ঢাকা, রোববার 29 October 2017, ১৪ কার্তিক ১৪২8, ৮ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চৌহালীতে কর্মসৃজন প্রকল্প কাজের দুই কোটি টাকা লুটপাট

আব্দুস ছামাদ খান, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) : সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা যমুনা নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা হওয়ায় উচ্চ পর্যায়ের তদারকির অভাবে সরকারী তেমন কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে না। উন্নয়ন কাজের বরাদ্দকৃত টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা।
 সরকারীভাবে যে সকল বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে তার ৫০ ভাগ কাজও হয় না । উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন যমুনা নদী ভাঙ্গন কবলিত। শুধু মাত্র সদিয়াচাঁদপুর ইউনিয়নের কিছু অংশ যমুনা নদীর পশ্চিম পাড়ে থাকায় জেলা সদরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় উন্নয়ন কাজে অনিয়ম ও দূর্নীতি কম।
এছাড়া ভাঙ্গন কবলিত ইউনিয়ন গুলোতে সরকারী উন্নয়ন কাজের টাকা আত্মসাধের অভিযোগ রয়েছে।   বিধবা ভাতা থেকে শুরু করে ভিজিএফ , বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, ভিজিডি কার্ড সঠিক ভাবে বন্টন করা হয় না। এমনকি হতদরিদ্রদের জন্য সরকার যে কর্মসৃজন প্রকল্প দিয়েছে তার প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে কাজের ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এ প্রকল্পের প্রায় দুই কোটি টাকা চলে গেছে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনীধিদের পকেটে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায় উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের ২৩টি প্রকল্পের ১ কোটি ৪৬ লাখ ২৪ হাজার টাকার কাজে ১৮২৮ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা থাকলেও কাজ করেছেন মাত্র ৪১০ জন। ২য় পর্যায়ে খাষকাউলিয়া ইউনিয়নে ৩টি প্রকল্প স্থগিত হওয়ায় বাকি ৬টি ইউনিয়নে ২০টি প্রকল্পের ১ কোটি ২৯ লাখ ২০ হাজার টাকার কাজে ১৬১৫ জন শ্রমিক কাজ করার কথা থাকলেও কাজের সুযোগ পেয়েছেন মাত্র ৩১৭ জন শ্রমিক। অধিকাংশ প্রকল্প ভুয়া নামে রয়েছে যার কোনো অস্তিত্বই খুজে পাওয়া যায়নি। বিনানই মধ্যপাড়া এবতেদায়ী মাদ্রাসার মাটি ভরাট কাজের জন্য যে প্রকল্প দেখানো হয়েছে এনামে কোনো মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং যাদের বসতভিটা উঁচুকরণ করার জন্য প্রকল্পে নাম দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে ডাঃ এনামুল, হাজেরা বেগমসহ ৯ জনের সাথে কথা হয় তারা বললেন, আমাদের বসতভিটা উঁচুকরণ সম্পর্কে আমরা কিছুই জানিনা বা কোনো শ্রমিক এখানে কাজ করতে আসেনি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিমের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি টাকার বিনিময়ে প্রকল্প অনুমোদনের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং দুর্নীতি ও  অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি এবং এ ব্যাপারে সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন ও উপজেলায় গিয়ে তার সাথে দেখা করতে বলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান জানান, এসব প্রকল্পে দূর্নীতি, অনিয়ম ও টাকা ভাগ-বাটোয়ারা কাজে যারা জড়িত তদন্ত করে এদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এব্যাপারে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রকল্প এলাকাবাসী সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ