ঢাকা, সোমবার 30 October 2017, ১৫ কার্তিক ১৪২8, ৯ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গাহত্যা বৃহৎ শক্তিগুলোর মুসলিম নিধনের অংশমাত্র

জিবলু রহমান : [তের]
এই সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গাদেরকে পূর্ণ নাগরিকত্ব প্রদানের ব্যবস্থা; তাদের অবাধ চলাচলের সুযোগ ও আইনের চোখে সমান অধিকার; রোহিঙ্গাদের স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যার অভাবে স্থানীয় মুসলিমরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং নিজ ভূমিতে ফিরে আসা রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের সহায়তা কাজে লাগানো। আনান কমিশনের সুপারিশগুলোর পূর্ণ ও তাৎক্ষণিক বাস্তবায়ন রোহিঙ্গা সংকটের অবসান ঘটাতে সক্ষম।
শান্তি স্থাপনের প্রক্রিয়া এখনই শুরু করা দরকার। আমরা এখনই ব্যবস্থা না নিলে যে আশংকার কথা আনান কমিশন মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে মনে করিয়ে দিয়েছে তা বাস্তবে নিশ্চিতভাবে জটিলতর হতে থাকবে। ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে সময়ক্ষেপণ এবং মিয়ানমার সরকারের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা শান্তি স্থাপন প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত ও কঠিন করে তুলবে।
কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমি নিম্নলিখিত প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপগুলো সুপারিশ করছি:
১. আনান কমিশনের সদস্যদের নিয়ে অবিলম্বে একটি ‘বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করা যার কাজ হবে কমিশনের সুপারিশগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন তত্ত্ববাবধান করা।
২. দেশটি থেকে শরণার্থীর প্রবাহ বন্ধ করতে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ।
৩. আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদেরকে নিয়মিতভাবে পীড়িত এলাকাগুলো পরিদর্শন করতে আমন্ত্রণ জানানো।
৪. যেসব শরণার্থী ইতিমধ্যে দেশ ত্যাগ করেছে তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা।
৫. ফিরে যাওয়া শরণার্থীদের পুনর্বাসনের জন্য জাতিসংঘের অর্থায়ন ও তত্ত্ববাবধানে মিয়ানমারে ট্রানজিট ক্যাম্প স্থাপন।
৬. বাস্তবায়ন কমিটির কর্তৃত্বে আনান কমিশনের প্রতিবেদনের সুপারিশ মোতাবেক রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান।
৭. রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও অবাধে চলাফেরার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
এই প্রক্রিয়ার শুরু হিসেবে মিয়ানমারের জাতীয় নেত্রী অং সান সুচি বাংলাদেশে এসে শরণার্থী ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন করতে পারেন। তিনি শরণার্থীদের এই বলে আশ্বস্ত করতে পারেন যে, মিয়ানমার যেমন তাঁর দেশ, এটা শরণার্থীদেরও নিজেদের দেশ; তিনি তাদের ফিরিয়ে নিতে এসেছেন। এ রকম একটি সফর এবং বক্তব্য পুরো পরিস্থিতিই শান্ত করে দিতে পারে।
অং সান সুচি নিশ্চয়ই এমন একটি নতুন মিয়ানমার গড়ে তুলতে চান যেখানে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না- জাতিগত, ধর্মীয়, ভাষাগত বা সাংস্কৃতিক এবং একে গড়ে উঠতে হবে মানুষের অধিকার ও আইনের শাসনের উপর ভিত্তি করে। তাঁর জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার সময়টা এখন তাঁর সামনে। তিনি কোন পথে যাবেন-শান্তি ও বন্ধুত্বের, নাকি ঘৃণা ও সংঘর্ষের, তা বেছে নেয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্ত এটাই।   (সূত্র : দৈনিক মানব জমিন ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭)
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পর ইউরোপীয় পার্লামেন্টও রাখাইনে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করতে বলেছে মিয়ানমারকে। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ফ্রান্সের স্ত্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট তাদের প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা পরিষদ ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকে মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ দিতে বলেছে।
রাখাইনে মানবাধিকার সুরক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির শাখারভ পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়া উচিত কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা।
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট মিয়ানমারের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীকে অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণ এবং তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া বন্ধ করতে বলছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এক বিতর্ক শেষে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও ইউরোপিয়ান কমিশনকে মিয়ানমার সরকারের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘন ঠেকাতে চাপ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রস্তাবে অবরোধ আরোপের বিষয়টি বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।
মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার জন্য ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বিশ্বের কৃতী নাগরিকদের শাখারভ পুরস্কার দিয়ে থাকে। শাখারভ পুরস্কারপ্রাপ্ত অং সান সু চিকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়, এই পুরস্কার তাঁকেই দেওয়া হয় যিনি মানবাধিকার সমুন্নত রাখবেন, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দেবে এবং আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান জানাবে। পুরস্কারপ্রাপ্ত কেউ এই আদর্শগুলো লঙ্ঘন করলে তাঁর পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়া যায় কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইইউর সদস্যরা ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের জন্য তৈরি এবং মিয়ানমার যেসব বাণিজ্য-সুবিধা পেয়ে থাকে, সেটি পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট তাদের প্রস্তাবে মিয়ানমার সরকার, বিশেষ করে অং সান সু চিকে সব ধরনের জাতিগত ও ধর্মীয় সহিংসতাকে নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্তে স্থলমাইন সরিয়ে ফেলার আহ্বান জানানো হয়েছে। কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে প্রস্তাবে দুঃখ প্রকাশ করে বলা হয়, ২০১৫ সালের ১৮ মে অং সান সু চির রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র বলেছিলেন, মিয়ানমারের সরকারের উচিত রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়া। এরপর থেকেই রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতির নাটকীয়ভাবে অবনতি হয়েছে।
রাখাইনে সহিংসতা বন্ধে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানে চীনসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শক্তিকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। আসিয়ান ও আঞ্চলিক সরকারগুলো যেন মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করে, সব বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা দেয় এবং শরণার্থীদের সহায়তা দেয়, সেই আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট।
সব মিলিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাপ ক্রমশ বাড়ছে। নিউইয়র্কে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বৈঠকের পর নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি ও জাতিসংঘে ইথিওপিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি তেকেদা আলেমু রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে উন্মুক্ত অধিবেশনের পর এই আভাস দিয়েছেন।
নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতিকে বাংলাদেশ কীভাবে দেখছে,  সে সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা চাইছিলাম, নিরাপত্তা পরিষদ এই পরিস্থিতিতে একটা অবস্থান তুলে ধরুক। সেদিক থেকে এই বিবৃতি আমরা সময়োপযোগী ও জোরালো বলে মনে করি।’ (সূত্র : দৈনিক প্রথম আলো ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭)
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ৫ দফা সুপারিশ করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ১৫টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন।  অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাছেও একই চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি।  লন্ডন থেকে  ১২ সেপ্টেম্বর একযোগে এই চিঠি পাঠানো হয়।
 চিঠিতে রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত গণহত্যা বন্ধ, মৌলিক ও মানবাধিকার নিশ্চিত এবং নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রহীনতার ইতি ঘটাতে মিয়ানমার সরকারের ওপর সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন খালেদা জিয়া। গণহত্যার মুখে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আপৎকালীন মানবিক সহায়তা দান এবং তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের যেকোনো প্রচেষ্টায় সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
 চিঠিতে অর্ধশতাধিক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, আপনি ও আপনার সরকারের উচিৎ জাতিসংঘের কাছে (সাধারণ অধিবেশন বা নিরাপত্তা পরিষদ, যেখানেই উচিত মনে হয়) বিষয়টি তুলে ধরা।
 খালেদা জিয়ার সুপারিশমালায় আছে: মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বাস্তব অবস্থা নির্ধারণের জন্য জাতিসংঘের অধীনে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থা গঠন করতে হবে। যদি প্রয়োজন পড়ে জাতিসংঘের অধীনে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী জরুরি সহায়তা হিসেবে যেসব ত্রাণ পায়-এর ওপর থেকে সমস্ত বিধিনিষেধ তুলে নিতে মিয়ানমার সরকারকে তাগিদ দিতে হবে। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং রাখাইন রাজ্যে পর্যবেক্ষণ করতে সাংবাদিক ও মানবাধিকার বিষয়ক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশের অনুমতি দিতে মিয়ানমার সরকারকে বলতে হবে। অ্যাডভাইজারি কমিশন অন রাখাইন স্টেটের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে এটা অবশ্যই বুঝতে হবে যে, এগুলো হচ্ছে সময়সাপেক্ষ লক্ষ্য। কিন্তু এই মুহূর্তে সেখানে রোহিঙ্গাদের জীবন রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে এবং অবিলম্বে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরো জোরালো ভাষায় এবং সমস্বরে কথা বলার সময় এটা।  চিঠিতে তিনি বলেন, হলোকাস্টের পর এই বিশ্ব এমনটি আর কখনো ঘটবে না বলে প্রতিশ্রুতি করেছিল। বসনিয়ার পর, রুয়ান্ডার পরও প্রতিশ্রুতি করা হয়েছে। কিন্তু তবুও মিয়ানমারে তা আবারও ঘটছে। (সূত্র : দৈনিক ইত্তেফাক ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭)
২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ৭২ তম সাধারণ অধিবেশনে সহিংসতা, হত্যা, নির্যাতনের কারণে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সমস্যা সমাধানে তিনি কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবগুলো হলো-
প্রথমত, অনতিবিলম্বে এবং চিরতরে মিয়ানমারে সহিংসতা ও ‘জাতিগত নিধন’ নিঃশর্তে বন্ধ করা;
দ্বিতীয়ত, অনতিবিলম্বে মিয়ানমারে জাতিসংঘের মহাসচিবের নিজস্ব একটি অনুসন্ধানী দল প্রেরণ করা;
তৃতীয়ত, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সব সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান এবং এ লক্ষ্যে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সুরক্ষা বলয় (safe zones) গড়ে তোলা;
চতুর্থত, রাখাইন রাজ্য হতে জোরপূর্বক বিতাড়িত সকল রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে তাদের নিজ ঘরবাড়িতে প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা;
পঞ্চমত, কফি আনান কমিশনের সুপারিশমালার নিঃশর্ত, পূর্ণ এবং দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে চতুর্দশবারের উপস্থিত হওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার হৃদয় আজ দুঃখে ভারাক্রান্ত। কেননা আমার চোখে বারবার ভেসে উঠছে ক্ষুধার্ত, ভীত-সন্ত্রস্ত এবং নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের মুখচ্ছবি। আমি মাত্র কয়েক দিন আগেই আমার দেশে আশ্রয় নেওয়া কয়েক লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে দেখা করে এসেছি। যারা ‘জাতিগত নিধনে’র শিকার হয়ে নিজ দেশ থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত। অথচ তারা হাজার বছরেরও অধিক সময় মিয়ানমারে বাস করে আসছেন। এদের দুঃখ-দুর্দশা আমি গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারি।
শেখ হাসিনা বলেন, এ মুহূর্তে নিজ ভূখ- হতে জোরপূর্বক বিতাড়িত আট লাখেরও অধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় ও সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছি। আপনারা সকলেই জানেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান নৃশংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ফলে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থার ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। এ নৃশংসতার হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্যমতে গত তিন সপ্তাহে চার লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়া ঠেকানোর জন্য মিয়ানমার দেশটির অভ্যন্তরে সীমানা বরাবর স্থলমাইন পুঁতে রাখছে। এতে আমরা ভীষণভাবে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। এ সব মানুষ যাতে নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেন এখনই তার ব্যবস্থা করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ