ঢাকা, বুধবার 25 October 2017, ১০ কার্তিক ১৪২8, ৪ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাজনৈতিক ঐক্য গঠনে সরকার ব্যর্থ -আলাল

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ যুব কল্যাণ পার্টি আয়োজিত রোহিঙ্গা মানবিক বিপর্যয় ও আমাদের করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহীম বীরপ্রতীক -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা মোকাবেলায় দেশের সকল রাজনৈতিক দল, সমগ্র দেশবাসী এককাতারে শুধুমাত্র সরকার ছাড়া। সরকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐক্য গঠনে ব্যর্থ হয়েছে। তারা নিজেরাই ঐক্যের পরিবর্তে বিভেদের রাজনীতিতে লিপ্ত। ফলে সংকট আরো বেশী ঘনিভূত হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ যুব কল্যাণ পার্টির আয়োজনে ‘রোহিঙ্গা, মানবিক বিপর্যয় ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যুব কল্যাণ পার্টির সভাপতি যুবায়েরুল হক ভুইয়া নাহিদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব  সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, কল্যাণ পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নুরুল কবির ভুইয়া পিন্টু, বিএফইউজে'র সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট সাইফুর রহমান, কল্যাণ পার্টি ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান তামান্না,  সৈয়দ নজরুল ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব আল আমিন ভুইয়া রিপন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা নাসির আল মামুন, রফিকুল ইসলাম কিরন, শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।
সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, বেগম জিয়ার কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে চাই, জাতীয় ঐকমত্যের রূপরেখা  তৈরি করে আন্তর্জাতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। ভারতকে বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র বলা হয়, কিন্তু রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে ভারত বাংলাদেশের বন্ধু থাকতে ব্যর্থ হয়েছে। রোহিঙ্গাদের বোঝাতে হবে, এ দেশে তোমাদের থাকা চলবে না, ফিরে যেতে হবে।
মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর হাতে নির্বিচারে গণহত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও বিতাড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন রোহিঙ্গারা। এ সমস্যা সমাধানে জাতীয় ঐক্য এখন সময়ের দাবি। সরকার যদি জাতীয় ঐক্য করতে ব্যর্থ হয় তাহলে এর ফল ভাল হবে না।
ইবরাহিম বলেন, মিয়ানমার সরকার ও  সেনাবাহিনী  সেখানকার আরাকান রাজ্যের নাগরিক রোহিঙ্গাদের হত্যা, নির্যাতন, বসত বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণ করে মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছে।
তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা এসব অসহায়, সহায়-সম্বলহীন মানুষ বাংলাদেশে এসেও খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিনাতিপাত করছে। যা প্রতিদিন মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে।
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, রোহিঙ্গারা আসার পর বর্তমান সরকার প্রথম পাঁচ দিন তাদের পুশব্যাক করে ফেরত পাঠাতে চেয়েছিল। তারা মানবিক দিক চিন্তা করেন। পরে লন্ডন থেকে বেগম খালেদা জিয়া আহ্বান জানানোর পর তারা রোহিঙ্গাদের অশ্রয় দিতে শুরু করে। রোহিঙ্গাদের প্রশ্নে এ সরকার ব্যর্থ ও দুর্বল। প্রধানমন্ত্রী এখন রোহিঙ্গাদের প্রতি দরদ দেখাচ্ছেন আরেকটি পুরস্কারের আশায়।
তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে এবং নাগরিকত্বের স্বীকৃতি দিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে জাতিসংঘের প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, চীন, রাশিয়া ও ভারত মিয়ানমারে তাদের ব্যাপক বিনিয়োগের স্বার্থে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সহমর্মিতা প্রকাশ করলেও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে আগ্রহী নয়।
আলাল বলেন, রহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য সরকার তা করতে পারছে না। আর এ জন্য দায়ি সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি। কূটনীতিতে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। সরকার আভ্যন্তরিনভাবে জাতীয় ঐক্য গঠনেও ব্যর্থ। ফলে সরকার বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরো বলেন, রহিঙ্গা সমস্যাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের সরকারের অপকৌশল বুমেরাং হতে পারে।  মনে রাখতে হবে বর্তমান সরকারের আইনগত ও নৈতিক ভিত্তি খুবই দুর্বল। আর এই কারনেই আমরা ক্রমেই বন্ধুহীন হয়ে পড়ছি।
গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, আমাদের ভাবতে হবে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি এখানে আরেকটা প্যালেস্টাইন তৈরি করবার কাজ শুরু করছে কি না ? সুতরাং, রোহিঙ্গা নিয়ে কোনো রাজনীতি করতে চাই না। সরকারের উচিত এই বিষয়ে অবিলম্বে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করা। এই বিষয়ে দেশের সকল রাজনৈতিক দল এক সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বলে আমরা বিশ্বাস করি।
শহীদুল ইসলাম বলেন, দেশ এখন বিপর্যস্ত। দেশের সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস প্রায়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বলতে কিছুই নাই। হত্যা-গুম-খুনের রাজ্যে পরিণত হয়েছে সমগ্র রাষ্ট্র। এ অবস্থায় একটি দেশ চলতে পারে না। অবৈধ ও অনির্বাচিত এই সরকারের পতন ঘটিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সমালোচনা করে বলেন, রোহিঙ্গা প্রশ্নে সুষমার বক্তব্য বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। একদিকে ভারত সরকার মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন বাংলাদেশের পাশে থাকবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ