ঢাকা, সোমবার 30 October 2017, ১৫ কার্তিক ১৪২8, ৯ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

লিসা শানকিনের উদাহরণ

বিশ্ববাসী জানেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর সমর্থকরা নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকে মুসলিম ও ইসলামভীতি প্রকাশ করে আসছেন। তাদের এমন আচরণের কারণ যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমরা বিশেষ করে মুসলিম নারীরা নানা হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। তারপরও যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামের জয়যাত্রা থেমে নেই। দেশটিতে ট্রাম্পের ঘৃণাত্মক ভাষা ব্যবহার বরং অমুসলিমদের মধ্যে ইসলামের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। তারা কোরআন গবেষণায় উৎসাহিত হয়েছেন এবং অনেকেই ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেছেন। ২৮ অক্টোবর এ বিষয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে ডেইলি পাকিস্তানে।
প্রসঙ্গত লিসা শানকিনের কথা উল্লেখ করতে হয়। মুসলমানদের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘৃণাত্মক বক্তৃতা এই মার্কিন নারীকে ইসলাম ধর্মগ্রহণে সহায়তা করেছে। ইসলাম গ্রহণ প্রসঙ্গে সম্প্রতি তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট দিলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। লিসা শানকিন একজন সাবেক সাইকোথেরাপিস্ট। তিনি মনোবিজ্ঞানের ওপর শার্লট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েট সম্পন্ন করেন। তিনি তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ট্রাম্পের ঘৃণ্য বাগাড়ম্বরপূর্ণ উক্তি আমাকে এক বছর আগে কোরআন অধ্যয়নে সাহায্য করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক ধর্ম অধ্যয়নের সময়ও এভাবে আমার পড়া হয়নি। আমি গভীরভাবে কোরআন অধ্যয়ন করেছি। শানকিন ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে হিজাব পরা শুরু করেন। এদিন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। শানকিন আরো বলেন, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে, ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি তারিখে ট্রাম্প যখন শপথ নিবেন, সেই সময় থেকেই আমার প্রকাশ্যে হিজাব পরা শুরু হবে। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মধ্যে আমেরিকাতেই সবচেয়ে বেশি মানুষ ইসলাম ধর্মগ্রহণ করছেন। নাইন-ইলেভেনের পর মুসলমানদের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা ছড়ালে তার ফলাফল কিন্তু মুসলমানদের জন্য মন্দ হয়নি, বরং ইসলামের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বেড়েছে এবং মানুষ এই ধর্মটি গ্রহণও করছে।
ঘৃণা-বিদ্বেষ মানুষের জন্য কাক্সিক্ষত বিষয় হতে পারে না। ঘৃণা-বিদ্বেষ ব্যক্তির সাথে সাথে সমাজের জন্যও ক্ষতিকর। আর এই বিষয়টিও এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার জন্য ঘৃণা-বিদ্বেষ কোন কার্যকর অস্ত্র হতে পারে না। বরং ঘৃণা-বিদ্বেষ প্রচারকারী মানুষ নিজের কাছেই ছোট হয়ে যায়। এমন ছোট মানুষের বক্তব্য মানুষ গ্রহণ করে না। বরং যার প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ প্রকাশ করা হয় তার প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। মানুষ তাকে জানতে চেষ্টা করে। যুক্তরাষ্ট্রে আমরা তেমন ঘটনাই লক্ষ্য করছি। অতএব মুসলমানদের হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ