ঢাকা, রোববার 29 October 2017, ১৪ কার্তিক ১৪২8, ৮ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

লালমনিরহাটের ৩টি আসনের জন্য আ’লীগ ও বিএনপি মাঠে

মো: লাভলু শেখ, লালমনিরহাট : আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির (জাপা) তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে ৩টি আসন ধরে রাখার জন্য মাঠে নেমেছে। ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ঈদ ও দূর্গোৎসব উপলক্ষে ভোটারদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে তাদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। তাছাড়াও আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব, পাড়া প্রতিবেশীদের সাথে জনসংযোগ বৃদ্ধি করছেন। অনেকেই দলীয় প্রধানদের ছবি সহ নিজের ছবি ব্যানারে ছাপিয়ে নির্বাচনী এলাকার হাট বাজারে, অফিস আদালতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, জেলা শহর ও উপজেলা সদর সহ দর্শনীয় স্থানে টাংগিয়ে প্রচারনা চালাচ্ছেন। অনেকেই দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দের সাথে সম্পর্ক মজবুত করার প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রেখেছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ৩টি দলই আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় জনসংযোগে মাঠে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
স্বাধীনতার পর সব কয়টি আসনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছিল। ৭৫ এর পর এই আসন ৩টি বিএনপির দখলে চলে যায়। বিএনপির পর সব কয়টি আসনে জাতীয় পার্টি বিজয়ী হয়েছিল। শুধু মাত্র একবার  আওয়ামী লীগ এর প্রাথী আবুল হোসেন বিজয়ী হয়েছিলেন। ৫ম সংসদীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ৩টি আসনে বিজয়ী হয়েছিল। ৬ষ্ঠ সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়। ৭ম সংসদীয় নির্বাচনে জাতীয় পাটি ৩টি আসনে বিজয়ী হয়েছিল। ৮ম সংসদীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১টি আসনে, জাতীয় পার্টি ১টি আসনে ও বিএনপি ১টি আসনে বিজয়ী হয়েছিল। ৯ম সংসদীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১টি ও জাতীয় পার্টি ২টি আসনে বিজয়ী হয়েছিল। ১০ম  সংসদীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩ টি আসনে বিজয়ী হয়েছিল। একাদশ সংসদীয় নির্বাচন দলভিত্তিতে হলে ৩ দলের মাঝে প্রতিদ্বন্দি¦তা হবে। অপর দিকে জোট ভিত্তিক নির্বাচন হলে মহাজোট প্রার্থীর সাথে বিএনপির প্রতিযোগিতা হবে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে প্রতিটি আসনে একাধিক দলীয় প্রার্থী রয়েছে। এই দলীয় প্রার্থীরা দলের মার্কা পেতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে সারা জেলা জুড়ে নির্বাচনী আমেজ পরিলক্ষিত হচ্ছে। সাধারণ ভোটারেরা দলীয় প্রার্থীদের চেয়ে নির্দলীয়, সৎ, নিষ্ঠাবান  প্রার্থী খুঁজছেন। কিন্তু নির্দলীয় প্রার্থী হতে কেহই আগ্রহ প্রকাশ করছেন না। কারণ দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের সংখ্যা এতো বেশি যে নির্দলীয় প্রার্থীকে তার সমর্থক ও কর্মীবাহিনী সৃষ্টি করা খুবই কষ্টকর। তার উপর রয়েছে টাকার খেলা। যে প্রার্থীর টাকার পরিমান বেশি সেখানেই দলীয় কর্মী সমর্থক ও নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের সমর্থন বেশি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাকা অন্যতম ফ্যাক্টর বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ। আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের পক্ষে জোরালো দাবি হচ্ছে, বিগত ৪ বছরে লালমনিরহাট জেলায় কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে শিক্ষা ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটিয়েছে। সেই সাথে দরিদ্র জনগোষ্ঠির আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। লালমনিরহাট জেলাকে দরিদ্র, নিরক্ষর ও ভিক্ষুক মুক্ত করতে বর্তমান সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে আগামী নির্বাচনে জেলার ৩টি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ররেছে। অপর দিকে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে অর্থাৎ সাধারণ ভোটারেরা নির্বিঘেœ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে প্রতিটি আসনে বিএনপির বিজয় সুনিশ্চিত। এ দিকে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে মহাজোট ভিত্তিক নির্বাচন ছাড়াও জাতীয় পার্টি একক ভাবে নির্বাচন করলে ফলাফল তাদের পক্ষে থাকবে। ক্ষমতাসীন দল ছাড়া বিএনপি ও জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে নির্বাচন কালীন সময়ে সার্বক্ষণিক সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি করা হয়। তাছাড়াও বিএনপির পক্ষ থেকে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকার গঠন। শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনার দাবি জানানো হয়। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ