ঢাকা, সোমবার 30 October 2017, ১৫ কার্তিক ১৪২8, ৯ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রামে জনসমুদ্রের সর্বত্র ছিল একই রব খালেদা জিয়া খালেদা জিয়া

 

চট্টগ্রাম অফিস : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গত শনিবার রাতে চট্টগ্রামের সিটি গেইটে এসে পৌছঁলে হাজার হাজার মানুষ গগনবিদারী শ্লোগান দিয়ে তাকে বরণ করে নেন। বিশাল জনসমুদ্রে একটাই শ্লোগন ছিল- খালেদা জিয়া খালেদা জিয়া। এ এক অন্য রকম পরিবেশ। রাজপথ ছিল জনগণের দখলে। বিশাল জনসমুদ্র বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরকে সংগে নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রবেশ করে। বেগম খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়ি চট্টগ্রাম মহানগরীর সিটি গেইটে পৌঁছায় রাত নয়টায়। সেখান থেকে সার্কিট হাউজে আসতে সময় লেগেছে দুই ঘন্টা। পথে পথে হাজার হাজার নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষের ভিড় এবং উষ্ণ অভ্যর্থনার কারণেই এই বিলম্ব। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে মানুষ তাকে অভিনন্দন জানান।

 বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি যখন ওয়াসার মোড়ে পৌঁঁছে তখন চতুর্দিক হয়ে উঠে বিশাল জনসমুদ্র। এখান থেকে সার্কিট হাউজে আসতেও লেগে যায় আধঘন্টা। সার্কিট হাউজের মূল ফটক পেরুতেও লেগে যায় প্রায় ১০ মিনিট। এ সময় তাকে বরণ করে নেন নেতাকর্মীরা।

 সার্কিট হাউজে পৌঁছার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে জেলা প্রশাসনের পক্ষে স্বাগত জানান এনডিসি শেখ নূরুল আলম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শান্তা। দলের নেতাকর্মীদের পক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাৎ হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর ছিলেন। এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, গিয়াস কাদের চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। 

ঘুরে দেখা গেছে, বেগম খালেদা জিয়াকে মীরসরাই থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত এলাকার বিভিন্ন জায়গায় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান মীরসরাই ও সীতাকুন্ড বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মী ও সাধারন মানুষ। এছাড়া সিটি গেট থেকে অলংকার, আকবর শাহ, জিইসি হয়ে সার্কিট হাউজ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে ছিল ছাত্রদল–যুবদলসহ বিএনপির নেতা–কর্মী সহ সাধারন মানুষ। এর মধ্য দিয়েই বেগম জিয়ার চট্টগ্রাম আগমনকে ঘিরে বিএনপি দলীয় নেতা–কর্মীদের মধ্যে যে উচ্ছ্বাস তার প্রকাশ ঘটেছে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, শুধু নেতা–কর্মী না, সাধারণ মানুষও এসেছে প্রিয় নেত্রীকে দেখার জন্য। আওয়ামী লীগের ওপর মানুষ অতিষ্ঠ। সেখান থেকে মানুষ মুক্তি চান। তাই তারা বিএনপিকে ক্ষমতায় দেখতে চান। এ জন্যই ভিড় করেছেন তারা। আমাদের নেত্রী যেখানেই যান, সেখানেই জনগণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য থাকে।

 এদিকে গতকাল রোববারও হাজার হাজার মানুষের শুভেচছা ও শ্লোগানের মধ্য দিয়ে বেলা ১২টা ২৭ মিনিটে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন খালেদা জিয়া। সার্কিট হাউস থেকে বের হওয়ার সময় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার নগরবাসী বিএনপি নেতাকর্মীরা নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। শহীদ নুর আহম্মদ সড়ক, লাভলেইন, নন্দনকানন, সিনেমা প্যালেস, লালদীঘি, কোতোয়ালী, ফিরিঙ্গীবাজার,মেরিনার্স রোড, নতুন ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে শুধু মানুষ আর মানুষ দেখা গেছে। রাস্তার দু‘পাশে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানায়।বিশাল জনসমুদ্র তাকে কর্ণফুলী নদীর শাহ আমানত সেতু এলাকা পার করে দেন।

 স্থানীয়রা জানান, রোববার ভোর থেকে হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষায় ছিলেন শুধুমাত্র বেগম খালেদা জিয়াকে এক নজর দেখার ও শুভেচছা জানানোর জন্য।বেলা সাড়ে বারটার দিকে নেত্রীকে শুভেচছা জানানোর মধ্য দিয়ে সাধারন মানুষ তাদের অভিপ্রায় পুর্ণ করেন।সর্বত্র ছিল একই রব খালেদা জিয়া খালেদা জিয়া।

চকরিয়ার মহাসড়ক জুড়ে লোক আর লোক

শাহজালাল শাহেদ, চকরিয়া: বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চকরিয়া হয়ে গতকাল রোববার কক্সবাজার পৌঁছেন। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিতে বেগম খালেদা জিয়ার কক্সবাজার আগমন। চকরিয়া হয়ে খালেদা জিয়া কক্সবাজার যাবেন এমন খবরে চকরিয়া-পেকুয়ার জনসাধারণ উৎসুক চিত্তে দুপুর ২টা থেকে অপেক্ষা করতে থাকেন মহাসড়কে। অপেক্ষার মহাসড়কে ব্যানার নিয়ে নানান স্লোগানে সারিবদ্ধভাবে দু’পাশে ধৈর্য সহকারে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনেন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও অংগ-সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ। বেগম জিয়াকে অভ্যার্থনা কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন চকরিয়া উপজেলা, পৌর বিএনপি ও মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলাসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের অংগ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঘড়ির কাটায় ঠিক ৫টা ৫মিনিটের দিকে চকরিয়া পৌরশহরের প্রবেশদ্বার মাতামুহুরী ব্রিজ অতিক্রম করেন। ব্রিজ থেকে পৌরশহরের সিটি সেন্টার এলাকায় পৌঁছতে সময় লাগে ৫মিনিট। তিনি ৫টা ১০মিনিটের মাথায় সিটি সেন্টার এলাকায় জড়ো হওয়া বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের অভিনন্দন সালাম গ্রহণ করেন এবং তিনিও গাড়ির গ্লাস থেকে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। এসময় মুহুর্মুহু করতালি আর স্লোগানে প্রকম্পিত হতে থাকে চকরিয়ার (চিরিঙ্গা) গোটা পৌরশহর। এরআগে পৌরশহরের এমন কোন বহুতল ভবন বাদ যায়নি; যেখানে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ জনগণের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দৃশ্যতঃ প্রতীয়মান হয়েছে, নেতাকর্মী আর সমর্থকরা ছিলেন রাজপথে এবং ব্যবসায়িসহ সর্বসাধারণ ছিলেন বহুতল ভবনের রেলিং ও ছাদসহ আনাচে-কানাচে। উঁকি-ঝুঁকির কাতারেও কম ছিল না মানুষের উপস্থিতি। ধারণা মতে, এতেও সাধারণ মানুষের সমাগম ছিল আড়াই হাজারের মতো। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সালাহউদ্দিন আহমদ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত চকরিয়া-পেকুয়ার নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ চকরিয়ার প্রবেশ পথ আজিজনগর এলাকা থেকে শুরু করে হারবাং, বরইতলীর নতুন রাস্তা মাথা, বরইতলী একতাবাজার, বানিয়ারছড়া, ইসলামনগর, নলবিলা, জিদ্দাবাজার, মাতামুহুরী ব্রিজ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, চিরিঙ্গা পৌরশহর, থানা রাস্তার মাথা, বাস টার্মিনাল, ভাঙ্গারমুখ, মৌলভীরকুমবাজার, ফাঁসিয়াখালীর ভেন্ডিবাজার, হাসেরদিঘী, রিংভং দরগাহ রাস্তার মাথা, মালুমঘাট, মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, ডুলাহাজারা কলেজ, ডুলাহাজারা বাজার, খুটাখালী ও ফুলছড়িসহ স্টেশনে স্টেশনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে বেগম খালেদা জিয়াকে অভ্যার্থনা জানান।

এদিকে কাকারা ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক সাইফুল ইসলাম সাবু নেতৃত্বে বেগম খালেদা জিয়াকে অভিনন্দন জানান নেতাকর্মীরা। এসময় বিএনপি নেতা আশেক উদ্দিন, কাকারা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুবুর রশিদ, যুগ্ম সম্পাদক হারুন অর রশিদ, যুবদল নেতা ওয়াজেদ হাসান রাসেল প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ