ঢাকা, সোমবার 30 October 2017, ১৫ কার্তিক ১৪২8, ৯ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় অপ্রতিরোধ্যভাবে চলছে মাদকের রমরমা বাণিজ্য

খুলনা অফিস: মহানগরীসহ খুলনা জেলাতে অপ্রতিরোধ্যভাবে চলছে মাদকের রমরমা বাণিজ্য। ফেন্সিডিল, গাঁজা, বিদেশী ও চোলাই মদসহ নানা ধরনের মাদককে পেছনে ফেলে ইয়াবা এখন শহরতলীসহ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অলি গলিতে রাজত্ব করছে। ইয়াবায় আসক্তদের কোন বয়স নেই, নারী-পুরুষে নেই কোন ভেদাভেদ। স্কুল, কলেজ থেকে শুরু করে সমাজের কথিত বিত্তবান পরিবারের সন্তানরা এ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। এমন কি ফুটপথে আশ্রিত, দিনমজুর, রিকসা-ভ্যান চালকদের মধ্যেও ইয়াবার আধিপত্য বিরাজমান। নেশার তুলনায় মূল্য কম হওয়ায় এবং আকারে ছোট হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতা সকলেই সহজে বহন করতে পারেন। প্রায় প্রতিদিনই র‌্যাব, ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশের অভিযানে মাদকসহ বিক্রেতারা গ্রেফতার হচ্ছে। পাশাপাশি মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে খুলনায় মরণ নেশা ইয়াবা আমদানি নেপথ্যের ব্যক্তিদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থ হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন মোতাবেক মাদক দ্রব্য যার কাছ থেকে উদ্ধার হবে তাকেই মামলার আসামি করতে হবে। এছাড়া মাদক মামলার বেশ কিছু রায়ে দেখা গেছে, বহনকারীকেই আদালত দন্ডিত করেন। কিন্তু বহনকারী ব্যক্তি যে সকল পাইকারী বিক্রেতার কাছ থেকে মাদক নিয়ে খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌঁছাচ্ছেন তারা থাকছেন অন্তরালে। 
অনুসন্ধানে জানা গেছে, খুলনা জেলা পুলিশ নিয়ন্ত্রণাধীন ৯টি থানা ফুলতলা, ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, তেরখাদা, দিঘলিয়া, রূপসা, পাইকগাছা, কয়রা ও দাকোপের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদকের ব্যবহার বেড়েছে। স্থানীয় সাংবাদিক ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার জরিপে এ বিষয়গুলো উঠে আসছে। তবে থানা, পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি এবং র‌্যাবের অভিযানে বিভিন্ন সময় মাদক উদ্ধারসহ বহনকারী ও খুচরা বিক্রেতারা গ্রেফতার হলেও রাঘব বোয়ালরা থাকছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এছাড়া পুলিশের হাতে বিভিন্ন সময় মাদকসহ আটক বিক্রেতাদের ছাড়াতে স্থানীয় রাজনৈতিক তদ্বির এর অন্যতম কারণ বলে সচেতন মানুষের ধারণা।
এবিষয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খুলনার উপ-পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, মূলত. মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সকল প্রকার মাদকের নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে আমরা সর্ব্বোচ চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে ইয়াবা ট্যাবলেটের বিষয়ে তিনি জানান, অন্যান্য মাদকের তুলনায় ইয়াবা ব্যবহার বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে।
নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)’র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এ এম কামরুল ইসলাম পিপিএম জানান, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। নগর গোয়েন্দা পুলিশ নিয়মিত মামলার মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের কাছে সোপর্দ করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ