ঢাকা, সোমবার 30 October 2017, ১৫ কার্তিক ১৪২8, ৯ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আমতলীতে কলেজ ছাত্রীর ৭ টুকরা লাশ উদ্ধার

আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা: আমতলীর হাসপাতাল সড়কের এ্যাডভোকেট মাঈনুল আহসান বিপ্লব তালুকদারের বাসা থেকে ফারিয়া আক্তার   মালা (১৭) নামে এক কলেজ ছাত্রীর খন্ড বিখন্ড করা ৭ টুকরা ড্রাম ভর্তি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মঙ্গলবার গভীর রাতে আমতলী থানার ওসি তদন্ত  মো. নুরুল ইসলাম বাদল বাদী হয়ে  ঘাতক আলমগীর হোসেন পলাশ (৪৫)ও এ্যাডভোকেট মাঈনুল আহসান বিপ্লব তালুকদারসহ অজ্ঞাত নামা ২/৩ জন  কে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন ।
 লাশ উদ্ধারের সময় ঘাতক আলমগীর হোসেন  পলাশ ও  রাতে এ্যাডভোকেট মাইনুল আহসান বিপ্লবকে গ্রেফতার করেছে আমতলী থানা পুলিশ ।  আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা  মো. শহিদ উল্যাহ জানান , বুধবার সকালে ঘাতক  আলমগীর হোসেন পলাশ ও এ্যাডঃ মাঈনুল আহসান বিপ্লবকে  আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে প্রেরন করা হয়েছে ।
আদালত সূত্রে জানা যায়   ঘাতক আলমগীর হোসেন পলাশ ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন । অপর আসামী এ্যাডঃ মো. মাঈনুল আহসান বিপ্লব  তালুকদারের  ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন  মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ।  আদালতের বিজ্ঞবিচারক মো. হুমায়ুন কবির  আগামী ৩১ অক্টোবর রিমান্ড শুনানীর দিন ধার্য করেছেন।
আমতলী থানা পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার ঘুদিঘাটা গ্রামের আব্দুল মন্নান হাওলাদারের মেয়ে  এবং কলাপাড়া মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী  ফারিয়া আক্তার মালার সাথে পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাসন্ডা গ্রামের মৃত আ: লতিফ হাওলাদারের ছেলে বরগুনার ঘটবাড়িয়া আদর্শ কলেজের প্রভাষক আলমগীর হোসেন পলাশের সাথে ৭ বছর পূর্বে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকে মালার সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের জের ধরে ২২ অক্টোবর পলাশ মালাকে নিয়ে  তার ভাগ্নি জামাই আমতলীর  হাসপাতাল সড়কের বাসিন্দা এ্যাডভোকেট  মো: মাঈনুল আহসান বিপ্লব তালুকদারের বাসায় বেড়াতে নিয়ে আসেন। মঙ্গলবার সকাল ৮ .৩০ এর সময় এ্যাডভোকেট মাঈনুল ইসলাম তার কর্মস্থল আমতলী কোর্টে চলে যায় এবং  মাঈনুলের স্ত্রী ইমা রহমান তার ছেলেকে নিয়ে স্কুলে চলে যায়।
এ সুযোগে বেলা আনুমানিক সকাল  সাড়ে ৯.২০ টার দিকে পলাশ মালাকে ধারালো বডি দিয়ে জবাই করে। জবাইর পর  ঘাতক পলাশ তার  ভাগ্নি জামাই এ্যাড বিপ্লবকে জানায়।
পরে বিপ্লবের পরামর্শে  মালার  দেহ ৭ খন্ড করে দুটি ড্রামে ভরে লাশ ঘরের একটি কক্ষে লুকিয়ে রাখে।  এবং লাশ ঘুমের জন্য বিপ্লব  মামা শশুর ঘাতক পলাশের কাছে ১ লক্ষ টাকা  চাইলে ঘাতক পলাশ টাক আনতে বরগুনা যায়।
ঘাতক পলাশ বরগুনা থাকা অবস্থায় মামলার ২ নং আসামী এ্যাডঃ বিপ্লব ঘাতক পলাশ কে টাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে আমতলী আসতে বলেন। ঘাতক পলাশ আমতলী আসার পর এ্যাড বিপ্লব  পলাশ  কে সাথে নিয়ে বাসায় যান।
এরই মধ্যে আমতলী থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার সময় বিপ্লবের বাসায় অভিযান পরিচালনা করে  ঘরের মধ্যে  লুকিয়ে রাখা ড্রাম ভর্তি  ফারিয়া আক্তার মালার ৭ টুকরা লাশ উদ্ধার করে এবং  খুনি আলমগীর হোসেন পলাশকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। প্রাথমিক জিঞ্জাসাবাদে খুনী আলমগীর হোসেন পলাশ খুনের কথা স্বীকার করে বলেন, মালা আমাকে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় আমি তাকে খুন করে লাশ ৭ টুকরা করে ড্রামে ভরে রাখি।   এবং রাতে মামলার ২ নং আসামী এ্যাডঃ মাইনুল আহসান বিপ্লবকে গ্রেফতার করেন।
  ধর্ষণ  হত্যা লাশ গুমের অভিযোগে  আমতলী থানার ভার প্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) বাদী হয়ে  আলমগীর হোসেন পলাশ তার ভাগ্নি জামাই এ্যাডঃ মাঈনুল আহসান বিপ্লবকে আসামী করে আমতলী থানায় মামলা দায়ের করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ