ঢাকা, বুধবার 25 October 2017, ১০ কার্তিক ১৪২8, ৪ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দুদকের অনুসন্ধান চলছে ধীরগতিতে

স্টাফ রিপোর্টার : নোটিশ দেয়ার সাত বছরেও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দেয়া নোটিশ বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখার কারণ জানতে চেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। দুদকের অনুসন্ধানের কাজ দ্রুত গতিতে নয়, ধীরগতিতে চলছে বলেও মন্তব্য করেছেন আদালত।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীনের সম্পদের অনুসন্ধান নিরুৎসাহিত করে সুপ্রিম কোর্টের দেয়া চিঠির বৈধতা নিয়ে জারি করা রুলের শুনানিতে এ মন্তব্য করে হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রুলে শুনানি হচ্ছে।
শুনানিতে দুদকের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, ২০১০ সালের ঘটনা তখনই সুপ্রিম কোর্টের কাছে তথ্য চাইতে পারতেন। কিন্তু তা না করে সাত বছর পর কেন দুদক তথ্য চাইল।
দুদকের তথ্য ফরমে থাকা চারটা ক্লজ (৬, ৭, ১১, ১২) নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালত বলেন, এটা কতটা বাস্তবসম্মত? একজন মানুষের দৈনন্দিন বাজারের তালিকাও কি লিখে রাখা সম্ভব? ওই ক্লজগুলোতে হিসাবদাতার প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সন্তানের লেখাপড়ার যাবতীয় হিসাবের তথ্য দিতে হয়।
আদালতে সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এবং সুপ্রিম কোর্টের চিঠি আদালতের নজরে আনা আইনজীবী বদিউজ্জামান তরফদার শুনানি করেন।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবারের শুনানিতে দুইজন এমিকাস কিউরি আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী ও বারের সাবেক সম্পাদক এ এম আমিন উদ্দিন তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। পরে আদালত এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মুলতবি করেন।
ওইদিন এমিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি জয়নুল আবেদীন তার বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।
শুনানির পর দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের নিয়োগ দেয়া তিনজন এমিকাস কিউরির বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য আজ (গতকাল মঙ্গলবার) তারিখ ধার্য ছিল। এর মধ্যে দুইজন এমিকাস কিউরি তাদের বক্তব্য দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রবীর নিয়োগী তার বক্তব্যে বলেছেন, বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের দুর্নীতি অনুসন্ধান বন্ধে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন যে চিঠি দিয়েছেন তা আইনবহির্ভূত। সুপ্রিম কোর্ট এ ধরনের কোনো চিঠি দিতে পারে না।
খুরশীদ আলম খান বলেন, আদালত তার কাছে জানতে চান, সুপ্রিম কোর্টের চিঠির বিষয়ে হাইকোর্টের শোনার এখতিয়ার আছে কি না। তখন প্রবীর নিয়োগী বলেছেন, হ্যাঁ, এটা শোনার এখতিয়ার এ আদালতের আছে।
এর সঙ্গে সহমত পোষণ করে ঠিক একই বক্তব্য দিয়েছেন আরেক এমিকাস কিউরি এ এম আমিন উদ্দিন। তিনিও বলেছেন, এটা জুডিশিয়াল অর্ডার নয়। এটা একটা এডমিনিস্ট্রেটিভ (প্রশাসনিক) আদেশ। এটা দেয়ার এখতিয়ার সুপ্রিম কোর্টের নেই। এটি নিয়ে শুনানি করার এখতিয়ার হাইকোর্টের আছে বলেও মত দেন তিনি।
এর আগে গত ৯ অক্টোবর আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান বন্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) সুপ্রিম কোর্টের দেয়া চিঠি কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। ১৯ অক্টোবর রুলের ওপর প্রথম শুনানি হয়।
গত ২৮ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের দেয়া চিঠি হাইকোর্টের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বদিউজ্জামান তরফদার। এরপর আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন।
সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১০ সালের ১৮ জুলাই সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দেয় দুদক। বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিষয়ে অনুসন্ধানের স্বার্থে চলতি বছরের ২ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়ে চিঠি দেন দুদক। এর জবাবে গত ২৮ এপ্রিল আপিল বিভাগের তৎকালীন অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অরুণাভ চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দুদকে পাঠায় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। ওই চিঠিতে সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের কোনো রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমীচীন হবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ