ঢাকা, শনিবার 28 October 2017, ১৩ কার্তিক ১৪২8, ৭ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আশা জাগিয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হারল বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার : দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টেস্ট আর ওয়ানডে সিরিজে অসহায় আত্মসর্মপন করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তবে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারলেও হতাশ করেনি টাইগাররা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আশা জাগিয়েই হারলো বাংলাদেশ। ফলে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় দিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করলো স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। সিরিজের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০ রানে হারিয়েছে টাইগারদের। ফলে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। ব্লুমফন্টেইনে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে বোলিংয়ের শুরুটা ভালোই ছিলো টাইগারদের। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন অফ-স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। ওপেনার হাশিম আমলাকে ৩ রানে থামিয়ে দেন মিরাজ। হাশিম আমলা দ্রুত আউট হলেও ৪৮ বলে ৭৯ রানের জুটি গড়েন আরেক ওপেনার কুইন্টন ডি কক ও এবি ডি ভিলিয়ার্স। এই জুটির কল্যাণেই বড় স্কোর গড়ার সুযোগ পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। দলীয় ৯৭ ও ইনিংসের দশম ওভারে বাংলাদেশ দ্বিতীয় সাফল্যও পায় ঐ মিরাজের হাত ধরে। ৮টি চারে ২৭ বলে ৪৯ রান করা ডি ভিলিয়ার্সকে থামিয়ে দেন মিরাজ। তার বিদায়ের পর দলীয় ১৩৩ রানের মধ্যে আরও ২ উইকেট তুলে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার রানের লাগাম টেনে ধরার পথ তৈরি করেন সাকিব ও রুবেল হোসেন। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ডুমিনিকে ১৩ রানের বেশি করতে দেননি সাকিব। ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৪ বলে ৫৯ রান করে রুবেলের প্রথম শিকার হন ডি কক। ১৫তম ওভার শেষে পঞ্চম উইকেটে জুটি বাঁেধন ডেভিড মিলার ও ফারহান বেহারদিয়ান। শেষ ৫ ওভারে অবিচ্ছিন্ন ৬২ রান যোগ করেন তারা। ফলে ৪ উইকেটে ১৯৫ রানের বড় সংগ্রহ পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। মিলার ১৯ বলে ২৫ ও বেহারদিয়ান ২টি করে চার ও ছক্কায় ১৭ বলে ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের মিরাজ ২টি, সাকিব-রুবেল ১টি করে উইকেট নেন। জয়ের জন্য ১৯৬ রানের টার্গেট ছিল বাংলাদেশের সামনে। তবে এই কঠিন টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনাই করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকার। প্রথম ২৩ বল থেকে ৪২ রান যোগ করে ফেলেন তারা। এরমধ্যে মাত্র ১০ রান করে ফিরেন ইমরুল। তবে মারমুখী মেজাজে ছিলেন সৌম্য। তার সাথে মারমুখী ছিলেন ইমরুলের বিদায়ে উইকেটে আসা সাকিবও। তাই পাওয়ার প্লের প্রথম ৬ ওভারেই ৫৫ রান পেয়ে যায় বাংলাদেশ। তবে সপ্তম ওভারের শেষে সাকিবের বিদায় ঘটে। ৩টি চারে ৮ বলে ১৩ রান করে ফিরেন তিনি। তবে ব্যাট হাতে অবিচল ছিলেন সৌম্য। বড় ইনিংস খেলার পথেই ছিলেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান। কিন্তু দশম ওভারের প্রথম বলেই লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে প্যাভেলিয়নে ফিরে যান সৌম্য। এবারের সফরে একটি টেস্ট ও ওয়ানডেতে যথাক্রমে ৯,৩ ও ৮ রান সৌম্য এবার করেন ৪৭ রান। তার ৩১ বলের ইনিংসে ৫টি চার ও ২টি ছক্কা ছিলো। সৌম্যর বিদায়ের পর মিডল-অর্ডারে শক্ত হাতে কোন ব্যাটসম্যানই দলের হাল ধরতে পারেননি। এতে বাংলাদেশের হার নিশ্চিত হয়ে যায় সেখানেই। উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম ১৩, সাব্বির রহমান ১৯ ও মাহমুদুল্লাহ ৩ রান করেন। শেষদিকে সাইফউদ্দিনের ২৭ বলে অপরাজিত ৩৯ ও মিরাজের ৮ বলে ১৪ রানের কল্যাণে ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেটে ১৭৫ রান করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। দলীয় ১৫০ রানে নবম উইকেট পতনের পর দলের হারের ব্যবধান কমিয়েছেন সাইফউদ্দিন। শেষ উইকেট জুটিতে রুবেলের সাথে অবিচ্ছিন্ন ২৫ রান যোগ করেন সাইফ। দক্ষিণ আফ্রিকার প্যাটারসন-হেনড্রিক্স-ফ্রাইলিন্সক- ফেলুকুয়াও ২টি করে উইকেট নেন। ম্যাচের সেরা হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডি ভিলিয়ার্স। আগামীকাল পচেফস্ট্রুমে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০ ওভারে ১৯৫/৪ (ডি কক ৫৯, আমলা ৩, ডি ভিলিয়ার্স ৪৯, দুমিনি ১৩, মিলার ২৫*, বেহারদিন ৩৬*; সাকিব ১/২৮, মিরাজ ২/৩১, রুবেল ১/৩৪, তাসকিন ০/২১, শফিউল ০/৩৩, সাইফ ০/২০, মাহমুদউল্লাহ ০/২৩)
বাংলাদেশ: ১৭৫/৯ (ইমরুল ১০, সৌম্য ৪৭, সাকিব ১৩, মুশফিক ১৩, সাব্বির ১৯, মাহমুদউল্লাহ ৩, সাইফ ৩৯*, মিরাজ ১৪, তাসকিন ০, শফিউল ১, রুবেল ২*; প্যাটারসন ২/২৯, হেনড্রিক্স ২/৪২, ফ্রাইলিংক ২/৩৩, ফেলুকওয়ায়ো ২/২৫, দুমিনি ০/১৫, ফাঙ্গিসো ১/৩০)
ম্যাচসেরা: এবি ডি ভিলিয়ার্স।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ