ঢাকা, সোমবার 30 October 2017, ১৫ কার্তিক ১৪২8, ৯ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাণিজ্য বিষয়ক নীতিমালা সংস্কার আবশ্যক

স্টাফ রিপোর্টার : এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বাণিজ্য বিষয়ক নীতিমালা সংস্কার আবশ্যক বলে মত প্রকাশ করেছে ব্যবসায়ী নেতারা। এতে করে দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

গতকাল রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং ইউএনডিপি-বাংলাদেশ যৌথভাবে আয়োজিত ‘ইমপ্যাক্ট বাংলাদেশ ফোরাম-২০১৭’ এর অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে বিআইডিএস এর মহাপরিচালক ড. খান আহমেদ সৈয়দ মুরশিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ‘প্রবৃদ্ধি ও এসডিজির জন্য অবকাঠামো নির্মাণ (আঞ্চলিক যোগাযোগ)’ বিষয়ক প্যারালাল সেশনে পিপিপি কার্যালয়ের সিইও সৈয়দ আফসর এইচ উদ্দিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

এ সময় অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, অর্থনীতির সঠিক বিকাশের জন্য সব শিল্প খাতের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়টিতে সরকারর যথেষ্ট সচেতন রয়েছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিসংখ্যানে বেশ উন্নতি করেছে এবং আমাদের বেসরকারি খাত সব প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং সরকারের পক্ষ হতে এ ধারাবাহিকতা রক্ষায় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে নানাবিধ আইন প্রণয়ন কিংবা বাণিজ্যিক সুবিধা প্রদানের বিষয়ে বাংলাদেশ প্রায়ই বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে ইউএনডিপিসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে আরো সচেতন হতে হবে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় দেশগুলো আরো অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে পারবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বাণিজ্য নীতিমালাসমূহে কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকায় আমাদের বেসরকারি খাত কাক্সিক্ষতমাত্রায় উন্নতি লাভ করতে পারিনি এবং এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে নীতিমালা সংষ্কারে সরকারের পক্ষ হতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া বাংলাদেশের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য ইউএনডিপির প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

ইউএনডিপির ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর কাওকো ইউকোসোকা বলেন, বাংলাদেশ সরকার গৃহীত সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা এসডিজির লক্ষ্যমাত্রার সাথে খুবই সঙ্গতিপূর্ণ সেখানে জিপিতে বেসরকারি খাতে অবদান হবে ৭৭ শতাংশ এবং ১৩ মিলিয়ন লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।

তিনি আরো বলেন, বেসরকারি খাত কর্তৃক জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে বিনিয়োগ বিষয়ক তথ্য প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং বিনিয়োগ বিষয়ক তথ্য প্রাপ্তির নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ডিসিসিআই এবং ইউএনডিপি একযোগে কাজ করবে।

ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে পৃথিবীতে ৩৫তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ এবং ঢাকা চেম্বারের পক্ষ হতে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ৩০তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হওয়ার জন্য ২০১০ সালে কৌশলপত্র প্রদান করা হয়েছে। ডিসিসিআই এর তথ্য মতে, এ লক্ষ্য অর্জনে শুধুমাত্র অবকাঠামো খাতে ৩২০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশকে টেকসইযোগ্য অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। পাশাপাশি জিডিপিতে বিনিয়োগের অবদানকে ৪০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে এবং ২০৩০ সালের শেষ নাগাদ এর পরিমাণ দাঁড়াবে ৪০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এ সময় তিনি দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের কার্যক্রমকে বেগবান করার জন্য বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাণিজ্য বিষয়ক নীতিমালা সংষ্কার ও যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নে এগিয়ে আসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন) বলেন, আমাদের উদ্যোমী বেসরকারি খাতের অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি শক্তিশালী অবস্থানে এসে পৌঁছেছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ হওয়ার প্রাক্কলন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হলো অর্থায়ন এবং এ সমস্যা সমাধানে পিপিপির মডেল হতে পারে অর্থায়নের অন্যতম উৎস এবং আসিয়ান এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের যোগাযোগ আরো বৃদ্ধি করতে হবে।

এ সময় সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্রাচার্যের সঞ্চালনায় ‘কনভেনিং ফর ইমপ্যাক্ট : ব্যবসায়িক নেতৃত্ব এবং এসডিজি পার্টনারশিপ’ শীর্ষক সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

ড. দেবপ্রিয় ভট্রাচার্য বলেন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহ চালু করতে দীর্ঘসূত্রিতা একটি উদ্বেগের বিষয়। এসডিজিতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য আমাদের অবশ্যই বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে এমন একটি ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়ন করতে হবে যেখানে সরকারের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী মহলের সাথে বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের আলোচনার মাধ্যমে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে পারবে এবং নির্ধারিত কার্যপরিকল্পনা পর্যালোচনার জন্য একটি মূল্যায়ন কমিটি গঠন করতে হবে বলে মত দেন তিনি।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক এবং ডিসিসিআই ও অ্যামচেমের প্রাক্তন সভাপতি আফতাব-উল ইসলাম ‘এসডিজিতে পরিবেশবান্ধব জুট পাল্প পেপারের প্রভাব’ শীর্ষক সেশনটি পরিচালনা করেন।

অনুষ্ঠানের প্রথম সেশনে আরো উপস্থিত ছিলেন ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি কামরুল ইসলাম, সহসভাপতি হোসেন এ সিকদার, পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আকবর হাকিম, হুমায়ুন রশিদ, ইমরান আহমেদ, খ. আতিক-ই-রাব্বানী, খন্দ. রাশেদুল আহসান, মামুন আকবর প্রমুখ।

সন্ধ্যায় সমাপনী সেশনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্যসচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজিত এ ফোরামে ‘প্রবৃদ্ধি ও এসডিজির জন্য অবকাঠামো নির্মাণ’, ‘কনভেনিং ফর ইমপ্যাক্ট : ব্যবসায়িক নেতৃত্ব এবং এসডিজি পার্টনারশিপ’, ‘ক্যাটালাইজিং ইমপ্যাক্ট : তথ্য ও নীতিমালা’ এবং ‘এসডিজিতে পরিবেশবান্ধব জুট পাল্প পেপারের প্রভাব’ বিষয়ক ৪টি প্যারালাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ