ঢাকা, শনিবার 28 October 2017, ১৩ কার্তিক ১৪২8, ৭ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে বিল পাস

২৭ অক্টোবর, রয়টার্স, এএফপি : ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য একটি বিল পাস করেছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ। ‘ইরান ব্যালিস্টিক মিসাইলস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্যাংশন্স এনফোর্সমেন্ট অ্যাক্ট’ নামে এ বিলটি বৃহস্পতিবার প্রতিনিধি পরিষদে ৪২৩ ভোটে পাস হয়। বিলের বিপক্ষে মাত্র দুটি ভোট পড়েছে।
এ পদক্ষেপের ফলে ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিলটি আইনে পরিণত হতে হলে মার্কিন সিনেটে এ বিল পাস হতে হবে এবং চূড়ান্তভাবে তাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন লাগবে। প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি এনেছেন কংগ্রেসম্যান এলিয়ট এঙ্গেল এবং এডওয়ার্ড রয়সে। ইরানের বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য এ বিলে আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে, গত জুলাই মাসে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ইস্যুতে ইরানের ১৮ ব্যক্তি, সংগঠন ও কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পরমাণু সমঝোতার লঙ্ঘন। কিন্তু ইরান বলছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে প্রতিরক্ষার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং পরমাণু ওয়ারহেড বহনের জন্য তা তৈরি করা হচ্ছে না। এর মাধ্যমে পরমাণু সমঝোতা ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব লঙ্ঘন করা হচ্ছে না। ২০১৫ সালে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতাকে নিরাপত্তা পরিষদে ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদন দেয়া হয়।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি সত্বেও ইরানের পারমাণু সমঝোতা চুক্তির পক্ষে থাকার কথা জানিয়েছে বিশ্ব নেতারা, এদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো আছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান ‘চুক্তিটি মেনে চলছে’ সে সার্টিফিকেটে স্বাক্ষর করেননি তিনি।
এর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানি এক যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে ইরানের পরমাণু সমঝোতার প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার কথা উল্লেখ করে বলেছে, সব পক্ষকে এটি বাস্তবায়ন করতে হবে। ওই তিন ইউরোপীয় দেশ বলেছে, এই সমঝোতা তাদের প্রত্যেকের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি বলেছেন, ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতা বাতিল করার অবস্থানে নেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমার জানামতে বিশ্বের কোনো একক দেশ এ সমঝোতা বাতিল করতে পারবে না কারণ এটা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেও অনুমোদন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এটা সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করা হয়েছে এবং এর বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ফলে এটা পরিষ্কার যে, এ চুক্তি বিশ্বের কোনো একক দেশের প্রেসিডেন্টের হাতে নেই এবং তিনি তা তা এভাবে বাতিল করতেও পারেন না।’
ট্রাম্পের ভাষণের পর কোনো মন্তব্য না করলেও এর আগে চুক্তিটি রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল চীন। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে খেদ প্রকাশ করে বলেছে, এটি চুক্তিটি কার্যকরের পথ রুদ্ধ করবে না বলে আশা করছে তারা।
ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়ে আরো বেশি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বহুপাক্ষিক একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিকে একজন প্রেসিডেন্ট কি অকার্যকর করতে পারে? চুক্তিটি যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি না, মনে হচ্ছে তিনি এটি জানেন না।’
যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি ও চীন- এই ছয় বিশ্বশক্তি ও ইরানের মধ্যে ২০১৫ সালে চুক্তিটি স্বাক্ষর হয়েছিল। এই চুক্তিতে ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিনিময়ে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচীর হ্রাস করার বিষয়টি নির্ধারিত হয়েছিল।
কিন্তু শুক্রবার এক আক্রমণাত্মক ভাষণে ট্রাম্প ইরানকে ‘ধর্মান্ধ শাসনব্যবস্থা’ অভিহিত করে দেশটি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ তোলেন। সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের অভিযোগে ইরানকে অভিযুক্ত করে দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এমন কোনো পথে চলতে পারি না ধারণাযোগ্যভাবে যা আরো সহিংসতা, আরো সন্ত্রাস এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার অত্যন্ত বাস্তব হুমকিতে পরিণত হতে পারে।’ ট্রাম্প এসব অভিযোগ করলেও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলেছে, ইরান চুক্তিটি পুরোপুরি মেনে চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ