ঢাকা, রোববার 29 October 2017, ১৪ কার্তিক ১৪২8, ৮ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

২৮ অক্টোবরের হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার একদিন হবেই

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ঢাকায় অবরোধ কর্মসূচি দেয়া হয়েছিল। সেদিন শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, সারা বিশ্বের মানুষ দেখেছে আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠার তান্ডব। লগি-বৈঠা দিয়ে তারা রাজধানীর পল্টনে ৬ জন মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করেছিল। শুধু তাই নয় সেদিন তারা মৃতদেহের ওপরে দাঁড়িয়ে নৃত্যও করেছিল। নিহতদের আত্মার দায়িত্ববোধের চেতনা থেকে বলতে বাধ্য হচ্ছি, এর বিচার বাংলাদেশের মাটিতে একদিন হবেই।

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করে ন্যাশন্যাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)। 

 ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, আমরা দু'বছর কোনো ধরনের আন্দোলনমুখী কর্মসূচি দিইনি। তার মানে এই নয় যে আমরা শক্তি হারিয়ে ফেলেছি। দেশের মানুষ বিএনপির কর্মসূচির অপেক্ষায় আছে। আমরা সরকারকে বুঝানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছি। তাদেরকে বলছি আসুন, এখনও সময় আছে, সমঝোতার মাধ্যমে সহায়ক সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করি। সরকার বুঝতে ব্যর্থ হলে গণবিস্ফোরণের মাধ্যমে তাদেরকে বাধ্য করা হবে। যেমন করা হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। আগামীতে দেশে কোনো একদলীয় নির্বাচন করতে দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, সংবিধান জনগণের ঊর্ধ্বে নয়, সংবিধান জনগণের কল্যাণের জন্য। সংবিধানের দোহাই দিয়ে কোনো লাভ হবে না। জনগণ একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। সরকারকে তা বুঝে মেনে নিতে হবে। অন্যথায় গণবিস্ফোরণের মাধ্যমে তাদেরকে বাধ্য করা হবে।

 প্রধানমন্ত্রীর অধীনে জাতীয় নির্বাচন হলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে মন্তব্য করে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, নির্বাচনের ৯০ দিন আগে অবশ্যই সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। আর এসব করা হলেই জাতীয় নির্বাচন সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

বিএনপির এই নীতি নির্ধারক আরও বলেন, এখন থেকে আমরা সহায়ক সরকারের বদলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানাবো।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১৮ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব তুলে ধরতে করা সাংবাদিক সম্মেলনে খালেদা জিয়া সর্বপ্রথম নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের রূপরেখা তুলে ধরেন। পরে সময় মতো এই সরকারের রূপরেখা দেয়ার কথাও বলেন তিনি।

এরপর থেকে বিএনপি নেতারা সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে বলে দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে এই সরকার কেমন হবে, সে বিষয়ে দলটি কোনো কিছুই বলেনি।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরকার কূটনৈতিকভাবে ব্যর্থ বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই সিনিয়র নেতা। তিনি বলেন, আজকে ভারত, চীন ও রাশিয়া সমর্থন দিচ্ছে না অথচ বাংলাদেশে তাদেরকে এতো বেশি বিনিয়োগের সুবিধা দিয়েছেন। তাহলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমর্থন আদায় করতে পারছেন না কেন?

তিনি আরও বলেন, আগে ভারত, চীন ও রাশিয়ার সমর্থন আদায় করতে হবে। এখানে আমাদের কূটনীতিক ব্যর্থতা আছে। সরকার এই জটিলতা আরো জটিলতর করছে। জাতিসংঘ একটা কিছু করার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না। এভাবে সংখ্যা বৃদ্ধি আর সময় যেতে থাকলে সন্ত্রাসী কর্মকা-ে নেমে যাবে রোহিঙ্গারা। তাতে উগ্রপন্থিরা দেশে ঢুকবে। জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হবে।

সংগঠনের সভাপতি ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন-সংগঠনের মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান রহমান মোস্তফা, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ