ঢাকা, সোমবার 30 October 2017, ১৫ কার্তিক ১৪২8, ৯ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনা রেলস্টেশনের নির্মাণাধীন প্লাটফর্মের ছাদের ফাটল ধরার ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি

খুলনা অফিস: গত ছয় মাসেও খুলনার আধুনিক রেলস্টেশনের নির্মাণাধীন প্লাটফর্মের ছাদের ফাটল ধরার ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি। এদিকে তিনদফা মেয়াদ বৃদ্ধির পর আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে ফাটল ধরা স্থান নিয়ে সিদ্ধান্ত না হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ার শঙ্কায়ও রয়েছেন তারা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, খুলনা রেল স্টেশনের ২ (ফাটলযুক্ত স্থান বাদে) ও ৩নং প্লাটফর্মের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। ১নং প্লাটফর্মের ১২শ’ ফুট ছাদ ঢালাইয়ের কাজ বাকী রয়েছে। এছাড়া মূল ভবনের ফিনিসিং কাজও বাকী রয়েছে। সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য স্টেশনের সামনে বাগান তৈরিসহ বেশ কিছু কাজ এখনও বাকী রয়েছে। গেল ছয় মাস ধরে একই অবস্থায় রয়েছে ফাটল ধরা প্লাটফর্মের ৩১৪ ফুট ছাদ। 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনা পাওয়ার হাউজ মোড় এলাকায় নির্মাণাধীন আধুনিক রেলস্টেশনের গত মার্চ মাসে ২নং প্লাটফর্মের ঢালাই করা ছাদের তিনশ’ ১৪ ফুট স্থান জুড়ে একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দেয়। এরপর থেকে ছাদ ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে বুয়েটের একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং নতুন ডিজাইন করার বিষয়ে পরামর্শ দেন। এরপর রেলমন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সদস্য সদস্য, বিভাগীয় কমিশনার, ডিসি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এরপর রেলমন্ত্রণালয়, রেল ভবন ও খুলনা বিভাগীয় কমিশনার পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করে। এসব কমিটি প্রতিবেদন দেয়ার কথা। তবে এখনও পর্যন্ত মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন না আসায় ফাটলযুক্ত ছাদের কাজ শুরু হয়নি। এ ঘটনায় প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মডার্ন কনসালট্যান্টকে ব্লাক লিস্টেট করা হয়েছে। 
রেলওয়ে সূত্র জানায়, আধুনিক রেলস্টেশনটি নির্মিত হবে উন্নত বিশ্বের আদলে। এ স্টেশনে থাকবে দৈনন্দিন সকল সুযোগ-সুবিধা। প্রকল্পের আওতায় প্লাটফর্ম লিঙ্কসহ কার পার্কিং এলাকা, ফুটপাতসহ রাস্তা ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বাউন্ডারী দেওয়াল, স্যানিটারী ও প্লানিং ওয়ার্কস, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা, পিএবিএ চ্যানেল ও সকল বৈদ্যুতিক সংযোগ। থাকবে ফুলের বাগান। নকশা অনুযায়ী খুলনা-যশোর মহাসড়কের পাশেই হবে স্টেশনের প্রধান গেট। এছাড়া রেলের লাইন হবে ৭টি। রেলস্টেশনের প্লাটফর্ম হবে ৩টি এবং স্টেশন ভবন হবে ৩ তলা বিশিষ্ট। নকশা অনুযায়ী স্টেশন ভবনের আকার হবে দৈঘ্য ৪৮ মিটার ও প্রস্থ ৪৫ মিটার এবং প্রতিটি প্লাটফর্মের দৈর্ঘ্য ১২শ’ ফুট ও প্রস্থ ৩০ ফুট হবে। এতে ব্যয় হবে ৫৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। তবে এ প্রকল্পের জন্য ৩ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাবনা ছিল। এ কাজের (প্যাকেজ ডব্লিউডি-২) ঠিকাদারী পেয়েছেন ‘তমা কনস্ট্রাকশন’। 
রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী বিরবল মন্ডল জানান, প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ