ঢাকা, বুধবার 25 October 2017, ১০ কার্তিক ১৪২8, ৪ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দলীয় নেত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে সিরাজগঞ্জের ছাত্রলীগ নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

 

সংগ্রাম ডেস্ক : দলীয় নেত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রিয়াদ হোসেনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে ধর্ষিত স্কুলছাত্রীর মামা মোজাম্মেল হক সরকার বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন। শীর্ষনিউজ।

শুনানি শেষে বিচারক শহিদুল ইসলাম মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিকেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি অ্যাডভোকেট আনোয়ার পারভেজ লিমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ধর্ষিতা একজন স্কুলছাত্রী। সে বেলকুচির দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী ও একই বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং উপজেলার ধুকুরিয়াবেড়া ইউপির কলাগাছি গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে।

মামলার আসামীরা হলেন, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও বেলকুচির চরখাষিয়া গ্রামের রকিব উদ্দিন মাস্টারের ছেলে রিয়াদ হোসেন (২৫), একই উপজেলার চরচালা গ্রামের মিন্টু কসাইয়ের ছেলে আরমান হোসেন (২৬), একই গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে আল-আমিন হোসেন ও মৃত সোনা উল্লার ছেলে রুবেল শেখ, কলাগাছি গ্রামের মমিন সেখের ছেলে রতন শেখ ওরফে পিচ্চি রতন (২৪) এবং গাড়ামাসি গ্রামের নিমাই ডাক্তারের ছেলে পাপ্পু।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ৭/৮ মাস আগে ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ হোসেন স্কুল কমিটি গঠনের জন্য দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে গেলে ওই শিক্ষার্থীর সাথে রিয়াদের পরিচয় হয়।

তাকে কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতির পদও দেয়া হয়। এই সূত্র ধরেই উভয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রলোভনে তা এক পর্যায়ে দৈহিক সম্পর্কে রূপ নেয়। এই অবস্থায় গত ১৩ই অক্টোবর ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ ওই শিক্ষার্থীকে চরচালায় অবস্থিত তার মেসে ডেকে নিয়ে তারা আবারও দৈহিক মেলামেশায় লিপ্ত হয়। ওই সময় বিয়ের জন্য চাপ দিলে রিয়াদ তাতে তালবাহানা শুরু করে।

বিষয়টি প্রকাশ করে দেয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখালে রিয়াদ ওই শিক্ষার্থীকে মারপিট করে এবং সংবাদ পেয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে তার আরও ৫ সহযোগী শিক্ষার্থীকে মারপিট করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তাকে তাড়িয়ে দেয়।

এরপর ওই শিক্ষার্থী তার স্বজনদের বিষয়টি অবগত করে এবং বাবাকে নিয়ে থানায় মামলা দায়ের করতে যায়। এই সংবাদ পেয়ে অভিযুক্তরা থানায় গিয়ে পুলিশের সামনে আবারও ওই শিক্ষার্থীকে মারপিট করে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে আবারও সাদা কাগজে বাবা-মেয়ের স্বাক্ষর নিয়ে তাদের থানা থেকে বের করে দেয়। যে কারণে বিলম্বে হলেও ঘটনার বিষয়ে তারা আদালতে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন মামলার বাদী।

এ বিষয়ে বেলকুচি থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেনের দাবি, ওই মেয়েটি অভিযোগ করার জন্য থানায় এসেছিল। কিন্তু তার বাবা মামলা করতে রাজী না হওয়ায় তারা চলে যান। ওই সময় থানায় কোন মারপিটের ঘটনা ঘটেনি, এমনকি সাদা কাগজে কোন স্বাক্ষর নেয়া হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ