ঢাকা, সোমবার 30 October 2017, ১৫ কার্তিক ১৪২8, ৯ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দেশে এখনও তিন কোটি গরীব মানুষ রয়েছে -অর্থমন্ত্রী

 

স্টাফ রিপোর্টার:অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, দেশে এখনও তিন কোটি গরীব মানুষ রয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার ২২ শতাংশ। আমরা এ হার আরও কমিয়ে আনতে চাই। ২০২৪ সালের মধ্যে দেশকে দারিদ্রমুক্ত করব।

গতকাল রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে উন্নয়ন মেলা-২০১৭ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন এ মেলার আয়োজন করেছে, চলবে ৬ দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফের সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচলক মো. আবদুল করিম। 

 মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা ও আইটি, সেবামূলক প্রতিষ্ঠানসহ মোট ৯০টি প্রতিষ্ঠানের ১৩৩টি স্টল এতে অংশ নিচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের সব উন্নয়ন কার্যক্রমের লক্ষ্য হচ্ছে দারিদ্র দূরীকরণ। বর্তমান সরকার এ জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি বলেন, ২৭ বছর আগে বৈদেশিক সহায়তা ও পরামর্শক ছাড়াই সরকারের নিজস্ব তহবিলের টাকা দিয়ে পিকেএসএফ প্রতিষ্ঠা হয়। পরে অবশ্য বৈদেশিক সহায়তা নেয়া হয়। তবে বিদেশি সহায়তায় শুরু থেকে যে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয় তারাও দেশের উন্নয়নে কাজ করে।

 তিনি বলেন, অধিকার নাকি উন্নয়ণ আগে, এ নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক রয়েছে। তবে আমরা অধিকার ও উন্নয়ণে একযোগে কাজ করি। উন্নয়ন একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। রাজনীতি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। ফলে আমরা উপজেলা পরিষদের ও ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করছি।

এ সময় পিকেএসএফের প্রশংশা করে তিনি বলেন ২৭৭টি সহোযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পিকেএসএফ দীর্ঘ ২৭ বছরে দারিদ্র দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

 কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠানে দায়ের চেয়ে আছাড়ি বড় হলে হবে না, সেটা চিন্তা করতে হবে। অনেক প্রতিষ্ঠান পদ্মাসেতুর বিরুদ্ধে কথা বলেছে, কোনো লাভ হয়নি। পদ্মাসেতু এখন বাস্তবতা।

এ সময় তিনি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের বর্ণনা দিয়ে বলেন, আমরা এমডিজি অর্জন করেছি, এখন এসডিজি বাস্তবায়নে কাজ চলছে। উন্নয়নের ইতিহাস ঘাটলে জনগণ দেখতে পাবে কারা উন্নয়ন করেছে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমরা শুনেছি মানি ইজ নো প্রোবলেম। কিন্তু তারা বিনামূল্যে বই দেয়ার সাহস করেনি।

খলিকুজ্জামান আহমদ বলেন, আমরা ১৫৩টি ইউনিয়নের মানুষের জন্য টেকসই উন্নয়নে কাজ করছি। এছাড়া আমরা প্রতিটি উপজেলায় কাজ করছি। আমরা প্রশিক্ষণ, বাজার সহায়তা, প্রযুক্তি উপযুক্ত ঋণ দিয়ে উদ্যোক্তা সৃষ্টি করছি।

তিনি বলেন, ২৩টি সহযোগী সংস্থা নিয়ে ১৯৯০ সালে ১০ হাজার ১২ জন উদ্যোক্তার সহযোগিতায় পিকেএসএফ কাজ শুরু করে। বর্তমানে সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উন্নীত হয়েছে ২৭৭টিতে। এসব সংস্থা ৮ হাজার ৬২৮টি শাখার মাধ্যমে ১ কোটি ২৭ লাখ ১৫ হাজার সদস্য প্রান্তিক মানুষে ও যারা একটু সাবলম্বী তাদের আরও উন্নত করতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমরা তাদের ঋণ দেই ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি এবং নিবিড়ভাবে তদারকি করি।

 খলিকুজ্জামান বলেন, সারা দেশে ৫২ হাজার নারী ও পুরুষকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এক হাজার ভিক্ষুককে ঋণ ও প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এর মধ্যে একজন টাকা ফিরিয়ে দিয়ে বলেছে আমি ভিক্ষা ছাড়তে পারবো না। আর ১৯ জন উন্নয়ণ করতে পারেনি। বাকি সবাই এখন স্বাবলম্বী হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ