ঢাকা, রোববার 29 October 2017, ১৪ কার্তিক ১৪২8, ৮ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মিরসরাইয়ে ছাত্রলীগের হামলায় আহত ১৫

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে খালেদা জিয়ার রোহিঙ্গা কর্মসূচিকে ঘিরে বিএনপির নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে তাদের উপর হামলা করেছে ছাত্রলীগের কর্মীরা। এতে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া উখিয়া যাওয়ার পথে মিরসরাইয়ে অভ্যার্থনা জানাতে নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিলে বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ কর্মীরা ওই হামলা করে বলে অভিযোগ করেন উপজেলা বিএনপি। এসময় হামলাকারীরা বিএনপি ব্যানার, পোস্টার ছিঁড়ে জ্বালিয়ে দেয়। হামলায় আহতরা হলেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক মো.আলমগীর, জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম,বারইয়ারহাট পৌর ছাত্রদলের যুগ্ন আহ্বায়ক মো.রানা, করেরহাট ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো.মামুন, উপজেলা ছাত্রদলে সাধারণ সম্পাদক মো. ফরহাদ, ছাত্রদল নেতা ইকবাল হোসেনসহ কমপক্ষে ১৫ নেতাকর্মী। তবে উপজেলার ছাত্রলীগ এ হামলার কথা অস্বীকার করছে। শনিবার বিকেলে মিরসরাই পৌর বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম পারভেজের বাড়িতে গিয়ে পুলিশ কর্মীদের লাঠিপেটা করে। পরে ছাত্রলীগ কর্মীরা তার বাড়িতে গিয়ে মহড়া দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। নয়দুয়ার, ডাকঘর, মিরসরাই পৌর সদর ও বারইয়ারহাট এলাকায় বিএনপি নেত্রীকে স্বাগত জানিয়ে লাগানো ব্যানার পোস্টার ভেঙ্গে ছিঁড়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি নেতারা।

উপজেলা চেয়ারম্যান (সাময়িক বরখাস্তকৃত) নুরুল আমিন চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, মহাসড়কে নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিলে তাদেও উপর হামলা করে সরকারী দলের কর্মীরা। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীরের উপর তার বাড়ির সামনে হামলা করে এবং তাকে হাসাপাতালে নিতে বাঁধা প্রদান করেন। এছাড়া জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি সিরাজকে কুপিয়েছে তারা। উপজেলা বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। 

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শুক্রবার (২৭অক্টোবর) রাতে উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক আজিজুর রহমান চৌধুরীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাংচুর করে। করেরহাটে যুবদল নেতা মামুনকে পিটিয়ে আহত করে। নেত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে আমার দেয়া একটি বিলবোর্ড ও অর্ধশত ফেস্টুন পুড়ে ফেলার অভিযোগ করেছেন তিনি।

এদিকে বারইয়ারহাট, জোরারগঞ্জ, নয়দুয়ার, বড়তাকিয়া এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা সমবেত হওয়ার চেষ্টা করলেই ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এছাড়া করেরহাট, জোরারগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায় কমপক্ষে ১০ জনকে আহত করেছে। নয়দুয়ার, ডাকঘর, মিরসরাই পৌর সদর ও বারইয়ারহাট এলাকায় বিএনপি নেত্রীকে স্বাগতম জানিয়ে লাগানো ব্যানার পোস্টার ভেঙ্গে ছিঁড়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি নেতারা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বারইয়ারহাট থেকে বড়দারোগাহাট পর্যন্ত অবস্থান নেয় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরীর সমর্থকরা, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য সচিব সালাহ উদ্দিন সেলিম, বারইয়ারহাট পৌরসভার আহ্বায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী, সাবেক সভাপতি মাঈন উদ্দিন লিটন প্রমুখ।

বিএনপির অভিযোগ সম্পর্কে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন বলেন, ছাত্রলীগের কোন নেতাকর্মী বিএনপি’র নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায়নি। এধরণে কোন ঘটনা ঘটলে থাকলে এটি তাদের দলীয় অন্তর্কোন্দলের কারণে ঘটেছে। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা উপজেলা সদর, বারইয়ারহাট পৌর সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করেছে বলে জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ