ঢাকা, বুধবার 25 October 2017, ১০ কার্তিক ১৪২8, ৪ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালাফ হত্যার আপিলের পুন:শুনানি পিছিয়ে ৩১ অক্টোবর

স্টাফ রিপোর্টার : সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ আল আলী হত্যা মামলার আপিলের পুন:শুনানি পিছিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ৩১ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করেছেন। আসামীপক্ষে সময় চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন আদালত।
গতকাল মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ শুনানির নির্ধারণ করেন। এরআগে গত ১০ অক্টোবর আপিল বিভাগ ১৭ অক্টোবর শুনানির দিন নির্ধারণ করেছিলেন।
আদালতে সরকার পক্ষে ছিলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি এটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী সাইফুল ইসলামের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সিকদার মকবুল হক।
ডেপুটি এটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ সাংবাদিকদের বলেন, আপিলের সংক্ষিপ্তসার জমা না দেয়ায় আসামী সাইফুল ইসলামের আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। আদালত তা মঞ্জুর করে ৩১ অক্টোবর শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন।
গত ২০ আগস্ট আপিলের উভয় পক্ষের শুনানি শেষে গত ১০ অক্টোবর এ মামলার আপিল রায়ের দিন রেখেছিলেন সর্বোচ্চ আদালত। কিন্তু এর মধ্যে রায় প্রস্তুত না হওয়ায় এবং আপিলের শুনানিতে আসামী সাইফুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী না থাকার বিষয়টি অবহিত করে এ পর্যায়ে আইনজীবী নিয়োগের বিষয় জানানো হয়। এর প্রেক্ষিতে আদালত রায় না দিয়ে ১৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।
এ মামলায় অন্য আসামী পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মো.হেলাল উদ্দিন মোল্লা।
২০১২ সালের ৫ মার্চ রাত ১টার দিকে গুলশানের কূটনৈতিক এলাকার ১২০ নম্বর সড়কের ১৯/বি নম্বর বাসার সামনে গুলীবিদ্ধ হন খালাফ আল আলী (৪৫)। পরদিন  ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
এর কিছুদিন পর ওই বছরের ৪ জুন দক্ষিণখান থানার গাওয়াইর এলাকা  থেকে সাইফুল ইসলাম মামুন, আকবর আলী লালু ওরফে রনি ও আল আমিন নামে তিন জনকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ  থেকে কালো রঙের একটি বিদেশী পয়েন্ট ২২  বোরের রিভলবার জব্দ করা হয়। অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে ওইদিনই তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়। আসামী মামুন ও আল আমিন আদালতে স্বীকার করেন যে, ২০১২ সালের ৫ মার্চ রাতে ছিনতাই করতে বাধা দেয়ায়, তারা খালাফ আল আলীকে ওই অস্ত্রটি দিয়ে গুলী ও হত্যা করে। পরে আসামী মামুন, আল আমীন, আকবর আলী লালু ওরফে রনি ওরফিকুল ইসলাম খোকনকে খালাফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।
২০১২ সালের ৩১ অক্টোবর ওই চারজনসহ পলাতক সেলিম চৌধুরী ওরফে সেলিম আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে এ মামলার বিচার শুরু করেন ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোতাহার হোসেন। একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর খালাফ আল আলীকে হত্যার দায়ে ৫ আসামীর সবাইকে ফাঁসির আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।
হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিলের শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ১৮ নবেম্বর আসামী সাইফুলকে বিচারিক আদালতের দেয়া মৃত্যুদন্ডাদেশ বহাল রাখেন হাইকোর্ট। মৃত্যুদন্ড পাওয়া অন্য তিনজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং পলাতক একজনকে বেকসুর খালাস  দেয়া হয়। আল আমীন, আকবর আলী লালু ওরফে রনি ও রফিকুল ইসলাম খোকনকে মৃত্যুন্ডাদেশ কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং পলাতক সেলিম চৌধুরী ওরফে সেলিম আহমেদকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন সরকার। ২০১৪ সালের ২৩ জুলাই এ আপিল মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ