ঢাকা, বুধবার 25 October 2017, ১০ কার্তিক ১৪২8, ৪ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রামে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে যুবলীগ কর্মী কাকন মল্লিক নিহত

চট্টগ্রাম অফিস: চট্টগ্রামে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত যুবলীগ কর্মী কাকন মল্লিকের (২৬) মৃত্যু হয়েছে। গতকাল  মঙ্গলবার ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। কাকন চান্দগাও বাহির সিগন্যাল এলাকার নেপাল মল্লিকের ছেলে সে যুবলীগ কর্মী। 
ছাত্রলীগযুবলীগ নেতাকর্মীরা জানান, গত ২২ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭ টায় চট্টগ্রাম নগরীর ৪নং চাঁন্দগাও ওয়ার্ডস্থ বাহিরসিগন্যাল ওয়েল টাওয়ারের সামনে বেশ কয়েকজন দুর্বৃত্ত চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সদস্য আলাউদ্দিন বাবুর উপর হামলা চালায়। হামলার এক পর্যায়ে বাবুর সাথে থাকা বেশ কিছু ছাত্রলীগ ও যুবলীগকর্মী দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ৪ জন কর্মীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ অক্টোবর মধ্যেরাতে যুবলীগ কর্মী কাকন মল্লিক মৃত্যু বরণ করেন। অন্যরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের কাজুয়েলিটি ওয়ার্ডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
চমেক পুলিশের এএসআই মো. আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, দুইদিন আগে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে কাকন মল্লিক গুরুতর আহত হয়। তার বুকের বামপাশে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোরে তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। কাকন যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
চট্টগ্রাম মহানগরীর আওতাধীন ৪নং চাঁন্দগাও ওয়ার্ড যুবলীগ কর্মী কাকন মল্লিক হত্যার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় নগরী প্রবর্তক মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ করেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।
চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ সদস্য সাখাওয়াত হোসেন সাকুর সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ সদস্য আলাউদ্দীন বাবুর সঞ্চালনায় উক্ত মিছিলোত্তর সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী যুবলীগের সদস্য হাসান মুরাদ বিপ্লব, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আনোয়ারুল ইসলাম বাপ্পি, হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য কে.এম. শহিদুল কাউসার, নগর যুবলীগের সদস্য খোরশেদ আলম রহমান, মিনহাজ আবেদীন সায়েম, শহীদুর রহমান, সাবেক ছাত্রনেতা সাইফুদ্দীন আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আব্দুর রশিদ লোকমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইয়াছির আরাফাত, প্রমুখ। মিছিলোত্তর সমাবেশে বক্তারা বলেন, এ ঘটনায় যারা জড়িত সে সব চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে প্রশাসনের নিকট গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানানো হয়।
চট্টগ্রামে লাশের রাজনীতিতে আগামী রাজনীতির অশুভ লক্ষণ নগরীর সুস্থ রাজনীতিকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত করতে একটি গোষ্ঠী একের পর এক হত্যাকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। মহানগর ছাত্রলীগের সদস্য নাছিম আহমেদ সোহেল হত্যার এখনো পর্যন্ত সুষ্ঠু বিচার পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের নিকট নাছিম আহমেদ সোহেল হত্যার ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছেন। যার ফলে পরবর্তীতে একের পর এক হত্যাকান্ড চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা ঘটিয়ে যাচ্ছে। যা ছাত্র রাজনীতি হুমকির মুখে। এধরণের হত্যাকান্ড চললে আগামীতে মেধাবী ছাত্ররা ছাত্র রাজনীতিতে এগিয়ে আসবে না। অবিলম্বে সকল হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ