ঢাকা, সোমবার 30 October 2017, ১৫ কার্তিক ১৪২8, ৯ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মিলারের রেকর্ড সেঞ্চুরি ম্যাচে বাংলাদেশ হারল ৮৩ রানে

রফিকুল ইসলাম মিঞা : শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে জয় শূন্যই থাকতে হল বাংলাদেশকে। আর টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হতে হল হোয়াইটওয়াশ। গতকাল শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছে ৮৪ রানে। আর শেষ ম্যাচ জিতে টেস্ট আর ওয়ানডের পর টি- টোয়েন্টি সিরিজও জয় করল দক্ষিণ আফ্রিকা। গতকাল শেষ ম্যাচে জিতে একটি শান্তনার জয় নিয়েই দেশে ফিরতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ ম্যাচটা হলো আরো বেশি বেদনাদায়ক। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকে শূন্য হাতেই ফিলতে হচ্ছে টাইগারাদের। গতকাল আগে ব্যাট করে ডেভিড মিলারের রেকর্ড দ্রুততম সেঞ্চুরিতে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৪ উইকেটে ২২৪ রানের বিশাল স্কোর গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে দাড়িয়েছে ২২৫ রানের বিশাল টার্গেট। ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ১৮.৩ ওভাওে ১৪১ রানে অলআউট হলে দক্ষিণ আফ্রিকা জয় পায় ৮৩ রানে। 

 গতকাল মিলালের সেঞ্চুরিসহ ১০১ রান ছাড়াও ওপেনার হাশিম আমলা খেলেন ৮৫ রানের দারুণ এক ইনিংস। ফলে ম্যাচে ২২৪ রানের ইনিংস গড়তে পারে স্বাগতিকরা। অথচ সাকিব আল হাসান তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওভারে ২ উইকেট নিয়ে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এবি ডি ভিলিয়ার্সও বেশিদূর যেতে পারেননি। কিন্তু আমলা আর মিলার মিলেই দলকে বিশাল স্কোরে নিয়ে যায়। গতকাল টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। প্রথম দুই ওভারেই ২৩ করে স্বাগতিকরা। কিন্তু দলের তৃতীয় ওভারেই সাকিবের বল পায়ে লেগে ৫ রানে স্টাম্প ভেঙে দেয় মাংগালিসা মোসেহলের। সাকিব তার পরের ওভারে স্বাগতিক অধিনায়ক জেপি ডুমিনিকে ৪ রানে বোল্ড করেন। আর ডি ভিলিয়ার্স ব্যাট করতে নেমে নিজেকে মেলে ধরার আগেই আউট হন ২০ রানে। আমলার সঙ্গে তার জুটিটি ছিল ৪১ রান। ডি ভিলিয়ার্সকে সাইফ ক্যাচ বানান ইমরুল কায়েসের। ফলে ১০ ওভারে ৩ উইকেটে ৭৮ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকার। তখনও বাংলাদেশের স্বপ্ন ছিল জয়ের জন্য কম রানের টার্গেট পাওয়া। কিন্তু পরের ১০ ওভারে বাংলাদেশের সব আশা শেষ করে দেন ডেভিড মিলার আর আমলা। অথচ ডি ভিলিয়ার্স ফেরার পরের ওভারেই রুবেল হোসেন পেতে পারতেন মিলারের উইকেট। কিন্তু ডানদিকে ঝাপিয়ে পড়লেও বল ধরতে পারেননি উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম। পরে আরও দুইবার জীবন পান মিলার। অল্পের জন্য স্টাম্পিং হননি তিনি। এছাড়া ফিল্ডিংয়ে তিন ফিল্ডারের সিদ্ধান্তহীনতায় ক্যাচ হননি এই ব্যাটসম্যান। শেষ পর্যন্ত মিলালের ব্যাটেই বিশাল স্কোর করে প্রোটিয়ারা। আমলা-মিলারের জুটিতে আসে ৭৯ রান। ৩২ বলে হাফসেঞ্চুরি করে সেঞ্চুরির আভাস দিচ্ছিলেন আমলা। কিন্তু এই ওপেনার ৫১ বলে ৮৫ রান করে সাইফের বলে সৌম্য সরকারকে ক্যাচ দেন। আমলা সেঞ্চুরি করতে না পারলেও দ্রুততম সেঞ্চুরি করেছেন মিলার। সাইফের করা ১৯তম ওভারে তাকে টানা ৫টি ছয় মারেন মিলার। ওই ওভারের শেষ বলে বাংলাদেশি পেসার দেন ১ রান। আর এতেই মাত্র ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করেন মিলার। ভাঙেন টি টোয়েন্টির দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। ২০১২ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যামিলটনে ৪৫ বলে করা দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান রিচার্ড লেভির সেঞ্চুরিই ছিল এতদিন দ্রুততম। এবার সেই রেকর্ড গড়লেন আরেক প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান। শেষ পর্যন্ত ৩৬ বলে ৭ চার ও ৯ ছয়ে ১০১ রানে অপরাজিত ছিলেন মিলার। সাকিব আর সাইফ উদ্দিন নেন ২টি করে উইকেট। 

জয়ের জন্য ২২৫ রানের বিশাল টার্গেট ছিল বাংলাদেশের সামনে। এই কঠিন টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে প্রথম থেকেই উইকেট হারাতে থাকে টাইগাররা। দলের হয়ে সৌম্য সরকার,সাইফ আর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ছাড়া কোন ব্যাটসম্যানই ভালো স্কোর গড়তে পারেননি। সৌম্য সরকার ৪৪ রারন, সাইফ অপরাজিত ২৩ রান আর রিয়াদ করেন ২৪ রান। ব্যাট করতে নেমে দলীয় দলীয় ২১ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ইমরুল কায়েস ৬ রান করে আউট হওয়ার পর দলীয় ২৯ রানে আউট হন সাকিব। মাত্র ২ রান করতে পারেন এই অধিনায়ক। সাকিবের বিদায়ে মুশফিকুর রহিম আর সাব্বির নেমেও দলের হাল ধরতে পারেননি। মুশফিক ২ রানে আর সাব্বির ৫ রান করে আউট হলে ৩৭ রানে বাংলাদেশ হারায় প্রথম ৪ উইকেট। আর এখানেই শেয় হয়ে যায ভালো করার সব আশা। তবে সৌম্য সরকার আর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ কিছু রান করে দলকে সন্মান জনক স্কোর করার সুযোগ করে দেন। না হলে শতরানের নিচেই স্কোর থাকতে পারত বাংলাদেশের। দলীয় ৭২ রানে সৌম্য সরকার আর দলীয় ৯৮ রানে আউট হন রিয়াদ। শেষ পর্যন্ত সাইফ উদ্দিনের অপরাজিত ২৩ রান আর মিরাজের ১৩ রানের উপর নির্ভর করে বাংলাদেশ করতে পাওে ১৪১ রান। ফলে ৮৩ রানে জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ