ঢাকা, শনিবার 28 October 2017, ১৩ কার্তিক ১৪২8, ৭ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাগমারার ৩৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একযুগেও এমপিওভুক্ত হয়নি

রাজশাহী: বাগমারা মহাবিদ্যালয় এমপিওভুক্ত হয়নি দীর্ঘ একযুগেও -সংগ্রাম

আফাজ্জল হোসেন বাগমারা (রাজশাহী) থেকে : রাজশাহীর বাগমারায় বেতনের আশায় প্রায় ছয়শত জন শিক্ষক বর্তমানে মানবেতর জীবর যাপন করছেন। গত ১২ থেকে ১৩ বছর ধরে  তারা বিনা বেতনে শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন। এ সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এখন প্রহর গুনছে কবে তাদের এমপিও (মানথলি প্রে ওডার) ভুক্ত করা হবে। মনোরম পরিবেশ ও সুদক্ষ শিক্ষক দিয়ে সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হলেও সরকারী অনুদান না পেয়ে শিক্ষকরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বাগমারায় ১৬ টি মাদ্রাসা ১৮টি  স্কুল ও ৫টি কলেজ এখনো এমপিও ভুক্ত হয়নি। এমপিওভুক্ত না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন না। তারা বেতনের আশায় ১২-১৩বছর ধরে বিনা বেতনে শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন। এমপিও’র তালিকায় অপেক্ষমাণ বাগমারার সবচেয়ে পুরাতন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাগমারা মহাবিদ্যালয়টি বাগমারা থানার সন্নিকটে একটি মনোরম পরিবেশ ১৯৯৫ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত করা হয়। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ জিয়াউল আলম রাবু। এই কলেজটি প্রথমে যার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত তিনি ওই গ্রামের এক কৃতী সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড. নুরুল ইসলাম মিঞা। তার ত্যাগী জীবনের ইতিহাস স্মরনীয়। সে সময়ে উচ্চ শিক্ষিত হয়েও তিনি জীবনের সব আশা আকাংখ্যা বাদ দিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রমে বাগমারার সেবা করেছেন। তার মৃত্যুর পরও তার সুযোগ্য ছেলে জিয়াউল আলম রাবু শক্ত হাতে হাল ধরে কলেজটি চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে কলেজটির শিক্ষার গুণগত মান চমৎকার। কলেজে এইচ এসসি স্তরে ৪ শতাধিক ও ডিগ্রী স্তরে ২ শতাধিক অধ্যয়নরত প্রায় ৬ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী। সুদক্ষ শিক্ষকমন্ডলীর দ্বারা পরিচালিত ৪ তলা বিশিষ্ট বিশাল আকারের একলেজ। প্রতিষ্ঠানটি এইচ এসসি লেভেলের বেতন হলেও আজও ডিগ্রী লেভেলের বেতন হয়নি। দীর্ঘ ১২ থেকে ১৩ বছর ধরে বিনা বেতনে ডিগ্রী স্তরের শিক্ষকরা শ্রম দিয়ে যাচ্ছে। অক্লান্ত পরিশ্রমে মিলেনি আজও শিক্ষক কর্মচারীদের আকাংখিত এমপিও। কলেজের শিক্ষকা শারমিন সুলতানা জানান, বেতনের আশায় এখন প্রহর গুনছি।
সংসারে অর্থ কষ্ট এখন মরন ব্যাধির মত চেপে বসেছে। পিতার অবর্তমানে মায়ের সংসারে এখন বুঝা হয়ে মানসিক চাপে দিন চলে। কলেজের অধ্যক্ষ জিয়াউল আলম রাবু বলেন, এমপিও ভুক্ত না হওয়ায় বিনা বেতনে শিক্ষকতা করে দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষার মান ধরে রেখেছে শিক্ষকরা। বেতনভুক্ত হলে জাতিকে তারা অনেক ভাল কিছু উপহার দিতে পারবে।
একই অবস্থা গোপালপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গত ১৯৯৮ সাল হতে আলিম শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়ে বেশ সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এছাড়া বিগত কয়েক বছরের ফলাফল ভাল। অথচ আজও এমপিও হয়নি প্রতিষ্ঠানটি। এমপিও ভুক্ত না হওয়ায়  শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
গত ১২/১৩ বৎসর ধরে এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা বিনা বেতনে চাকরি করছেন। তাদের স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। মাদ্রাসার শিক্ষক হাফিজুর রহমান জানান, বেতনের আশায় এখন প্রহর গুনছি। সংসারে অর্থ কষ্টে জীবন চলছে। হাটমাধনগর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক ইসমাইল হোসেন জানান, বেতনের আশায় তাদের জীবনের অনেকটা সময় চলে গেলেও বেতন পেলেন না। বাগমারায় এখনও এমপিও ভুক্ত না হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে, বাগমারা মহাবিদ্যালয় (ডিগ্রী স্তর), গোপালপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার (আলিম স্তর) ও ভোকেশনাল শাখা, বালানগর হাইস্কুল (মাধ্যমিক স্তর) হাটমাধনগর আলিম মাদ্রাসা ও শ্রীপুররামনগর আলিম মাদ্রাসার আলিম স্তর। এছাড়া সৈয়দপুর-মচমইল মহিলা কলেজ (ডিগ্রী স্তর) নাছিরগঞ্জ কলেজ (ডিগ্রী স্তর)।
মচমইল, কোন্দা, কোয়ালীপাড়া, নখোপাড়া, হাট-একডালা, খাজাপাড়া মহিলা মাদ্রাসা, কুমারপুর আলিম মাদ্রাসা, অর্জুনপাড়া, গোবিন্দপাড়া ও নরদাশ দাখিল মাদ্রাসার দাখিল স্তর। বেলঘরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ফাজিল স্তর।
সুলতানপুর ও পীরগঞ্জ স্কুলের মাধ্যমিক স্তর। কুলিবাড়ী, যোগীপাড়া, ঝিকড়া, বিলসনি, ভবানীগঞ্জ আইড়িয়াল, সাজুড়িয়া, নাজিরপুর, সোনাডাঙ্গা, রুহিয়া মাহমুদপুর, সারন্দী, অভ্যাগত পাড়া, বাইগাছা ও আক্কেলপুর নি¤œমাধ্যমিক স্কুল, মজোপাড়া মহিলা, কাতিলা, খালগ্রাম ও দ্বীপনগর মহিলা বিএম কলেজ। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ প্রায় সকল শিক্ষকের সরকারি চাকরির বয়স অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। তাদের কোথাও যাবার জায়গাও নেই। নিজের জীবন অন্ধকারে রেখে অজপাড়াগাঁয়ে তারা শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অনেক ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাগমারায় রয়েছে। কিন্তু সেগুলো এখনও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকরা সত্যিই মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ