ঢাকা, বুধবার 25 October 2017, ১০ কার্তিক ১৪২8, ৪ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী এম কে আনোয়ার আর নেই

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এমপি সর্বজন শ্রদ্ধেয় এম কে আনোয়ার আর নেই। সোমবার রাত ১টা ২০মিনিটে এ্যালিফ্যান্ট রোডের নিজ বাসায় তিনি ইন্তিকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। এম কে আনোয়ার মৃত্যুকালে স্ত্রী মাহমুদা আনোয়ার, এক মেয়ে খাদিজা আনোয়ার ও দুই ছেলে মাহমুদ আনোয়ার, মাসুদ আনোয়ারকে রেখে গেছেন। দেশের প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ ও আমলার মৃত্যুতে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর অধ্যাপক মজিবুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা শোক জানিয়েছেন। এম কে আনোয়ারের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে গতকাল রাতে তার বাসায় গেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। সেখানে তিনি কিছু সময় অতিবাহিত করে শোকার্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এদিকে গতকাল ঢাকায় একাধিকস্থানে তার নামাযে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত সন্তানরা কাল বুধবার দেশে ফিরলে সে দিনই কুমিল্লার হোমনায় শেষ নামাযে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরাস্থানে দাফন করা হবে। 

এম কে আনোয়ার জাতীয় রাজনীতির বিবেক পুরুষ হিসেবে খ্যাত। মোহের কাছে তিনি কখনো আতœসমর্পণ করেননি। তার রাজনীতি ছিল মানব কল্যাণের রাজনীতি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের রাজনীতি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি দেশের জন্য, মানবতার জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, আইনের শাসনের জন্য লড়াই করে গেছেন। রাজনীতিতে বিবেকের কন্ঠধ্বনি হিসেবে তার নাম এদেশের ইতিহাসে সোনালি আখরে লিপিবদ্ধ থাকবে। সর্বজন শ্রদ্ধেয় এমকে আনোয়ার সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর যোগ দেন বিএনপির রাজনীতিতে। ৩৪ বছরের পেশাজীবনে যেমন সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, তেমনি রাজনীতিতে যোগ দিয়ে অল্পদিনেই হয়ে ওঠেন দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। সৎ,মার্জিত, সজ্জন ও মেধাবী রাজনীতিবিদ হিসেবেও পরিচিত পান তিনি। পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাকে সরব দেখা গেছে মাঠে-রাজপথে। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার অসুস্থাবস্থায় গত দুই বছর অনেকটা ঘরের মধ্যেই বিছানায় কাটিয়েছেন। মামলার হাজিরা ছাড়া ঘর থেকে খুব একটা বের হতেন না। এত অসুস্থ থাকার পরও আওয়ামীলীগ সরকারের দেয়া মামলায় তাকে প্রতি সপ্তাহে হাজিরা দিতে হতো। বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা গত দুই বছর ধরে রাজনীতিতে খুব একটা সময় দিতে পারেননি অসুস্থতার কারণে। নাশকতার মামলায় আটক হয়ে ছয় মাস কারাগারে থেকে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পান তিনি। জেলে যান সুস্থাবস্থায়। আর জেল থেকে বের হয়ে আসেন গুরুতর অসুস্থাবস্থায়। জেল থেকে বের হওয়ার কিছুদিন পর চিকিৎসার জন্য চলে যান ভারতে। চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে আসলেও পুরোপুরি সুস্থ হননি। শারীরিক অসুস্থতায় সেভাবে চলাফেরা করতে না পারায় কোথাও যেতেন না এম কে আনোয়ার। এমনকি তিনি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও অংশ নিতে পারতেন না। তবে তাকে নাশকতা মামলার আসামি হিসেবে এম্বুলেন্স চড়ে আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত।

গত বছর দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর গঠিত নতুন কমিটিতে কুমিল্লার জনপ্রিয় নেতা এম কে আনোয়ারকে রাখা হয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে। সরকারি কর্মকর্তা, এম পি ও মন্ত্রী হিসেবে অত্যন্ত সততা ও দক্ষতার সাথে তিনি দেশের সেবা করে গেছেন। চরম শত্রুরাও তার সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেনি কখনো। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তার শেষ জীবন কেটেছে আদালতের বারান্দায় বারান্দায়। দশম সংসদ নির্বাচনের আগে অসুস্থতার কারণে সরকারবিরোধী আন্দোলনে সরাসরি মাঠে না থাকলেও নাশকতা, উস্কানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগে বিভিন্ন স্থানে ২১টি মামলা হয় এম কে আনোয়ারের বিরুদ্ধে। একাধিকবার গ্রেফতার হয়ে জেলও খাটেন। ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্টোলবোমা হামলায় আটজন নিহত হওয়ার ঘটনার মামলায় সাবেক এই সচিবকে কারাগারে পাঠান আদালত। প্রবীণ ও মার্জিত এ রাজনীতিককে জেলে পাঠানোর এ ঘটনা দেশবাসীর মনে দারুণ দাগ কাটে। সমালোচনায় পড়তে হয় সরকারকে।

প্রায় ছয় মাস জেল খেটে গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পান তিনি। জেলখানায় এত অসুস্থ হয়ে পড়েন যে, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১০ এপ্রিল দিল্লি যান এম কে আনোয়ার। সেখানে তিনি হরিয়ানার মেদান্তা হাসপাতালে হৃদরোগ ও কিডনির চিকিৎসা নেন। এরপর দেশে ফেরার পর তাকে খুব বেশি প্রকাশে দেখা যায়নি। দলীয় কর্মসূচি তো দূরের কথা, গত ২১ মে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও তিনি যেতে পারেননি শারীরিক দুর্বলতার কারণে। এর মধ্যে কেবল দুই দিন তাকে দেখা গেছে বেরোতে। গত ১০ মে খালেদা জিয়ার ভিশন-৩০ ঘোষণার সাংবাদিক সম্মেলনে অংশ নেন তিনি। এরপর নাশকতার এক মামলায় গত ১৫ মে ঢাকার সিএমএম কোর্টে হাজিরা দিতে যান এম কে আনোয়ার।

সাচ্চা জাতীয়তাবাদী এনেতা নিজ এলাকার দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়মিত তার সঙ্গে যোগাযোগ সার্বিক খোঁজখবর রাখতেন। রাখতেন দলের চেয়ারপার্সনের খোঁজখবর। অসুস্থতাবস্থায়ও ল-ন থেকে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া দেশে ফেরার পর তিনি ফোন করে খবর নেন। তার নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীদে এরই মধ্যে নির্দেশ দেন মামলার হাজিরা দেয়ার জন্য (২৪অক্টোবর) খালেদা জিয়া কুমিল্লা গেলে যেন তাকে সেখানে যেন তাকে ব্যাপক শোডাউনের মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানানো হয়।

১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগ দেয়ার মধ্য দিয়ে সরকারি চাকুরে হিসেবে পেশাজীবন শুরু হয় এম কে আনোয়ারের। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তার ৩৪ বছরের পেশাগত জীবনে তিনি ফরিদপুর ও ঢাকার ডেপুটি কমিশনার, জুটমিল কর্পোরেশনের সভাপতি, টেক্সটাইল মিল কর্পোরেশনের সভাপতি, বাংলাদেশ বিমানের সভাপতি এবং প্রশাসনে বিভিন্ন উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেন। প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদ মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছিলেন তিনি। ১৯৭২ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত তিনি প্রশাসনে বিভিন্ন উচ্চপদে পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সিএসপি কর্মকর্ত এম কে আনোয়ার ১৯৭১ সালে ঢাকা জেলার প্রশাসক ছিলেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে এম কে আনোয়ার বিএনপিতে যোগ দেন। ওই বছর অনুষ্ঠিত পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ২০০৮ সাল পর‌্যন্ত টানা পাঁচবার তিনি সাংসদ নির্বাচিত হন। তিনি বিএনপি সরকারের বাণিজ্য, নৌ-পরিবহন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ারের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টায় নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তার লাশ এসে পৌঁছালে বিএনপি মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা কফিনটি প্রথমে দলীয় পতাকা দিয়ে ঢেকে দেন। পরে কফিনে পুস্পমাল্য অর্পন করে নিরবে দাঁড়িয়ে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বের আগে নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সড়কে মরহুমের দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। 

এতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, হাফিজউদ্দিন আহমেদ, শাহজাহান ওমর, খন্দকার মাহবুব হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, জয়নাল আবেদীন, আহমেদ আজম খান, আবদুল হালিম, আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, আবদুল কাইয়ুম, শাহজাদা মিয়া, রুহুল কবির রিজভী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আবুল হাই, রেজাউল করীম, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, ওবায়দুল ইসলাম, আবদুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, রফিক শিকদার, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, প্রয়াত নেতার বড় ছেলে মাহমুদ আনোয়ারসহ সহাস্রাধিক নেতা-কর্মী অংশ নেন।

অঙ্গসংগঠনের মধ্যে সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম বাদরু, কাজী আবুল বাশার, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, ইয়াসীন আলী, আনোয়ার হোসেইন, নুরুল ইসলাম খান নাসিম, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, রাজীব আহসান, এম এ মালেক, শাহ নেসারুল হক প্রমুখ নেতৃবৃন্দ ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের সময়ে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সাথে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ছিলেন।

জানাযার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকারের কারা নির্যাতন কোনো কিছু এম কে আনোয়ারকে পিছু হটতে দেয়নি। তিনি গণতন্ত্রের যে আদর্শে বিশ্বাস করতেন সেই আদর্শকে সমুন্নত রাখার জন্যে সবসময় সকল ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং জনগণকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আজকে তার এই চলে যাওয়া শুধু তার পরিবারের জন্য নয়, আমাদের বিএনপির জন্য শুধু নয়, সমগ্র দেশের জন্য একটা অপুরনীয় ক্ষতি হয়ে গেলো। এরকম নির্ভিক, সৎ মানুষ আমাদের মাঝে আজকাল বিরল। আমাদের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও দলের পক্ষ থেকে তার এই চলে যাওয়াতে গভীর শোক প্রকাশ করছি। আল্লাহর কাজে দোয়া করছি তাকে যেন বেহেস্ত নসিব করেন।

স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা একজন সৎ, নিষ্ঠাবান একজন রাজনীতিককে হারিয়েছে যা সহজে পুরণ হওয়ার নয়। দেশবাসীকে অনুরোধ তারা যেন এমকে আনোয়ারের জন্য দোয়া করেন। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ একজন সৎ,যোগ্য, নিষ্ঠাবান এবং রাজনীতিতে একজন ভদ্রলোককে হারিয়েছে।

সংসদ ভবনের এলাকায় এম কে আনোয়ারের তৃতীয় নামাযে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্যঅরিস্টার জমির উদ্দিন সরকারসহ একাধিক এমপি ও বিএনপি নেতারা অংশ নেন। এরপর তার লাশ হিমঘরে রাখা হয়। 

এম কে আনোয়ারের মৃত্যুতে নেতা-কর্মীরা বুকে কালো ব্যাজ পড়েন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় মরহুমের প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয় শাহবাগে কাটাবন মসজিদে। পরিবারের সদস্যরা জানান, বাদ জোহর সংসদ ভবনের দক্ষিন প্লাজায় নামাজে জানাযার পর কফিন রাখা হবে রাজধানীর বারডেম হিমঘরে। মরহুমের ছেলে মাসুদ আনোয়ার ও মেয়ে খাদিজা আনোয়ার বুধবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার কথা রয়েছে। সেদিন সকালে সড়ক পথে লাশ নিয়ে যাওয়া হবে তার নিজ নির্বাচনী এলাকায় কুমিল্লার হোমনায়। পথে দাউদকান্দির তিতাসে বাদ জোহর চতুর্থ জানাযা, এরপর বাদ আসর হোমনায় জানাযা শেষে তার গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরাস্থানে দাফন করা হবে।

এদিকে দাউদকান্দি সংবাদদাতা নানিফ খান জানান, এম কে আনোয়ারের মৃত্যুতে তার নির্বাচনী জেলা কুমিল্লা ও এলাকাতে শোকের ছায়া নেমে আসে। এলাকার বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা তার রাজধানীর বাসায় ছুটে আসেন। তারা সেখানে অনুষ্ঠিত জানাযায় অংশ নেন। বুধবার তাদের প্রিয় নেতাকে সাথে করেই এলাকাতে ফিরবেন। 

খালেদা জিয়ার শোক: এম কে আনোয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। শোকবার্তায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, দেশের বরেণ্য রাজনীতিবিদ এম কে আনোয়ার এর মৃত্যুতে তার পরিবারবর্গের মতো আমিও গভীরভাবে শোকাহত ও ব্যথিত হয়েছি। সজ্জন, মিতবাক, নিয়মনিষ্ঠ, কথা ও কাজে অসাধারণ সামঞ্জস্য ছিল মরহুম এম কে আনোয়ার এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তার সততা ও নিষ্ঠা ছিল ইর্ষণীয় উচ্চতায়। সেই কারণেই পেশাগত জীবনে সরকারী সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত থেকেও তিনি তার অমলিন ব্যক্তি-মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। রাজনৈতিক জীবনেও তিনি নিজ আদর্শে অটল থেকে রাজনৈতিক সংগ্রাম ও জনগণের সেবা করে গেছেন। রাজরোষে পড়া সত্ত্বেও তিনি কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করেননি, তাই বারবার কারাবরণসহ নিপীড়ণ-নির্যাতন সহ্য করেও নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সাথে অগণতান্ত্রিক সরকারের অসদাচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে গেছেন। 

খালেদা জিয়া বলেন, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি কখনোই কোন অগণতান্ত্রিক শক্তির কাছে মাথানত করেননি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সবসময় থেকেছেন সামনের কাতারে। নিজ এলাকায় শিক্ষার প্রসার ও জনকল্যানমূলক কাজেও তাঁর অবদান স্মরণীয়। তাই জনগণের নিকট প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার কারণেই আদর্শনিষ্ঠ জনাব এম কে আনোয়ার বারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শনকে বুকে ধারন করে জনাব এম কে আনোয়ার স্বদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকারে বিএনপিকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। রাজনীতিতে যোগ দিয়ে যখনই গণতন্ত্র বিপদাপন্ন হয়েছে তখনই স্বৈরাচারের কবল থেকে দেশকে গণতন্ত্রের পথে উত্তরণ এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দেশের উন্নয়নের জন্য এম কে আনোয়ার এর গৌরবময় অবদান দেশবাসী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। তার মৃত্যু জাতীয়তাবাদী শক্তির জন্য মর্মস্পর্শী। জনাব এম কে আনোয়ার এর মৃত্যু দেশবাসী ও দলের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ, গুণগ্রাহী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। একইভাবে শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। 

বিভিন্ন মহলের শোক: এম কে আনোয়ারের ইন্তিকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। শোক জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের ,বিএনপি ঢাকা মহানগর (উত্তর) সভাপতি এম এ কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিদ আঞ্জু, মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, স্বেচ্ছাসেবক দল এর সভাপতি শফিউল বারী বাবু এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, জাগপার সভাপতি অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীরে শরীয়ত মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী হুজুর, মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী ও প্রচার সম্পাদক মাওলানা সুলতান মহিউদ্দীন, জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান টি আই এম ফজলে রাব্বি ও মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সুশীল ফোরামের সভাপতি মো: জাহিদ ও সহসভাপতি এস এম শহিদুল্লাহ প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ