ঢাকা, শুক্রবার 27 October 2017, ১২ কার্তিক ১৪২8, ৬ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রক্তের বিনিময়ে হলেও তিন ফসলি জমি রক্ষা করা হবে

স্টাফ রিপোর্টার: রামপাল আর বাশখাঁলীর পর এবার গজারিয়া উপজেলার ষোলআনিতে কয়লা ভিত্তি তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। এতে করে এ উপজেলার ৬ টি গ্রামের ৪০ হাজার বাসিন্দা উচ্ছেদের কবলে পড়বে। তিন ফসলি জমিতে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন এলাকাবাসী।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস কøাব মিলনায়তনে ধানি ফসলি জমি রক্ষা কমিটি আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন,সংগঠনের আহবায়ক এ এফ এম আবু তাহের। এসময় উপস্থিত ছিলেন,সংগঠনের সদস্য সচিব রফিকুল্লাহ সেলিম,সংগ্রাম কমিটির সদস্য ডা.আব্দুর রহমান,মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গাফ্ফার প্রমুখ।

 লিখিত বক্তব্যে আবু তাহের বলেন,প্রধানমন্ত্রী এর আগে মন্ত্রী পরিষদের মিটিং এ বলেছিলেন তিন ফসলা জমিতে যেন কোন বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা না হয়। কোন মানুষের বসতভিটা ক্ষতি করে উন্নয়ন কাজ করা যাবে না। এআমাদের এই এলাকায় সারা বছরে তিনটি ফসল হয়ে থাকে। আমন ,বোর এবং আলু। এখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে প্রায় ৩২০ বিঘা জমি লাগবে। এতে করে ষোলআনি মৌজার মল্লিকেরচর, কালিপুরা,জাপটা, বাঘাইকান্দি, দৌলতপুর এবং ষোলআনি গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ ভিটেবাড়ি হারাবে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে,এ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে এ এলাকায় কোন গাছে ফল ধরবে না। এখানে কোন মাছ হবে না। এ প্রকল্পের পাশেই রয়েছে মেঘনার নদী। এই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রভাবে নদীর পানি গরম হয়ে যাবে। এতে করে নদীতে কোন মাছ থাকতে পারবে না। বেকার হয়ে যাবে এ এলাকার জেলেরা।

এলাকার জমির দালাল এবং একটি কুচক্র মহল মিলে সরকারকে ভুল বুঝিয়ে বলা হচ্ছে এখানে কোন ফসল হয়না। একটা খালি বিল পড়ে রয়েছে। এখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে কোন জীব বৈচিত্রের ক্ষতি হবে না। আর এ কারনেই সরকার এখানে বিদ্যু কেন্দ্র নিমানের পরিকল্পনা করছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন কোন ধানি জমিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা হবে না।

তারা আরও বলেন,আমরা যেকোন মূল্যে প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা বাস্তবায়ন করবো। আমাদের জীবন থাকতে এখানে কোন দিনই কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে দেয়া হবে না। প্রয়োজনে আমরা বুকের রক্ত দিবো। কিন্তু ধানি জমিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে দেয়া হবে না।

তারা আরও বলেন,তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিবেশের ক্ষতি করে বলেই এর আগে চট্টগ্রামের বাশখালি এবং খুলনার রামপালের মানুষ জীবন দিয়ে প্রতিহত করছে। আমরাও তাদের পদ ধরেই আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ