ঢাকা, শনিবার 28 October 2017, ১৩ কার্তিক ১৪২8, ৭ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

১২ লাখ বিদেশী বসবাস করলেও আয়কর দেন মাত্র ১৬ হাজার

 

এইচ এম আকতার : কর ফাঁকিতে পিছিয়ে নেই বিদেশী নাগরিকরাও। কর ফাঁকিবাজ এসব বিদেশী নাগরিকরা এখন কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এজন্য দেশে কর্মরত বিদেশী কর্মীদের তথ্য যাচাই বাছাই শুরু হয়েছে। এনবিআর বলছে মাত্র ১৬ হাজার আর অর্থমন্ত্রণালয় বলছে ২ লাখ বৈধ নাগরিক রয়েছে। আসলে অবৈধ নাগরিকই রয়েছে প্রায় ১২ লাখ। সরকারের কাছে সঠিক ডাটাবেজ না থাকার কারণে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এসব নাগরিক। 

জানা গেছে, বৈধ-অবৈধ যে ১২ লাখ বিদেশী নাগরিক বাংলাদেশে বসবাস করছে তাদের অধিকাংশের বেতনই ৫০ হাজার টাকার উপরে। অনেকের বেতন ৫ লাখের উপরে। এসব বিদেশী নাগরিকের সবাই দক্ষ শ্রমিক। যাদের বেতন মাসিক ২৫ হাজার টাকা তারাই আয় কর দেয়ার কথা। এ হিসেবে ১২ লাখ বিদেশী নাগরিকই আয় কর দেয়ার কথা। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ১৬ হাজার নাগরিক আয় কর দাখিল করে থাকে। তাহলে বাকিরা কেন আয় কর দেন না। এজন্য সংশ্লিষ্টরা এনবিআরকে দায়ী করেছেন। 

এনবিআর সারা দেশে চিরুনি অভিযান চালালেও এসব বিদেশী নাগরিকদের খোঁজে পাচ্ছে না তারা। লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করলেও এনবিআরের জালে আটক হচ্ছে না তারা। এতে করে সরকার কয়েক হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। এদেরকে জাতীয় ডাটাবেজর আওতায় আনা গেলেই আয় কর পাওয়া যেত। অন্যদিকে অপরাধ প্রবনতাও কমতো। কিন্তু এনবিআরের উদাসিনতার কারনেই ডাটাবেজের আওতায় আসছেনা বৈধ-অবৈধ এসব বিদেশী নাগরিক।

গড়ে প্রায় ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। সরকারি-বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে বাড়ছে বিনিয়োগ-কর্মসংস্থান। তাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেশের পাশাপাশি বাড়ছে দক্ষ বিদেশী কর্মীর চাহিদাও। তবে বিদেশীদের কাজ করার ক্ষেত্রে আইন থাকলেও তা অনেকটাই নমনীয়। দেশে অনেক বিদেশী কর্মী কাজ করলেও সঠিক আয় দেখান না অনেকেই। আবার দেখালেও তা কমিয়ে দেখান। এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

যদিও বাংলাদেশে ঠিক কত বিদেশী নাগরিক কাজ করেন তার প্রকৃত সংখ্যা নেই কারো কাছে। বিনিয়োগ বোর্ড, বেপজা ও এনজিও ব্যুরো এ তিন প্রতিষ্ঠানের তথ্য বলছে, বৈধভাবে বাংলাদেশে বিদেশী নাগরিক কাজ করছেন মাত্র সাড়ে ১৬ হাজার। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব বলছে, দেশে অবস্থানরত বিদেশীর সংখ্যা দুই লাখেরও বেশি। যারা প্রতিবছর ৫ বিলিয়ন ডলারের সম পরিমাণ অর্থ আয় করে নিয়ে যান বাংলাদেশ থেকে। সবশেষ অর্থবছর পর্যন্ত ১২ হাজার বিদেশী কর্মীর তথ্য আছে এনিবআরের কাছে। যার মধ্যে আয়কর বিবরণী পাওয়া গেছে ১০ হাজার কর্মীর। 

এনবিআরের সদস্য(কর প্রশাসন)আব্দুর রাজ্জাক বলেন,যাদের টিন নম্বর রয়েছে তাদের অবশ্যই কর দিতে হবে। তা না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। নতুন বিদেশীদের করের আওতায আনতে আমাদের কর কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

তিনি বলেন, যেসব অফিসে বিদেশী কর্মকর্তা-কর্মচারি রয়েছে তথ্য দিয়ে আমাদের সহায়তা করতে হবে। তা না হলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। এজন্য আমাদের ট্রান্সপোর্স এবং কর অঞ্চলের কর্মকর্তারা রয়েছেন। তারা সব সময় খোজ খবর রাখছেন। এ অবস্থায় কঠোর নজরদারিতে আসছে বিদেশী কর্মীদের আয়ের বিষয়টি। কর প্রশাসনের এই সদস্য বলছেন, এ ব্যাপারে সহযোগিতা না করলে নেয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।

এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, করযোগ্য হলে অবশ্যই কর দিতে হবে। এটি সারা বিশে^ একই আইন চালু রয়েছে। কিন্তু কর আদায়ে যাতে কোন ধরনের হয়রানির শিকার না হন সে দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। যদি তারা হয়রানির শিকার হন তাহলে বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এনবিআরের এমন উদ্যোগ নিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি বলছেন, অভিযান বা পরিদর্শন সঠিকভাবে হলে আপত্তি নেই। তবে কোনরকম হয়রানি যেন না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। আয়কর আইন অনুযায়ী, বিদেশী কর্মীরা তিন মাস অবস্থান করলেই তার আয় -ব্যয়ের নথি চালু করতে হয়। তার ব্যত্যয় হচ্ছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে কর বিভাগ।

জানা গেছে শুধুমাত্র সার্কভুক্ত ৬ দেশের প্রায় সাড়ে ১২ লাখেরও বেশি নাগরিক অবৈধভাবে বাংলাদেশে থাকছে। ওইসব দেশের বৈধভাবে নাগরিক থাকছেন ২ লাখ ১৫ হাজার ৩শ ৬৬ জন। আর সব মিলিয়ে বাংলাদেশে ওই ৬ দেশের নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ ৬৮ হাজার ২৪।

সার্কভক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নাগরিক হচ্ছে ভারতের এবং কম হচ্ছে মালদ্বীপের। ভারতের পর পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলংকা ও ভুট্টান। স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, অবৈধ এসব বিদেশী নাগরিকদের মধ্যে অনেকেরই বর্তমানে ওয়ার্ক পারমিট নেই এবং ভিসার মেয়াদও শেষ। এরপরও তারা বিভিন্ন ব্যবসা ও চাকরি করছে। অনেকেই বাংলাদেশী জাল পাসপোর্ট এবং জাল ন্যাশনাল আইডি কার্ডও ব্যবহার করছে। কেউ কেউ বাংলাদেশের ভোটারও হয়েছে। এসব বিদেশী নাগরিকের সিংহভাগই ঢাকায় বসবাস করেন। এদেশের শ্রমবাজারের একটি অংশ দখল করে আছে। তারা বিভিন্নভাবে আয় করে উপার্জিত টাকার সিংহভাগই নিজ নিজ দেশে পাঠাচ্ছেন। ফলে একদিকে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ এবং অন্যদিকে আর্থিকভাবে বাংলাদেশ সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশে বিভিন্ন ভাবে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ। এরমধ্যে বৈধ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৭ এবং অবৈধ প্রায় ১০ লাখেরও বেশি। পাকিস্তানের নাগরিক ৫৪ হাজার ৩শ ৭, বৈধ ২৪ হাজার ৩শ ৭ এবং অবৈধ প্রায় ৩০ হাজার। নেপালের নাগরিক ২৭ হাজার ৬, বৈধ ১২হাজার ২শ ৪০ এবং অবৈধ প্রায় ১৫ হাজার। শ্রীলংকার ৮ হাজার ৫শ ২৩, বৈধ ৫ হাজার ২৩ এবং প্রায় অবৈধ ১০ হাজার। ভূটানের ২০ হাজার ৫৬, বৈধ ১৬ হাজার ৭ এবং প্রায় অবৈধ ৪ হাজার এবং মালদ্বীপের ১৭ হাজার ৩২, বৈধ ৮ হাজার ৩২, বাকী প্রায় ৯ হাজার অবৈধ।

বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন দূতাবাসের মধ্যে ভারতীয় দূতাবাসের লোকবলও বেশি। ভারতীয় নাগকিরদের মধ্যে বেশির ভাগই গার্মেন্ট, ক্লিনিক্যাল, সিমেন্ট এবং ইপিজেড ব্যবসায় জড়িত। প্রায় শতাধিক গার্মেন্টের মালিক ভারতীয় নাগরিক। আর তাদের মালিকানায় রয়েছে প্রায় সহস্রাধিক ফ্ল্যাটবাড়ী। এছাড়া ইপিজেডের সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান, নার্সিং এবং এনজিওতে কেউ কেউ কর্মরত রয়েছে।

পাকিস্তানের নাগরিকদের মধ্যে সিংহভাগই গার্মেন্ট, কাপড় এবং চামড়া জাতীয় ব্যবসায় জড়িত। নেপালের নাগরিকদের মধ্যে বেশির ভাগই ছাত্র। এরা ডাক্তারী বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে এদেশে এসেছে। কেউ কেউ পাস করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। ভুটানের নাগরিকদের মধ্যে বেশির ভাগই গ্যাস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। শ্রীলংকার নাগরিকরা ব্যবসা ও পেশায় নিয়োজিত। আর মালদ্বীপের নাগরিকদের মধ্যে অধিকাংশই ডিপ্লোমা নার্সিং পেশায় জড়িত। এছাড়া মালদ্বীপের বেশকিছু নার্সিং-এ অধ্যায়নরত ছাত্রছাত্রী রয়েছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এসব নাগরিক চোরাপথে অর্থাৎ অবৈধভাবে নিজ নিজ দেশে যাতায়াতও করছেন। বর্ডার গার্ড এবং পুলিশসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এক শ্রেণির সদস্যের সঙ্গে দুর্নীতি এবং সখ্যতার কারণে অবৈধভাবে থাকা এসব নাগরিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে অবৈধভাবে অবস্তানকারী নাগরিকদের দ্রুত আইনি ব্যবস্তা নেওয়ার ব্যাপারে একটি সংস্থা বেশ তৎপর রয়েছে।

জানা গেছে সরকার দেশি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে তযটা তৎপর বিদেশীদের কাছ থেকে কর আদায়ে ততটাই নিরব। কি কারনে এই নীরবতা পালন করছে তা বুঝা খুবই কঠিন। তাদের ডাটাবেজে আনতে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এ কারণে একদিকে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অন্যদিকে নানা অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু তার পরেও ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

সরকার মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মিয়ানমার থেকে আসা ৬ লাখ রোহিঙ্গাকে ডাটাবেজের আওতায় আনতে সক্ষম হয়। কিন্তু কয়ে ক যুগ পেরিয়ে গেলেও এসব বৈধ-অবৈধ বিদেশী নাগরিকদের ডাটা বেজের আওতায় আনতে পারেনি। এতে বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয় সরকারের আন্তরিকতার াভাব রয়েছে।

এর আগে একাধিক বার ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এবং আইএমএফের সদস্যদের অবৈধ গাড়ি জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা। সরকার যদি এসব নাগরিকদের ডাটাবেজের আওতায় আনতে পারতেন তাহলে এভাবে অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়াতে সাহস পেতেন না।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, মূলত কম বেতনে রাখার জন্যই প্রতিষ্ঠানের মালিক এনবিআরকে সঠিক তথ্য দেননা। তারা যদি আমাদের সঠিত তথ্য না দিয়ে থাকেন তাহলে কিভাবে রাজস্ব আদায় করবে এনবিআর। একইভাবে তাদের অসহযোগিতার কারনেই সঠিক সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। বৈধ-অবৈধ মিলে ১৩ লাখ বিদেশী নাগরিক থাকলেও আয় কর দিয়ে থাকেন মাত্র ১২ হাজার। বাকিরা এখনও এনবিআরের নেটের বাহিরে। বিদেশী যত নাগরিক বাংলাদেশে রয়েছে তারা সবাই দক্ষ। তাদের অনেকেই এদেশে বিনিয়োগ রয়েছে। তারা সবাই কর দেয়ার যোগ্য।

কিন্তু যেসব প্রতিষ্ঠানে তারা কাজ করে তাদের অসহযোগিতার কারনেই এসব নাগরিককে করের আওতায় আনা যাচ্ছে না। তবে এ নিয়ে কাজ করছে এনবিআর। সবাই যদি আমাদের সহায়তা করে তাহলে এসব বৈধ-অবৈধ সব নাগরিককে করের আওতায় আনা যাবে। তাদের করের আওতায় আনতে আমাদের বিশেষ টাস্কফোর্স কাজ করছে। ধানমন্ডি,উত্তরা, বারিধারা, গুলশান এলাকায় এসব নাগরিকদের বসবাস। এ অঞ্চলের কর কর্মকর্তাদের অনুসন্ধানের কথা বলা হয়েছে। তাদের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানে যেতে বলা হয়েছে। যদি তাদের করের আওতায় আনা যায় তাহলে দেশে রাজস্ব আরও বাড়বে। সেই সাথে দেশে অপরাধের পরিমানও অনেক কমবে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশে অফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের অবৈধ নাগরিক বসবাস করে থাকেন। নানা অপরাধ কর্ম কান্ডের সাথে তাদের সম্পর্ক রয়েছে। তানজানিয়া,নাইজেরিয়া,উগান্ডাসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিক অবৈধভাবে বসবাস করছে। তারা আসলে এ দেশে কি কাজ করেন। কোথায় থাকেন তা কেই জানেনা। এ নিয়ে সরকারের কোন উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে না।

 বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন বহু বিদেশী। বাংলাদেশে এসে ব্যবসার কথা বলে বিভিন্নভাবে টাকা পাচারের অভিনব। দেশের বিভিন্ন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে দেশের টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিদেশীদের বেতন, ফি বাবদ প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ চলে গেলেও ওয়ার্ক পারমিট বা অনুমতি নিয়ে বাংলাদেশে কাজ করছেন মাত্র কয়েক হাজার ব্যক্তি। অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নেওয়া অর্থের বিষয়ে তথ্য থাকলেও এর বাইরে যেসব অর্থ যাচ্ছে এর কোনো হদিস নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, যে পরিমাণ অর্থ বিদেশী নাগরিকরা নিয়ে যান, বাংলাদেশে এর চেয়ে কম পরিমাণ অর্থ রেমিট্যান্স হিসেবে আসে। বাংলাদেশে বিদেশীদের উচ্চ বেতনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগকৃত এসব বিদেশীর বাংলাদেশের তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে ওয়ার্ক পারমিট নিতে হলেও তা না নিয়েই কাজ করছেন তারা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে নিয়োগের কথা থাকলেও ওই তিনটি প্রতিষ্ঠানের কোনোটির কাছেই বিদেশীদের সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে এ দেশে গত পাঁচ বছরে আসা বিদেশীদের কেউই ফিরে যাননি। যারা একবার ওয়ার্ক পারমিট নিয়েছেন, আর কখনোই নবায়ন করেননি। বিভিন্ন এনজিও, আইটি প্রতিষ্ঠান, গার্মেন্টসহ বড় বড় কোম্পানি কনসালটেন্ট নিয়োগ দিচ্ছে বিদেশীদের। এসব কনসালটেন্ট বাংলাদেশে না এসে তাদের ফি বাবদ নিয়ে যাচ্ছেন কোটি কোটি ডলার। বাস্তবে নিয়োগ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো ফি বাবদ হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে দিচ্ছে। 

 দেশের গার্মেন্ট কোম্পানিগুলোতে ১৮ থেকে ২০ হাজারের মতো বিদেশী কর্মরত আছেন। এই খাতে বিদেশীরা মোট কত টাকা উপার্জন করছে এর কোনো হিসাবই নেই। কিন্তু বিনিয়োগ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, কাজের অনুমতিপ্রাপ্ত মাত্র কয়েকশ ব্যক্তি রয়েছেন গার্মেন্ট শিল্পগুলোতে। এসব বিদেশী একবার বাংলাদেশে এসে যেন সোনার খনি পেয়ে আর ফিরে যান না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশীদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে চলে যাচ্ছে পাঁচ বিলিয়ন ডলার। এনজিওবিষয়ক ব্যুরো থেকে অনুমতি নিয়ে এ দেশে কাজ করছেন মাত্র ৫০০ জনের মতো। কিন্তু বাস্তবে আছে প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি।

বিনিয়োগ বোর্ডের অনুমতি নিয়ে এদেশে কাজ করার কথা থাকলেও কত বিদেশী নাগরিক এদেমে কাজ করছে তার কোন সঠিক তথ্য নেই তাদের কাছে। একইভাবে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো এবং বাঙলাদেশ ব্যাংকও জানেনা কত বিদেশী শ্রমিক কাজ করছে। তাহলে কিভাবে করের আওতায় আসবে এসব বৈধ-অবৈধ নাগরিক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ