ঢাকা, শনিবার 28 October 2017, ১৩ কার্তিক ১৪২8, ৭ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নেপালের নির্বাচনে হস্তক্ষেপে ভারতের নতুন ছক

২৭ অক্টোবর, দ্য হিন্দু, ইন্টারনেট : নেপালের আসন্ন নির্বাচনে বামপন্থী কমিউনিস্ট দলগুলোর জোটের বিরুদ্ধে অবস্থান শক্তিশালী করতে দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ওপর চাপ তৈরি করছে ভারত। বামপন্থী জোট চীনের পক্ষে অবস্থান নিতে পারে বলে তাদের মোকাবেলায় নয়া দিল্লীø আরেকটি শক্তিশালী জোট গঠন করতে চাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই উদ্দেশ্যে নেপালে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত মনজীব সিং পুরি ভারতীয় নীতি-নির্ধারকরদের পরামর্শে আসন্ন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন নেপালি কংগ্রেস (এনসি)’র সাথে নির্বাচনী জোট করতে রাষ্ট্রীয় জনতা পার্টি (আরজেপি)’কে চাপ দিয়েছেন।
তবে, আরজেপি নেতারা জানিয়েছেন যে ভারতীয় পক্ষের চাপ কিংবা বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও এই ব্যাপারে তারা দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না। তারা মহাসড়ক সংলগ্ন অঞ্চল এবং অন্যান্য প্রদেশগুলোতে নির্বাচনী জোট গঠন করতে পারেন। গত সোমবার রাষ্ট্রদূত পুরি আরজেপি নেতাদের লেইনচৌর কূটনৈতিক পাড়ায় ডেকেছিলেন এবং এনসি’র সঙ্গে জোট গঠনের জন্য পুনরায় আহ্বান জানান। যদিও আরজেপি নেতার ঐ সাক্ষাতে কোনো ধরনের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের কথা জানাননি।
আরজেপির একজন মুখপাত্র বলেন, ‘রাষ্ট্রদূত পুরি আরজেপি নেতাদের ২নং প্রদেশে কিছু আসন ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু তারা স্পষ্টভাবে এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। নেতারা জানান যে আরজেপি এখন ২নং প্রদেশের মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকা এবং ১ ও ৫নং প্রদেশে জোট গঠন করতে প্রস্তুত, এছাড়া অন্য কোথাও নয়।’
ভারত এনসি নেতা বিমলন্দ নিধী, অমর কুমার সিং, কিরণ কুমারী যাদব, পদ্মা নারায়ণ চৌধুরীর আসনে আরজেপি নেতাদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে।
আগামী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল নেপাল কংগ্রেস (এনসি) থেকে অংশ নিতে সম্প্রতি আগাম অবসর গ্রহণ করেন ভারতে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত দীপ কুমার উপাধ্যায়। তিনি ভারতের দি হিন্দু পত্রিকাকে বলেন, ‘অলির সঙ্গে দহল নির্বাচনী জোট গঠন করায় পার্লামেন্টে দেউবা সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। তাই নির্বাচনের আগে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সম্ভাবনা প্রবল।’ একটি জাতীয় ঐক্য সরকার গঠন নিয়েও সব দলের সঙ্গে বর্তমানে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে রাজনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষায় নির্বাচনের আগে একটি ঐক্যমতে পৌঁছা যাবে। ভারতীয় পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপালে গত কয়েক দিন ধরে একটি নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি ক্রমেই প্রবল হয়ে উঠছে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও একটি সংযোজক (কোহেসিভ) রাজনৈতিক ব্যবস্থা চান।
মাধেসি নেতা উপেন্দ্র যাদব বলেন, ‘বর্তমানে নেপালের রাজনীতিতে এক অদ্ভুত অবস্থা তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে ক্ষমতাসীন জোটের শরিক দল। তাই পার্লামেন্ট নির্বাচন আয়োজন করা খুবই জরুরি।’
ভারতের সমালোচনা : সরকারের শরিক দল বিরোধী দলের সঙ্গে হাত মেলানো এনসি নেতা প্রধানমন্ত্রী দেউবার জন্য একটি গুরুতর রাজনৈতিক আঘাত। ২০১৫-১৬ সালে ভারত যখন নেপালের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে তখন অলি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তাকে ভারতের নীতি বিরোধী হিসেবে মনে করা হয়।
নেপাল-চীন সম্পর্ক : এদিকে নেপাল ও চীনের মধ্যে একটি ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর থেকে মনে হচ্ছে হিমালয়ান দেশটি নয়াদিল্লীø’র কাছে কৌশলগতভাবে অনেক বেশি গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে।
যদিও বর্তমান অবস্থায় এই অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলার ক্ষমতা ভারতের নেই। গত মার্চে নেপাল সরকার যে বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করে সেখানে চীন ৮.২ বিলিয়ন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছে।
ভারত যদি চীন ও নেপালের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি ভুল ভূ-রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দাঁড় করায় তাহলে তাকে এই ছোট হিমালয়ান রাষ্ট্রটির সমর্থন আদায়ের জন্য উচ্চমূল্য দিতে হবে। চীনের এক-পঞ্চমাংশ জিডিপির অধিকারী ভারতের পক্ষে নেপালের সমর্থন আদায়ের প্রতিযোগিতায় চীনের সঙ্গে পাল্লা দেয়া সম্ভব হবে না।
নেপালের রুগ্ন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে বিনিয়োগের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে চীন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ