ঢাকা, সোমবার 30 October 2017, ১৫ কার্তিক ১৪২8, ৯ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কাশ্মীরের মানুষ স্বাধীনতা চায় -কংগ্রেস নেতা চিদাম্বরম

কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা পি চিদাম্বরম -ছবি সংগৃহিত

২৯ অক্টোবর, ওয়ান ইন্ডিয়া, পার্সটুডে : ভারত শাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের বেশির ভাগ মানুষ স্বাধীনতা চায় উল্লেখ করে প্রদেশটিকে আরো বেশি স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে মত দিলেন দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা পি চিদাম্বরম। যদিও ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার কংগ্রেসের এই বক্তব্যকে ভয়ংকর এবং লজ্জাজনক বলেই বর্ণনা করেছে। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদাম্বরম বলেন, কাশ্মীর উপত্যকার দাবিই হলো, সংবিধানের ৩৭০ নম্বর ধারাকে শ্রদ্ধা জানানো। তার অর্থই হলো অধিক স্বায়ত্তশাসন। এ ছাড়া কাশ্মীরের বেশির ভাগ মানুষ আজাদি বা স্বাধীনতা চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।গুজরাটের রাজকোটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরম। চিদাম্বরমকে যখন প্রশ্ন করা হয়, জঙ্গি আক্রমণে বিধ্বস্ত কাশ্মীরের জন্য কি অধিক স্বায়ত্তশাসন দেওয়া উচিত। সেই সময় সম্মতিসূচক উত্তর দেন পি চিদাম্বরম।
২০১৬র জুলাইয়েও জম্মু ও কাশ্মীরে অধিক স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে মত প্রকাশ করেছিলেন ছিলেন চিদাম্বরম। যদি তা না দেওয়া হয় তাহলে ভারতকে অধিক মূল্য দিতে হবে বলে মত প্রকাশ করেছিলেন তিনি।চিদাম্বরমের বক্তব্যের কডা সমালোচনা করেছে বিজেপি। তবে তাঁর বক্তব্যে অবাক হয়নি বিজেপি নেতৃত্ব। কেননা তাদের অভিযোগ, যেই দলের নেতা ভারতকে টুকরো করার ডাককে সমর্থন করেন, তাদের থেকে এর থেকে বেশি কিছু আশা করা যায় না।
সংঘর্ষে পুলিশসহ নিহত ৩
জম্মু-কাশ্মীরে এক সংঘর্ষে পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপের এক সদস্য ও দুই স্বাধীনতাকামী নিহত হয়েছে। এছাড়া দু’জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছে।
গতকাল রোববার উত্তর কাশ্মীরের বান্দিপোরা জেলার মীর মহল্লা গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনী ও স্বাধীনতাকামীরাদের মধ্যে সংঘর্ষে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
গতকাল সংঘর্ষ শুরু হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রতিবাদী তরুণরা সড়কে নেমে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ব্যাপকভাবে পাথর নিক্ষেপ করে। এসময় নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাসের সেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি সাআল দেয়।
সংশ্লিষ্ট এলাকায় গেরিলাদের উপস্থিতির কথা জানতে পেরে আজ সকালে সেনাবাহিনীর ১৩ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ) সিআরপিএফ সদস্যরা গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে যৌথভাবে তল্লাশি চালায়। এ সময় লুকিয়ে থাকা স্বাধীনতাকামীরা গুলিবর্ষণ করলে নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা গুলিবর্ষণ করে জবাব দেয়। উভয়পক্ষের বন্দুক যুদ্ধের মধ্যে পড়ে জাহির আব্বাস নামে স্পেশাল অপারেশন গ্রুপের এক সদস্য গুরুতর আহত হয়। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি সেখানে মারা যান।
সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে উভয়পক্ষের মধ্যে গুলিবর্ষণ বন্ধ হলেও নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি অভিযান অব্যাহত চিল। গোলযোগপূর্ণ ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ