ঢাকা, বুধবার 25 October 2017, ১০ কার্তিক ১৪২8, ৪ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পানির নিচে আমন ধান, সবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, দিশেহারা কৃষকরা

মিরসরাইয়ে ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ফসল

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা: নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাতে আমন ধান ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখনো পানির নিচে রয়েছে শত শত একর জমির ধান। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন।
উপজেলার ১নং করেরহাট, ২ নং হিঙ্গুলী, ৫ নং ওছমানপুর, ৮ নং দুর্গাপুর, ১২ নং খেয়াছড়া, ১৫ নং ওয়াহেদপুর ইউনিয়নে আমনের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে বলে জানা গেছে। গাছপালা উপড়ে ও বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে দিনভর শনিবার বিদ্যুতহীন ছিল পুরো উপজেলা। ১নং করেরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন জানান তাঁর নিজ এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের প্রতি তাঁর পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা থাকবে। এছাড়া উপজেলার সর্বত্র কম বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর জানা গেছে।
বিভিন্ন সবজি ক্ষেত ঘুরে দেখা গেছে, বরবটি, শীম, লাউ, চিচিঙ্গা, করলা, খিরা, টমেটো, ঢেঁড়শ, ঝিঙ্গাসহ সব সবজি ক্ষেতে ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া আমান ধানেরও ক্ষতি হয়েছে। বরবটি চাষ করা কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, মাত্র কয়েকদিন তুলে বরবটি বাজারে বিক্রি করেছি। ভালোই দাম পাচ্ছিলাম। কিন্তু হটাৎ ঘূর্ণিঝড় পাহাড়ি ঢলে বরবটির সব খুঁিট ভেঙ্গে গিয়ে মাটির সাথে মিশে গেছে।
টানা দুদিনের টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিচু এলাকার আমনের চারায় ব্যাপক ক্ষতি ও আগাম রোপন করা আমনের অপুরনীয় হয়ে গেল। মৌসুমী সবজি চাষীরা কেউ কেউ জমি প্রস্তুত করেছে, কেউ মাত্র চারা রোপণ করেছে, বিশেষ করে সিম বেগুন অনেকেই লাগিয়ে ও ফেলেছে। সেসব জমিতে ও এখন পানি  থৈ থৈ হয়ে গেছে।
করেরহাট এলাকার কৃষক বিধান নাথ জানান, আমাদের এলাকায় আমনের আগাম চাষ হয়। কিন্তু দু’দিনের বর্ষণে ফুল ধরে আসা অনেক ধান শুয়ে যাওয়ায় ফলন অর্ধেকেই নেমে আসবে। আবার টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকলে তা শূন্যের কোটায় ও পৌঁছাবে। তবে মৌসুমি সবজির বিষয়ে কৃষকরা বলে এখনো মৌসুমী সবজি আবাদের যথেষ্ট সময় হাতে থাকায় সেটির চেয়ে আমনের বিষয়েই উদ্বিগ্ন সকলে।
জানা গেছে, দেশের ৬ষ্ঠ সেচ প্রকল্প মুহুরী প্রজেক্টে স্লুইস গেইটের প্রায় ২০টি গেইট বন্ধ থাকার কারণে পানি নিস্কাসন হচ্ছেনা। এতে ওছমানপুর এলাকার কয়েকশত একর জমির আমন ধান পানির নিচে ডুবে রয়েছে। গেইটগুলো খোলা না হলে পানিতে ধানগুলো পচে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় মাছ চাষীদের কাছ থেকে টাকা খেয়ে পানি আটকে রাখে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। দ্রুত গেইটগুলো খুলে দেয়ার দাবী জানিয়েছেন ওই এলাকার কৃষকরা।
এই বিষয়ে স্লুইসগেইটের দায়িত্ব থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী নুরুল আবছার জানান, ৪০টি গেইটওে মধ্যে ২০টি গেইট খোলা রয়েছে। বন্ধ গেইটগুলো বিদ্যুৎ না থাকায় খুলে দেয়া যাচ্ছে না। তারপরও জোয়ার এলে ১০-১৫জন শ্রমিক নিয়ে গেইট গুলো খুলে দেয়া হবে।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহম্মদ জানান, এবার উপজেলায় ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদ হয়েছে। গত বছর থেকে ও ৪শত হেক্টর বৃদ্ধি পেয়ে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৪ হাজার টন চাল। গত দুদিনের আবহাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তিনি ও উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করে বলেন বিশেষ করে আগাম রোপণ করা আমনের ক্ষতি বেশী হবে। আর একে ১৫ শতাংশ ফলন কমে যেতে পারে। পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতি আর হবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ