ঢাকা, বুধবার 25 October 2017, ১০ কার্তিক ১৪২8, ৪ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আন্তর্জাতিক আদালতে সু চি ও মিয়ানমার সেনা প্রধানের বিচার করতে হবে

খুলনা অফিস : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যের মুসলিম গণহত্যা বন্ধে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থাসহ সকল পদক্ষেপ নিতে হবে। অর্থনৈতিক অবরোধের অংশ হিসাবে মিয়ানমারের সকল পণ্য বর্জন করতে হবে এবং মুসলিম বিশ^কে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, মিয়ানমার জান্তা রাখাইন রাজ্যে গণহত্যার মাধ্যমে রাখাইন রাজ্যকে মুসলিম শূন্য করার খেলায় মেতে উঠেছে বর্মীজান্তা এবং অং সান সূচি এই গণহত্যার মাধ্যমে বিশ^ সন্ত্রাসী হিসাবে বিশ^বাসীর কাছে চিহ্নিত হয়েছে। রাখাইনের ইতিহাসে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ নির্মমতা এবং মানবতার ভুলুন্ঠিত হলেও জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর এব্যাপারে কোন কার্যকর ভূমিকা এখনো দৃশ্যমান নয়। এখন মুসলিম দেশগুলোর ঐক্য সময়ের দাবি। তিনি বলেন, সময় এসেছে আরাকান দখল করে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের। তিনি রোহিঙ্গা শরনার্থীদের জন্য বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে আগত ত্রাণ সুষ্ঠুভাবে বিতরণ নিয়ে যেন কোন দুর্নীতি না হয় এবং মহিলা সহ কাউকে যেন হয়রানির শিকার হতে না হয়। সে ব্যপারে সরকারকে হুশিয়ার করে দেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারে গণহত্যা ও বর্বরতা বন্ধের প্রতিবাদে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। তারপরেও যদি বন্ধ না হয় প্রয়োজনে আবারও মিয়ানমার অভিমুখে লংমার্চসহ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। 

তিনি বলেন, রক্ত পিপাসু মায়ানমারের সেনা প্রধান ও অং সান সূ চির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দিয়ে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি জাতিসংঘকে কঠোর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সূ চি সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তিনি বলেন, রাখাইন রাজ্যের খনিজ সম্পদ লুটপাট করতে স¤্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর ইন্ধনে রহিঙ্গা মুসলমানদের উচ্ছেদ করছে। সূ চি রক্ত পিপাসু দানব, তার বিচার হতেই হবে। তিনি আরো বলেন, ওরা আরো রক্ত চায়, আরো লাশ চায়, কাজেই রক্ত ও লাশের খেলা বন্ধ না হলে মিয়ানমার সরকার কে চরম মূল্য দিতে হবে। 

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মিয়ানমারে গণহত্যা, নারী ধর্ষণ, শিশু হত্যা, বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ ও আগুনে পুড়িয়ে মারারমত বর্বরতার মাধ্যমে জাতিগত নিধন ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি-চাল, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে খুলনা মহানগরী ও জেলা ইসলামী আন্দোলনের উদ্যোগে নগরীর ডাকবাংলো সোনালী ব্যাংক চত্বরে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন। 

মহানগর সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক এর সভাপতিত্বে ও শেখ মো. নাছির উদ্দিন, শেখ হাসান ওবায়দুল করীম, মাওলানা ইমরান হুসাইন এর পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের নায়েবে আমির হাফেজ মাওলানা আব্দুল আউয়াল ও খুলনা জেলার সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ্ আল ইমরান। এতে আরো বক্তব্য দেন, মাওলানা মুজাফ্ফার হোসেন, মাওলানা আবু সাইদ, মো. মুসা লষ্কর, মুফতী আমান উল্লাহ, জি,এম সজিব মোল্লা, জাহিদুল ইসলাম, মাওলানা মজিবুর রহমান, ডা. আল-আমিন এহসান, মুফতী আব্দুর রহমান মিয়াজি, তরিকুল ইসলাম কাবির, মো. আব্দুর রশিদ, মো. রবিউল ইসলাম তুষার, এস,এম, আবুল কালাম আজাদ, মো. আব্বাস আমিন, শহিদুল ইসলাম, মো. হারুন অর রশিদ, জি,এম কিবরিয়া, মাওলানা দ্বীন ইসলাম, মো. হযরত আলী, আবু তাহের, হাফেজ মোস্তাফিজুর রহমান, মো. জসিম উদ্দিন, মাওলানা মনিরুল ইসলাম, যুবনেতা মো. ইসমাইল হোসেন, ডা. মো. নাসির, মো. ইমরান হোসেন মিয়া, তৌহিদুল ইসলাম. এইচ,এম জুনাইদ মাহমুদ, ছাত্রনেতা মো. আমিরুল ইসলাম, মো. আব্বাস আলী, মো. হাসিব গোলজার, ইসাহাক ফরিদি, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. নাজমুল ইসলাম, মো. আব্দুল্লাহ নোমান প্রমুখ।

চরমোনাই পীর সাহেব বলেন, চাল,ডাল, চিনি, তেল গ্যাস, বিদ্যুৎ সহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর ফলে দেশের খেটে খাওয়া মানুষের অবস্থা দিন দিন শোচনীয় হয়ে পড়েছে। তিনি শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, খুলনার ক্রিসেন্ট জুট মিল, প্লাটিনাম জুট মিলসহ বাংলাদেশের সকল মিল কলকারখানার শ্রমিদের বকেয়া বেতন ভাতা দ্রুত পরিশোধ করার আহবান জানান। সেই সাথে যে সকল মিল কল কারখানার বন্ধ করা হয়েছে তা অতি দ্রুত চালু করা, সাথে সাথে শ্রমিকদের মজুরি কমিশন ও ন্যায্য অধিকার দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

চরমোনাই পীর আরো বলেন, বাংলাদেশে শুধু ক্ষমতার পালা বদল হচ্ছে কিন্তু জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না। তাই আসুন আগামী নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন তথা হাত পাখা প্রতিকে ভোট দিয়ে দেশ কে ইসলামী হুকুমাত প্রতিষ্ঠিত করে জালিমের জুলুম থেকে দেশ কে বাঁচাতে এ দেশের জনগন কে এগিয়ে আসতে হবে।

দলের নায়েবে আমির হাফেজ মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, সরকার জনগণের দুঃখ দুর্দশার কথা বেমালুম ভুলে গেছেন বলেই বার বার বলা সত্ত্বেও চাল, ডাল, লবণ, মাছ, গোশত, গ্যাস, বিদ্যুৎ, তরিতরকারি ও মসলা সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধির ফলে সিমিত আয়ের মধ্যবৃত্ত ও দরিদ্র লোকদের জীবন জাপন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকার মুখে বড় কথা বললেও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। সরকার চালের দাম কমানোর কথা বললেও বাস্তবে চালের মূল্য ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া দরিদ্র জনগণ। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক বলেন, স্বাধীনতার ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের জনগণ এখনো শান্তির মুখ দেখেনি কারণ যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারা সকলেই দুর্নীতি করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। অতএব, দেশ কে সুখি সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের চরম শিখরে পদার্পণ করার জন্য ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। তাই জনগণকে আগমী সকল নির্বাচনে ইসলামের পক্ষে তথা হাত পাখা প্রতিকে সমর্থন দিতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ