ঢাকা, বুধবার 25 October 2017, ১০ কার্তিক ১৪২8, ৪ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এবারের সফরেও উদ্বোধন হচ্ছে না খুমেক হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগ

খুলনা অফিস : ভবন হস্তান্তরের সকল কাজ প্রায় সম্পন্ন। লাইট ফ্যানের মত কয়েকটি কাজ বাকি তাও আটকে আছে বিদ্যুৎ বিভাগের কারণে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে দেড় কোটি টাকা বাকি আছে হাসপাতালের কাছে তারপরেও লাইন দিতে সমস্যা নেই। নতুন সংযোগের জামানত দিতে হবে দেড় লাখ টাকা, আর তাতেই পাওয়া যাবে লাইন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে ডাক্তার, নার্স, স্টাফ প্রস্তুত। ভবন সরবরাহ হলেই কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব। এর মধ্যেই আগামী শুক্রবার খুলনা আসছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তবে মন্ত্রীর এবারের সফরেও উদ্বোধন হচ্ছে না হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগ। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ ওয়ার্ডটি অদৃশ্য কারণে চালু না হয়ায় স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা এ অঞ্চলের মানুষের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালে আলাদা কোন আইসিইউ বিভাগ নেই। ৩য় তলায় পোস্ট অপারেটিভ ইউনিটের চারটি বেড আইসিউ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এদিকে আইসিইউর জন্য হাসপাতাল কমপ্লেক্সের ভিতর পৃথক একটি ভবন নির্মিত হলেও নির্ধারিত সময়ের তিন বছরের বেশি সময়েও হস্তান্তর হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা প্রকল্পটির ব্যয় ১০ কোটি ২৫ লক্ষ।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম মোর্শেদ বলেন, নব নির্মিত আইসিউ ভবনটি পিডব্লিউডি হস্তান্তর করলেই এখানে রোগীদের সেবা দেয়া সম্ভব। যদিও হাসপাতালের সর্বত্রই জনবলের তীব্র সংকট রয়েছে, তারপরেও রোগীদের কথা বিবেচনা করে হস্তান্তরের সাথে সাথেই আইসিইউ সেবা শুরু হবে।
গণপূর্ত-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন বলেন, ৯৮ শতাংশ কাজ শেষ। কয়েকটি লাইট ও ফ্যান স্থাপনের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় ধীরে হচ্ছে। বিদ্যুৎ আসলে ৭ দিনের মধ্যে ভবন হস্তান্তর করা হবে।
ওজোপাডিকোর ডিভিশন-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী রাফিন হায়দার বলেন আইসিউ ভবনে নতুন লাইন লাগবে। এখানে পুরনো বকেয়া টাকার কোন ব্যাপার নেই। শুধুমাত্র নতুন সংযোগের জামানত বাবত ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা প্রদান করলেই সংযোগ দেয়া হবে।
এদিকে আন্তঃ মেডিকেল কলেজ ডিবেট প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আগামী শুক্রবার খুলনায় আসছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাছিম। মন্ত্রীর এবারের সফরে আইসিইউ ভবন উদ্বোধন হবে এমন কথা শোনা গেছে সর্বত্র। তবে সে স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না খুলনাবাসীর। অদৃশ্য কারণেই আটকে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগটি চালু। ব্যক্তিমালিকানাধীন হাসপাতালগুলোতে অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ায় খুলনার গরীব ও সাধারণ রোগীদের কাছে আইসিউ সেবা এখনও অধরা।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, খুলনার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারের ধীরে চলো নীতির কারনেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সিন্ডিকেট ব্যবসা জমজমাট বলেও তিনি মনে করেন। তিনি অবিলম্বে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগটি চালুর দাবি জানান। যাতে খুলনার মানুষ স্বল্প খরচে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিউ) সেবা পেতে পারেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ