ঢাকা, শুক্রবার 27 October 2017, ১২ কার্তিক ১৪২8, ৬ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গা ইস্যুতে অনুদানের পরিবর্তে বাংলাদেশকে ঋণ প্রস্তাব বিশ্বব্যাংকের

স্টাফ রিপোর্টার : মগসেনা ও উগ্রপন্থী বৌদ্ধ ভিক্ষুদের অব্যাহত দমন-পীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাহায্যার্থে বিশ^ব্যাংক কর্তৃক বাংলাদেশ সরকারকে অনুদানের পরিবর্তে ঋণ প্রদানের প্রস্তাবে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। 

গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানানোর পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য বিশ^ব্যাংকের গ্লোবাল কনসেশনাল ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি (জিসিএফএফ) থেকে ঋণ গ্রহণ না করে সুদহীন অনুদান সংগ্রহের সর্বাত্মক কূটনৈতিক প্রয়াস অব্যাহত রাখার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। 

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিবিধ চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশকে আর্থিক সহায়তা প্রদান বিষয়ে গত ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটনে বিশ^ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিশ^ব্যাংক ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে বিশ^ব্যাংক বাংলাদেশ সরকার এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ও শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সাহায্য কর্মসূচি গ্রহণ করতে প্রস্তুত রয়েছে মর্মে ঘোষণা করে। বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত মোট সহায়তার শুধু অর্ধেক অনুদান হিসেবে পাওয়ার সম্ভাবনার কথা সংবাদকর্মীদের জানান।

বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যাচ্ছে, আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিবিধ চাহিদা পূরণে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশকে ঋণ সহায়তা প্রদানের প্রচেষ্টা করছে, যা অনৈতিক, অগ্রহণযোগ্য ও উদ্বেগজন।  মানবিক বিপর্যয়ের সুযোগে সাহায্যের নামে বাংলাদেশের ওপর ঋণের বোঝা বৃদ্ধির এ উদ্যোগ বিশ^ব্যাংকের সুদ ব্যবসা সম্প্রসারেণের অংশ ছাড়া কিছুই না। এ ধরণের ঋণ গ্রহণ থেকে বিরত থেকে বিশ^ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সকল আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে সুদহীন আর্থিক সহায়তা প্রাপ্তির লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রয়াস জোরদার করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে টিআইবি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিকল্পিতভাবে জাতিগত নিধনের লক্ষ্যে পরিচালিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মাধ্যমে বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দেয়া দশ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর অভূতপূর্ব বোঝা বাংলাদেশের একার নয়, বরং মূলত মিয়ানমার সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের। তিনি বলেন, ক্ষমতাধর আন্তর্জাতিক শক্তিসমূহের স্বার্থপ্রসূত দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থনই মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে এ নৃশংসতার পথ অবলম্বনে উৎসাহিত করেছে। মিয়ানমারের এ হত্যাকান্ড ও নৃশংসতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কর্তৃক কোন প্রকার কার্যকর পদক্ষেপ, বিশেষ করে সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক বিনিয়োগ, উন্নয়ন, বাণিজ্য ও সামরিক সহায়তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে চলমান ব্যর্থতা এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে যে বিতাড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর স্বদেশে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হচ্ছে। 

বাংলাদেশের একার পক্ষে এ বোঝা বইবার সামর্থ বা যুক্তি কোনটাই নেই উল্লেখ করে ড. জামান বলেন, দশ লাখ গৃহহীন ও নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের দায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেই নিতে হবে এবং বাংলাদেশের ওপর এ ধরণের অতিরিক্ত ঋণের বোঝা চাপাবার অশুভ পাঁয়তারা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ড. জামান আরো বলেন, যদি বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশকে সহায়তা প্রদানে বিশ^ব্যাংকের প্রকৃত অভিপ্রায় থাকে, তাহলে বাংলাদেশের ওপর অধিকতর ঋণের ভার চাপানো থেকে বিশ^ব্যাংককে বিরত থাকতে হবে। বরং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দ্রুততম সময়ে মিয়ানমার সরকার কর্তৃক নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে বিশ^ব্যাংক মিয়ানমারের অন্যতম দাতা সংস্থা হিসেবে তার অবস্থানকে ব্যবহার করতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ