ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 October 2017, ১১ কার্তিক ১৪২8, ৫ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

লাখো মানুষের শ্রদ্ধায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন এম কে আনোয়ার

স্টাফ রিপোর্টার ও দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদাদাতা : লাখো মানুষের শ্রদ্ধায় সিক্ত হয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এম. কে. আনোয়ার। কুমিল্লাসহ আশপাশের জেলার সর্বস্তরের মানুষ চোখের পানিতে তাদের প্রিয় এই নেতাকে শেষ বিদায় জানান। গতকাল বুধবার ঢাকা থেকে নিজ জেলা কুমিল্লায় এমকে আনোয়ারের কফিন পৌঁছার পর শেষবারের মতো দীর্ঘদিনের এই জনপ্রতিনিধিকে দেখতে লাখো মানুষের ঢল নামে। প্রথমে তিতাস উপজেলায় চতুর্থ জানাযা হয়। সেখানেও হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়। জানাযায় বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টিসহ সব রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন পেশার মানুষসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। পরে তার নিজ এলাকা হোমনা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে শেষ জানাযায় দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ শরিক হন। পরে তিতাসের হোমনায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। কাল শুক্রবার বিকাল ৩ টায় এম. কে. আনোয়ারের স্মরণে হোমনার খাদিজা মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়েছে।
আমাদের দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদাদাতা হানিফ খান জানান, লাখো মানুষ সকল কাজকর্ম ফেলে দোকান-পাট বন্ধ রেখে ফুলেল শ্রদ্ধা ও জানাযায় শরিক হয়ে দেশ বরেণ্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ এম কে আনোয়ারকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। জানাযা পূর্ব তার জীবনীর উপর বক্তব্য রাখেন, বি. এন. পি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধূরী, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কর্ণেল (অব.) আনোয়ারুল আজীম, দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন, এডভোকেট রফিক সিকদার, মাহফুজুল ইসলাম, বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা উত্তর জেলার সাবেক আহ্বায়ক মো. সিরাজুল ইসলাম, উত্তর জেলা সভাপতি মো. খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তারুজ্জামান সরকার, তিতাস উপজেলা সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন সরকার, হোমনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও দলের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম জহর, তিতাস উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মো. ওসমান গণি ভুইয়া, হোমনা পৌর সভাপতি মোজাম্মেল হক মুকুল, সাধারণ সম্পাদক সানাউল্লাহ্ সরকার, জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. আমির হোসেন ভুইয়া, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এম. কে. আনোয়ারের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ ও জাহাঙ্গীর আলম সরকার, হোমনার পৌর মেয়র এডভোকেট নজরুল ইসলাম, হোমনা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ. কে. এম. সিদ্দিকুর রহকমান আবুল, তিতাস উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. শওকত আলী ও সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান মো. মহসীন ভুইয়া, জানাযায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহীনুল ইসলাম সোহেল সিকদার ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২নং ওয়ার্ডের কমিশনার আনিসুর রহমান। দু’টি জানাযাতেই এম. কে. আনোয়ারের বড় ছেলে মাহমুদ আনোয়ার সকলের কাছে পিতার জন্য দোয়া কামনা করে বক্তব্য রাখেন।
জানাযা শুরুর আগে সমবেত মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্ততায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকারের নির্যাতন নিপীড়নের খরগ এমকে আনোয়ারকে আর খুজে পাবে না। বার্ধক্যজনিত অসুস্থ অবস্থায়ও তিনি হুইল চেয়ারে বসে এবং কখনও পুলিশের কাধে ভর করে সরকারের মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। এসব দৃশ্য দেশের মানুষ দেখেছেন। এমকে আনোয়ারের জন্য সকলের কাছে দোয়া ড. মোশাররফ বলেন, তিনি ছিলেন জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী একজন খাঁটি দেশ প্রেমিক নেতা। মন্ত্রীত্ব ও সরকারী চাকরী জীবনে এমকে আনোয়ার অত্যন্ত সততা এবং দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ছিলেন আধুনিক হোমনার উন্নয়নের স্বাপ্নিক পুরুষ। দেশের উন্নয়ন এবং গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠায় এমকে আনোয়ার বীরোচিত ভূমিকা রেখেছেন। জাতি তাকে চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। তার মৃত্যুতে বিএনপি তথা জাতীয় রাজনীতির অপূরনীয় ক্ষতি হলো। আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুন।
এর আগে সকালের দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে এমকে আনোয়ারের কফিন নিয়ে ঢাকা থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা করা হয়। সোমবার রাত ১টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের বাসভবনে ইন্তেকাল করেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। এম কে আনোয়ার দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মঙ্গলবার সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বাদ জোহর জানাজা শেষে এম কে আনোয়ারের লাশ বারডেমের হিমঘরে রাখা হয়। বর্ণাঢ্য এই রাজনীতিকের পুরো নাম মোহাম্মদ খোরশেদ আনোয়ার। সংক্ষেপে তিনি এম কে আনোয়ার হিসেবেই পরিচিত। ১৯৩৩ সালের ১ জানুয়ারি কুমিল্লার হোমনায় জন্মগ্রহণ করা এম কে আনোয়ার কর্মজীবনে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। পরবর্তীতে পাঁচবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই সময়ে এম কে আনোয়ার দুইবার বিএনপি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ