ঢাকা, সোমবার 30 October 2017, ১৫ কার্তিক ১৪২8, ৯ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাড়ে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে তুর্কী দাতব্য সংস্থার আইএইচএইচ’র ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ

মুসলিম রোহিঙ্গাদের কাছে তুর্কী দাতব্য সংস্থা ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছে -আনাদোলু এজেন্সি

২৯ অক্টোবর, আনাদোলু এজেন্সি : মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রতিক সঙ্কটে এ পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার বাস্তুচ্যুত মুসলিম রোহিঙ্গাদের কাছে তুর্কি দাতব্য সংস্থার ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর গত ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হওযা দেশটির সেনাবাহিনীর পৈশাচিক নির্যাতনে পশ্চিমাঞ্চলীয রাখাইন থেকে ৬ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালেয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে।
সামরিক বাহিনীর অব্যাহত অভিযানের মুখে শরণার্থীরা এখনো পালিয়ে আসছে। নিরাপত্তা বাহিনী ও বৌদ্ধ মিলিশিয়ারা কয়েক হাজার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুদেরকে হত্যা করেছে এবং রোহিঙ্গা গ্রামগুলো পুড়িয়ে দিয়েছে।
এক বিবৃতিতে তুর্কি মানবাধিকার রিলিফ ফাউন্ডেশনের (আইএইচএইচ) দক্ষিণ এশিযার সমন্বয়কারী মুনাযভোর হুসেইন বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের কক্সবাজার ক্যাম্প, রাখাইন রাজ্যের প্রাদেশিক রাজধানী সিটেই, মংডু এবং বুথিডাইং শহরে বিভিন্ন ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করেছি।’
তিনি আরো বলেন, মায়ানমার ও বাংলাদেশের উভয়ই ক্যাম্পে থাকা শরণার্থীদের মধ্য খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, সেনেটারি, তাবু, রান্না সামগ্রী এবং পোশাক বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ না পর্যন্ত এই সঙ্কটের অবসান হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা রোহিঙ্গাদেরকে ছেডে যাচ্ছি না।’
তুরস্কের নেতৃস্থানীয় সাহায্যকারী সংস্থা আইএইচএইচ যুদ্ধ-বিধ্বস্ত সিরিয়া, খরা আক্রান্ত সোমালিয়া ও মায়ানমারসহ বিশ্বব্যাপী দুর্গত মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা পাঠিয়ে থাকে।
তুর্কি এই মানবাধিকার সংস্থাটি ৫০টি টয়লেটসহ তিনটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করেছে। এরমধ্য বাংলাদেশে দুটি এবং অন্যটি মায়ানমারে।
এছাড়াও, ৪৫০টি পরিবারের জন্য বাঁশের তৈরি সাময়িক আশ্রয়কেন্দ্র এবং ১৩০টি গভীর নলকূপ নির্মাণ করেছে।
রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সন্ত্রাস চালানোর জন্য মায়ানমারের সেনাবাহিনীকে অভিযুক্ত করেছে জাতিসংঘ।বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ রাখাইন রাজ্যে গত ২৪ আগস্ট রাতে কয়েকটি সেনা-পুলিশ চৌকিতে হামলার পর মায়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে নতুন করে দমন অভিযানে নামে। এরপর গত দুই মাসে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।মাযানমার রোহিঙ্গাদের জাতিগত গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেয না এবং তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে বেআইনিভাবে আসা বাঙ্গালী অভিবাসী বলে অভিহিত করে। দেশটির ১৩৫টি জাতিগত গোষ্ঠী থেকে রোহিঙ্গাদের বাদ দেয়া হযেেছ এবং তাদের নাগরিকত্ব দেয়া হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ