইকগাছার শহিদুলের সাফল্য

খুলনা অফিস: খুলনার পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নে সোনাতনকাটি গ্রামে গ্রীষ্মকালীন বারী-৪ জাতের টমেটো চাষে সফলতা অর্জন করেছেন স্থানীয় কৃষক শহিদুল গাজী (৫০)।
নিজের ৫০শতক জমিতে চাষ করেছেন বারী-৪ জাতের গ্রীষ্মকালিন টমেটো। ভোলা গাজীর ছেলে কৃষক শহিদুল গাজী জানান, তিনি মোট ছয় হাজার পাঁচশ’ চারা রোপণ করে ছিলেন, বেশ কিছু নষ্ট হয়ে বর্তমানে প্রায় ছয় হাজার চারা অবশিষ্ট রয়েছে। প্রতিটি টমেটো গাছকে তিনি বাঁশের চটা দিয়ে সোজা করে বেঁধে দিয়েছেন। যাতে টমেটোর গাছ ঝড়-বৃষ্টিতে মাটিতে পড়ে না যায়। উপরে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন, যাতে অতিরিক্ত গরম ও বৃষ্টি থেকে রক্ষা পায়।
কৃষক শহিদুল গাজী ও তার স্ত্রী নাছিমা খাতুন জানান, একই জমিতে এ বছর মোট দুই বার গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চাষ করেছি। প্রথমবার বাঁশের চটা ও উপরে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে অতিরিক্ত খরচ হয়েছিল। দ্বিতীয় বার এই পর্যন্ত সব মিলিয়ে তাদের খরচ হয়েছে ৪৬ হাজার টাকার একটু বেশী। শ্রাবনের মাঝামাঝিতে দ্বিতীয়বার চারা রোপণ করেন, বর্তমানে টমেটো গাছের বয়স ৯০ দিন হয়েছে।
দ্বিতীয়বার এ পর্যন্ত মোট ৮২ মণ টমেটো বিক্রয় করেছেন। যার বাজার মূল্য গড়ে ৫৫ টাকা কেজি দরে আনুমানিক মূল্য এক লক্ষ ৮০ হাজার টাকা।
তিনি বলেন, প্রথমবারের তুলনায় দ্বিতীয়বার রোগবালাইয়ের আক্রমন একটু বেশী হয়েছে। বিশেষ করে ছত্রাকের আক্রমণ বেশী, পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে তাদের সঠিক পরামর্শে টমেটো গাছের রোগ-বালাই প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।
সামনে বড় ধরনের কোন ক্ষয়-ক্ষতি না হলে এখনো প্রায় ১২০ দিন গাছে টমেটো ধরবে। বাকী দিনগুলী যদি প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগে বড় ধরনের ক্ষয়-ক্ষতি না হয় তাহলে চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকার টমেটো বিক্রয় হবে। তিনি আরো জানান, প্রতিদিন দুইজন শ্রমিক তার টমেটো ক্ষেতের নিয়মিত পরিচর্যা করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন। তাছাড়া তার স্ত্রী নাছিমা খাতুন ও ছেলে তার সাথে সকাল-বিকেল এই টমেটো ক্ষেত দেখাশুনা করেন।
পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ, এইচ,এম জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমি কৃষক শহিদুল গাজীর টমেটো ক্ষেত পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। অসময়ে তার এই টমেটো চাষ দেখে এলাকার অনেক কৃষক অনুপ্রাণিত হবে। গ্রীষ্মকালীন টমেটো বারী-৪ ,খুবই ভাল জাতের টমেটো। চারার বয়স ১৫ দিন হলে এটি রোপণ করতে হয়। রোপণের ৩০থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে ফুল আসে এবং ফল ধরে। ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মাথায় ফল তোলা যায়। এটি অসময়ে চাষ হওয়ার ফলে কৃষকরা বেশি-বেশি দাম পায়,যার ফলে অধিক লাভবান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ