ঢাকা, সোমবার 30 October 2017, ১৫ কার্তিক ১৪২8, ৯ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাঁথিয়ায় অর্ধ কোটি টাকার টিআর প্রকল্প ॥ কাজ না করলে টাকা নেই -ইউএনও

সাঁথিয়া (পাবনা) সংবাদদাতা: পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নে গত অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) ৫০টি প্রকল্পে প্রায় সাড়ে ৪৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা কাজ না করে বরাদ্দের সিংহভাগ টাকা আত্মসাৎ করার চেষ্টা করলেও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপে পিআইসিদের অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে । নির্বাহী কর্মকর্তা পিআইসিদের বললেন, আগে কাজ পরে টাকা। 
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ০৬/০৬/২০১৭ইং তারিখের স্মারক নং ৫১.০০.০০০০.৪২২.১৪.০০২.১৬ (অংশ ২৬) ৪৬৬, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর গত ১২ জুন/১৭, ৬০৩ নং স্মারকে এবং  ২১ জুন পাবনা জেলা ত্রাণ বিভাগের অনুমোদনে সাঁথিয়া উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষাণাবেক্ষণ (টি,আর) কর্মসূচীর আওতায় ৫০টি প্রকল্পের বিপরীতে সাড়ে ৪৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।
প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হওয়ার কথা ৩০ জুন। গত ২২ জুন সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার যৌথ স্বাক্ষরে নিয়মানুযায়ী ৫০টি প্রকল্পের পিআইসিকে প্রথম কিস্তির ২২ লাখ টাকা অগ্রীম টাকা প্রদান করা হয়।
৩০ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্প পিআইসিরা কাজ না করেই দ্বিতীয় কিস্তির চুড়ান্ত বিল প্রায় ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের জন্য বিভিন্ন ভাবে নির্বাহী অফিসারকে চাপ দিয়ে আসছিল।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর আলম তা উপেক্ষা করে পিআইসিদেরকে প্রকল্প কাজ সমাপ্ত করতে তাগিদ প্রদান করতে থাকেন। অন্যথায় চুড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হবে না বলে জানিয়ে দেন। অবশেষে পিআইসিরা প্রকল্প কাজ করতে বাধ্য হন। এতে সরকারের প্রায় অর্ধ কোটি টাকা রক্ষা পেল।
সরেজমিন নন্দনপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, চুড়ান্ত বিল গ্রহণের জন্য পিআইসিরা বর্ষা মৌসুমেও মাটি কিনে রাস্তা ভরাটের কাজ করে যাচ্ছেন। 
সাঁথিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, টিআর প্রকল্পগুলোর কাজ চলমান রয়েছে। চুড়ান্ত বিল পরিশোধ না করে এখন তাদের কাছ থেকে কাজ বুঝে নেয়া হচ্ছে। তারা পুরাদমে কাজ করছে।
এ ব্যাপরে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কাজ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে কাজের গুণগত মান দেখছি, সম্পুর্ণ কাজ দেখে পিআইসিদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পরিশোধ করা হবে। শুধু মাত্র কাজ করলেই তাদের বিল পরিশোধ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ